আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শাহ মাহমুদ মসজিদ

স্থানীয় ও মোগল স্থাপত্যরীতির অনন্য সমন্বয়

মাহমুদ হাসান ফাহিম

স্থানীয় ও মোগল স্থাপত্যরীতির অনন্য সমন্বয়

১৬১০ সালে ইসলাম খানের আগমন ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করার পর ঢাকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মোগলদের ঐকান্তিক চেষ্টা, পরম যত্ন ও মমতায় গড়ে তোলে ঢাকা শহর। এই শহরে মানব বসতির ইতিহাস আড়াই হাজার বছরের পুরোনো হলেও ১৭ শতকে এসে এটি নতুন ভাবে বিকাশ লাভ করে। মোগল সুলতানদের অধীনে থেকে এই শহর পূর্ণ যৌবনবতী হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে এই শহর শিক্ষা-সংস্কৃতি ও ইতিহাস ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে পূর্ব ভারতের প্রধান শহরে পরিণত হয়। মোগল সুবেদাররা এই শহরে গড়ে তোলে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। ঢাকার পাশাপাশি তারা এর আশপাশের অঞ্চলগুলোর দিকেও নজর দিয়েছিল। সেখানেও তারা নান্দনিক সব স্থাপনা গড়ে তুলেছিল। এর মধ্যে অন্যতম শাহ মাহমুদ মসজিদ।

বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর গ্রামে শাহ মাহমুদ মসজিদের অবস্থান। ঐতিহাসিক এই মসজিদ ও তার পাশে থাকা বালাখানাটি মোগলযুগের স্থাপত্যরীতির অন্যতম নিদর্শন।

মোগল সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে ১৬৬৪ সালে এগারসিন্দু এলাকার তৎকালীন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী শাহ মাহমুদ মসজিদটি নির্মণ করেন। এ কারণেই মসজিদটির নাম হয়েছে ‘শাহ মাহমুদ মসজিদ’। এটি লোকমুখে প্রসিদ্ধ নাম। কিন্তু ইউনেসকো থেকে প্রকাশিত মুসলিম স্থাপত্যের ক্যাটালগে একে ‘শাহ মোহাম্মদ মসজিদ’ হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে।

মোগল স্থাপত্যরীতি ও স্থানীয় শিল্পশৈলীর অপূর্ব সমন্বয়ে নির্মিত এই এক গম্বুজের বর্গাকৃতির মসজিদটির প্রতিটি বাহু ৩২ ফুট দীর্ঘ। চার কোণে অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ এবং উপরে বৃহৎ গম্বুজ এর গাম্ভীর্য বাড়িয়েছে। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব—মাঝেরটি বড়, দুপাশে ছোটÑযেখানে টেরাকোটার ধনুকাকৃতির নকশা, লতাপাতা ও ফুলের অলংকরণ শোভা পেয়েছে। পূর্ব দেয়ালে তিনটি দরজা, মাঝেরটি তুলনামূলক বড়। দুপাশ ও সম্মুখভাগে মোট ছয়টি সরু মিনার রয়েছে। পোড়ামাটির কারুকাজ ও সুলতানি প্রভাবিত নকশা মসজিদটিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে। এর চূড়ার নকশায় ফতেহপুর সিক্রি, আগ্রা ও দিল্লির মোগল স্থাপত্যের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। সামনে খোলা প্রাঙ্গণ ও বেষ্টনী প্রাচীরের সঙ্গে দোচালা আকৃতির ‘বালাখানা’ ভবনটি মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে মসজিদটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি অক্ষত রাখতে হলে এর যথাযথ সংস্কার জরুরি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...