প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, পাহাড় নিয়ে রাজনীতিবিদরা এখনও সচেতন না হলে সামনে অনেক সংকট পোহাতে হবে। যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে পড়েছি তিন রুটে পাহাড়ে অস্ত্র ঢুকছে। সেগুলো আরাকান আর্মির কাছ থেকে কেনা হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে উজি পিস্তল মানে ইসরাইলি পিস্তল রয়েছে। সুতরাং ইসরাইল তার ক্লোজেস্ট কানেকশন ছাড়া কাউকে এসব অস্ত্র দেবে না।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এই সমস্ত ভারী অস্ত্র মেশিনগান কোথা থেকে আসে এবং কারা এদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়; হয়তো ভারত দেয়, না হলে মিয়ানমার দেয়। কারণ দুইটা দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের বর্ডার আছে। এখানে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা কিংবা নেপালের অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে সেনাবাহিনীকে আমরা দেখেছি আক্রমণ করা হয়। কিছু বিষয় আছে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। আমরা সেটা নিয়ে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপ করতে পারি। কিন্তু (এনসিপি) অনেকে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কথা বলছে; তারা বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী তুলে আনতে হবে। আসলে তাদের (এনসিপি) রাষ্ট্র, রাজনীতি, নিরাপত্তা—এগুলো নিয়ে ধারণাই নাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন। কাজেই এখানে পপুলেশনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ রাখা, সেখানে যে ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া লাগে সেটা তিনি নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের ওই পলিসির কারণে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আছে। বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আছে। তাদের কাজ হচ্ছে এগুলোকে আইডেন্টিফাই করা। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলব, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক সময় সরকারের সঙ্গে এতটা অ্যালাইন হয়ে যায়, তারা জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ঢুকে যায়। এইটা যদি করে তাহলে এই দেশের জন্য বিপদ।
সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, পাহাড় থেকে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দিলে অশান্তি বাড়বে। সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকুক, এটা অনেকে চায় না। মূলত তারা চাঁদাবাজি করার জন্য সেনাবাহিনী থাকুক, এটা চায় না। এ দেশে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। এ দেশের বিপদ মুহূর্তে সেনাবাহিনী সবসময় দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লে. (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা শামীম হোসেন, বাংলাভিশন টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ এডিটর বদরুল আলম নাবিল ও থোয়াই চিং মং চাক প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


