নাজমুল হত্যার প্রতিশোধ নিতে

খুলনায় মঞ্জুরুলকে বাবার সামনে হত্যা

খুলনা ব্যুরো

খুলনায় মঞ্জুরুলকে বাবার সামনে হত্যা
ছবি: আমার দেশ

খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন হরিণটানার ৮০ বিঘা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬। তাদের কাছ থেকে একটি শটগান, একটি পিস্তল ও তিনটি দেশীয় চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব জানায়, গত ১৯ আগস্ট খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন হরিণটানার ৮০ বিঘা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে মঞ্জুরুল ইসলাম (২৩), পিতা মো. খোকন এবং মো. নাজমুল (১৮), পিতা মনির হোসেন নিহত হন। তাদের গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

ঘটনার পরপরই র‍্যাব-৬-এর একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও পর্যালোচনার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খুলনার টুটপাড়া এলাকার কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় সংস্থাটি।

এরপর সাইফিকে গ্রেপ্তারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে গত ২১ আগস্ট গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন মাঝিগাতী বাজার এলাকা থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৬।

র‍্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি জানায়, নিহত নাজমুল তাদের গ্রুপের সদস্য ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম অপর একটি গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে সাইফি দাবি করেছে।

র‍্যাবের অধিনায়ক জানান, সাইফির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের দলের সদস্য নাজমুলকে রফিক নামের এক ব্যক্তি আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপ দেয়। এর প্রতিশোধ নিতে সাইফি ও তার দলের প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরিণটানার ৮০ বিঘা এলাকায় যায়। সেখানে মঞ্জুরুল ইসলামকে সামনে পেয়ে তার বাবার উপস্থিতিতেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের আন্তঃকোন্দল, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার জেরেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় একটি শর্টগান, একটি পিস্তল ও তিনটি দেশীয় চাপাতি উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৬। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন