আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ যুদ্ধ (শেষ পর্ব)

আলীজাহ মুহাম্মাদ সামানীন

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ যুদ্ধ (শেষ পর্ব)

সপ্তম বাহিনী : আলা ইবনে হাজরামি ও বাহরাইন অভিযান

ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধের লক্ষ্যে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর পাঠানো সপ্তম বাহিনীটির সেনাপতি ছিলেন আলা ইবনে হাজরামি। এই বাহিনী বাহরাইনের আবদে কায়স গোত্রে অভিযান পরিচালনা করে।

বিজ্ঞাপন

আলা ইবনে হাজরামি বাহিনী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন। তিনি এমন এক ভয়ানক ও প্রাণীবিবর্জিত নির্জন মরুপথ অতিক্রম করেন, যে পথে সচরাচর কেউ যাতায়াত করত না। অবশেষে তিনি গন্তব্যে পৌঁছান এবং হাজার নামক স্থানে মুরতাদদের মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করলেন। এই অঞ্চলের প্রায় সব গোত্রই ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে শক্তিশালী আবদে কায়স গোত্র ছিল অন্যতম।

জুওয়াসা জনপদের অটল ভূমিকা

সমগ্র বাহরাইন অঞ্চল মুরতাদ হয়ে গেলেও কেবল একটি ছোট জনপদ—জুওয়াসা ইসলামের ওপর অটল ছিল। কিন্তু চতুর্দিক থেকে মুরতাদদের চাপে তারাও বিভ্রান্তির মুখে পতিত হয়। তখন তাদের গোত্রের অন্যতম নেতা জারুদ ইবনে ইয়ালা রুখে দাঁড়ান। তিনি গ্রামবাসীদের সমবেত করে বলেন, ‘আবদে কায়স গোত্রের লোকজন! আমি আপনাদের একটি প্রশ্ন করতে চাই। যদি আপনারা উত্তর জানেন তবেই উত্তর দেবেন।’

তারা বলল, ‘আপনি প্রশ্ন করুন।’ তিনি বললেন, ‘আপনারা কি জানেন মুহাম্মদ (সা.)-এর আগে আরো নবী এসেছিলেন?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা জানি।’ তিনি বললেন, ‘তারা এখন কোথায়?’ তারা বলল, ‘তারা সবাই ইন্তেকাল করেছেন।’

জারুদ (রা.) তখন বললেন, ‘নবী মুহাম্মদ ঠিক সেভাবেই ইন্তেকাল করেছেন, যেভাবে পূর্ববর্তী নবীগণ ইন্তেকাল করেছেন। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।’

তার এই সুস্পষ্ট বক্তব্যে গ্রামবাসী উদ্বুদ্ধ হয়ে বলতে থাকে—‘আমরাও সাক্ষ্য দিচ্ছি—আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল।’

অবরোধ ও ধৈর্যের পরীক্ষা

জুওয়াসা গ্রামের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ইসলামের ওপর অটল থাকার কারণে প্রতিবেশী শক্তিশালী মুরতাদ গোত্রগুলো তাদের ওপর প্রচণ্ড খেপে যায়। তারা গ্রামটিকে চারদিক থেকে অবরোধ করে রাখে। তাদের অবরোধ ছিল খুবই কঠোর। ফলে গ্রামে খাদ্যের সরবরাহের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামবাসী ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করতে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে আলা ইবনে হাজরামি বাহিনী নিয়ে হাজার নামক স্থানে পৌঁছান। তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রতিবেশী গোত্রগুলোকে আবার ইসলামের দাওয়াত দেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বনু তামিম এবং ইয়ামামা থেকে সুমামা বিন উসালের বাহিনী বাহরাইনে মুসলিম শিবিরে যোগ দেয়। ফলে মুসলিম বাহিনীর শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।

আকস্মিক আক্রমণ ও প্রাথমিক বিজয়

দীর্ঘ এক মাস উভয় বাহিনী পরিখা খনন করে মুখোমুখি অবস্থান করতে থাকে। একদিন রাতে আলা ইবনে হাজরামি খবর পান যে, মুরতাদ বাহিনীর প্রধান নুমান ইবনে মুনজির এবং তার সৈন্যরা মদ পান করে মাতাল অবস্থায় আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত। এই সুযোগে তিনি রাতের অন্ধকারে ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার মুরতাদকে হত্যা করেন। পলায়নরত মুরতাদদের একটি বড় অংশকে মুসান্না বিন হারিসা দমন করেন।

দারিন দ্বীপ ও অলৌকিক সমুদ্র বিজয়

পরাজিত মুরতাদদের অবশিষ্টাংশ জাহাজে উঠে সমুদ্রের ওপারে দারিন দ্বীপে আশ্রয় নেয়। মুসলিমদের কাছে কোনো জাহাজ ছিল না এবং জাহাজ ছাড়া সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব ছিল। কিন্তু আলা ইবনে হাজরামি ঘোষণা দিলেন, ‘খলিফা আবু বকর আমাদের মুরতাদ দমনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা কোনো মুরতাদকে ছেড়ে যেতে পারি না।’

এরপর তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করে সৈনিকদের ঘোড়া ও উট নিয়ে সমুদ্রে নামার নির্দেশ দেন। ইতিহাসের পাতায় এটি একটি বিস্ময়কর ঘটনা হয়ে আছে। আল্লাহর হুকুমে মুসলিম বাহিনী অক্ষত অবস্থায় সমুদ্র পার হয়ে দ্বীপে পৌঁছে যায়। তাদের এই অলৌকিক আগমন দেখে মুরতাদরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং চূড়ান্ত যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে বাহরাইন অঞ্চলটি আবার খেলাফত রাষ্ট্রের অধীনে চলে আসে।

অষ্টম ও নবম বাহিনী : ওমান ও মাহরা বিজয়

ওমানে লাকিত ইবনে মালিকের বিদ্রোহ : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই ওমানের দুই ভাই ও শাসক—জাইফার এবং আব্বাদ ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীজি (সা.) ওমানের শাসনভার তাদের হাতে ছেড়ে দেন। কিন্তু নবীজি (সা.)-এর ওফাতের পর ওমানে লাকিত ইবনে মালিক (ওরফে জু-তাজ বা মুকুটধারী) নামক এক ব্যক্তি নবুয়তের মিথ্যা দাবি করে। প্রচুর মানুষ তার অনুসারী হয় এবং সে ওমান দখল করে নেয়। জাইফার ও আব্বাদ তাদের অনুসারী মুসলিমদের নিয়ে সমুদ্র উপকূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

খলিফার পদক্ষেপ ও অষ্টম-নবম বাহিনীর যাত্রা

এই সংবাদ পেয়ে খলিফা আবু বকর (রা.) দুটি বাহিনী পাঠান। সেনাপতি হুজাইফা ইবনে মুহসিনের নেতৃত্বে অষ্টম বাহিনী আর সেনাপতি আরফাজা ইবনে হারসামার নেতৃত্বে নবম বাহিনী। খলিফা তাদের দুজনকে হুজাইফার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওমান অভিমুখে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ইয়ামামা অভিযানে পরাজিত হয়ে মদিনার দিকে এগিয়ে আসতে থাকা ইকরিমা ইবনে আবু জাহলকেও ওমানের বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

দাবা যুদ্ধ ও ওমান বিজয়

মুসলিম বাহিনী ওমানের পশ্চিম প্রান্তের ‘দাবা’ নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে। সেখানে জাইফার ও আব্বাদের অনুসারী মুসলিমরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। লাকিত ইবনে মালিকের বাহিনীর সঙ্গে মুসলিমদের এক ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে আলা ইবনে হাজরামির প্রেরিত একদল অতিরিক্ত সৈন্য এসে পৌঁছালে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। যুদ্ধে লাকিত ইবনে মালিকসহ প্রায় ১০ হাজার মুরতাদ নিহত হয়। জাইফার ও আব্বাদ পুনরায় ওমানের শাসনভার গ্রহণ করেন।

মাহরা অভিযান ও ইকরিমার নেতৃত্ব

ওমান বিজয়ের পর মুসলিম বাহিনী মাহরা অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়। খলিফা আবু বকর (রা.) তখন ইকরিমা ইবনে আবু জাহলকে এই সম্মিলিত বাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইকরিমাকে খলিফা নির্দেশ দিয়েছিলেন—‘যতক্ষণ না আমি আপনার নেতৃত্বে বড় কোনো বিজয় দেখছি, ততক্ষণ মদিনায় ফিরবেন না।’

মাহরা অঞ্চলে মুরতাদরা দুভাগে বিভক্ত ছিল। এক পক্ষের নেতা ছিল শাখরিত এবং অন্য পক্ষের নেতা মুসাব্বিহ। তারা দুজন ক্ষমতার লোভে নিজেদের মধ্যেই বিবাদে লিপ্ত ছিল। সেনাপতি ইকরিমা এই সুযোগ কাজে লাগান। তিনি শাখরিতকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠান। শাখরিত মুসলিমদের শক্তি দেখে এবং মুসাব্বিহকে পরাজিত করার আশায় ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়।

মুসাব্বিহ ও তার অনুসারীরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শাখরিতের যোগদানে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মরণপণ লড়াই করে। কিন্তু মুসলিমদের ধৈর্য ও বীরত্বের কাছে তারা টিকতে পারেনি। যুদ্ধে মুসাব্বিহ নিহত হয় এবং মাহরা অঞ্চলটি সম্পূর্ণরূপে ইসলামের অধীনে চলে আসে।

দশম ও একাদশ বাহিনীর অভিযান

মাহরা অঞ্চলে বিজয়ের পর ইকরিমা ইবনে আবু জাহল বাহিনী নিয়ে ইয়ামেনের দিকে অগ্রসর হন। মদিনা থেকে খলিফা আবু বকর (রা.) আরো দুটি শক্তিশালী বাহিনী পাঠান। সেনাপতি মুহাজির বিন উমাইয়ার নেতৃত্বে দশম বাহিনী, যাদের লক্ষ্য ছিল ইয়ামেনের রাজধানী সানআ। সেনাপতি সুয়াইদ ইবনে মুকরিনের নেতৃত্বে একাদশ বাহিনী, যাদের লক্ষ্য ছিল তিহামা অঞ্চল।

প্রথম ফেতনা : আসওয়াদ আনসির উত্থান

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই ইয়ামেনে আসওয়াদ আনসি নবুয়তের মিথ্যা দাবি করেছিল। সে ইয়ামেনের তৎকালীন মুসলিম গভর্নর শাহর ইবনে বাজানকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিল এবং শাহরের স্ত্রী আজাদকে জোরপূর্বক বিয়ে করেছিল। এই দুঃসময়ে সাহাবি মুয়াজ ইবনে জাবাল ইয়ামেন ছেড়ে হাজরামাউতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

আসওয়াদ আনসির তিনজন প্রধান সেনাপতি ছিল—কায়েস ইবনে মাকশুহ, দাজওয়াইহ ও ফায়রোজ দাইলামি। মুয়াজ ইবনে জাবাল অত্যন্ত গোপনে তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পাঠান। শাহরের স্ত্রী আজাদের সহায়তায় ফায়রোজ দাইলামি প্রাসাদে প্রবেশ করেন। মাতাল আসওয়াদ আনসিকে ফায়রোজ দাইলামি এবং কায়েস ইবনে মাকশুহ মিলে হত্যা করেন।

মদিনায় বসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই খবর জানতে পারেন এবং সাহাবিদের বলেন, ‘আজ রাতে আসওয়াদ আনসি নিহত হয়েছে, তাকে একজন বরকতময় ব্যক্তি হত্যা করেছে—সে হলো ফায়রোজ।’

দ্বিতীয় ফেতনা : কায়েস বিন মাকশুহের বিশ্বাসঘাতকতা

আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের সংবাদ ইয়ামেনে পৌঁছালে পরিস্থিতি আবারও বদলে যায়। মুরতাদ দমনে সাহায্যকারী কায়েস ইবনে মাকশুহ নিজেই এবার বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ক্ষমতার লোভে সে দাজওয়াইহকে হত্যা করে। সে ফায়রোজ দাইলামি ও মুয়াজ ইবনে জাবালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করলে তারা ইয়ামেন ছেড়ে চলে যান।

দশম বাহিনীর চূড়ান্ত অভিযান ও বিজয়

খলিফা আবু বকর (রা.) এই খবর পেয়ে মুহাজির ইবনে উমাইয়াকে ইয়ামেনে পাঠান। হাজরামাউত থেকে মুয়াজ ইবনে জাবাল এবং সানআ থেকে ফায়রোজ দাইলামি তাদের অনুসারীদের নিয়ে এই বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হন। মুসলিমদের তিন বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে কায়েস ইবনে মাকশুহের মুরতাদ বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কায়েস ইবনে মাকশুহ এবং বিখ্যাত বীর আমর ইবনে মাদিকারিব (যিনি তখন মুরতাদ ছিলেন) আত্মসমর্পণ করেন। তাদের দুজনকে বন্দি করে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর কাছে পাঠানো হয়। মদিনায় যাওয়ার পথে এবং খলিফার কঠোর তিরস্কারের মুখে তারা লজ্জিত হয়ে পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা.) তাদের ক্ষমা করে দেন।

একাদশ বাহিনীর ফলাফল

সেনাপতি সুয়াইদ ইবনে মুকরিন যখন তিহামা অঞ্চলে পৌঁছান, তত দিনে ইয়ামেনের মূল বিদ্রোহ দমন হয়ে গিয়েছিল। ফলে এই বাহিনীকে কোনো বড় যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়নি; সেখানকার মানুষ স্বেচ্ছায় আবার ইসলামে ফিরে এসেছিল।

রিদ্দাহর অবসান

এভাবেই ইতিহাসের এক ভয়াবহ ফিতনার অবসান ঘটে। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রতিটি রণাঙ্গনে মুসলিমরা বিজয় লাভ করেন। পুরো আরব উপদ্বীপ যখন ধর্মত্যাগের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল, এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেখানে একজনও মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) অবশিষ্ট ছিল না।

রিদ্দা-যুদ্ধের সময়কাল

রিদ্দাহর যুদ্ধের ব্যাপ্তি ছিল প্রায় এক বছর। হিজরি ১২ সনের রবিউল আউয়াল মাসে এ যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটে। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ছিল সবচেয়ে সংকটময় ও কঠিন সময়। সে সময় ইসলাম প্রায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর মতো পাহাড়সম দৃঢ়চেতা এক ব্যক্তিকে ইসলামের রক্ষক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। মূলত রিদ্দাহর যুদ্ধগুলোই আরব উপদ্বীপে ইসলামের ভিত্তিকে সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল করেছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...