আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান ও এডুকেশন ওয়াচ। এছাড়া ধীরে ধীরে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করারও দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় শিক্ষা বাজেট: আমাদের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও আলোচনা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা কনসালটেশন কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমদ ও সিপিডির রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিগত বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ টাকার অঙ্কে বাড়লেও শতাংশে বরাদ্দ কমেছে। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষায় প্রস্তাব করা হয়েছিল জাতীয় বাজেটের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর আগে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রস্তাব করা হয়েছিল জাতীয় বাজেটের ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ সরকারকে অভিলাষমুক্ত ও রাজনীতি মুক্ত একটি বাজেট ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা বাজেটের একটি পূর্ণ প্রতিবেদনও প্রকাশ করা যেতে পারে। শিক্ষা বাজেটের করা বরাদ্দ ঠিকমতো কেন খরচ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই আলাদাভাবে বাজেট করে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত বরাদ্দ নিয়ে ঠিকমতো খরচও করতে পারছে না। খারাপ বাজেটগুলোর মধ্যে হলো একটি শিক্ষা, অন্যটি স্বাস্থ্য খাতের বাজেট।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা বাজেট নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে রয়েছে-চতুর্থ প্রজন্মের শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মানসম্মত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা; শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা যাতে মেধাবী এবং মেধাবী স্নাতকরা শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হন; শিক্ষক নিয়োগ কমিশন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং উপযুক্ত প্রণোদনা সহ যোগ্যতার ভিত্তিতে যোগ্য স্নাতকদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা; অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বাজেটের বিধান করা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সংযোগ স্থাপন করা।
প্রাথমিক স্তরে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য কমপক্ষে ৫০০ টাকা এবং মাধ্যমিক স্তরে ৭০০-১০০০ টাকা করে উপবৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে আহত বা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বৃত্তি কর্মসূচি চালু করা, যাতে তারা আর্থিক কষ্ট ছাড়াই তাদের স্নাতক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। এবং সেই ট্রমা পুনরুদ্ধারের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ সহায়তাও প্রদানের কথা বলা হয়।
সুপারিশে আরো বলা হয়, ১১৬ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা/সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা উচিত। যদি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ কভারেজ সম্ভব না হয়, তাহলে দারিদ্র্যপীড়িত, প্রত্যন্ত, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং শহুরে বস্তি এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুই বছরের পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা চালু করা উচিত।
ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের (বাল্যবিবাহ এবং শিশুশ্রমের শিকার) স্কুলে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচির বাজেট বিধান করা উচিত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

