বুধবার সারাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে ফের টানা ভারী বর্ষণের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা আমার দেশকে বলেন, বুধবার সারাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ফের টানা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাত সোয়া ৮টার দিকে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, আগামী শনি ও রোববার বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা স্বাক্ষরিত বুলেটিনে
রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব কিংবা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর পুনরায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর পুনঃ তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সংস্থাটির ৫১টি সেন্টার এলাকায় তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও আগের দিনের তুলনায় চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১০৯, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে ১০০, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ৯৫, নেত্রকোণা ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এদিন রাজধানীতে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এ দিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সারাদেশেই তাপমাত্রা কম ছিল। বুধবার সারাদেশের মধ্যে নরসিংদীতে সবচেয়ে বেশি ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসি এবং টাঙ্গাইল ও বান্দরবানে ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দিনরাতের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেকটা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি অধরাই থেকে গেছে। আজ বুধবার আগের কয়েকদিনের তুলনায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বর্ষাকাল হিসেবে সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা আমার দেশকে বলেন, বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়, আবার থেমে গেলেই ভ্যাপসা গরম পড়ে। এর কারণ বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে।
মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি ধরনের ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।
অন্যদিকে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

