রাতে বিশ্বকে আলোকিত করবে অতিকায় উপগ্রহ আয়না

রাতে বিশ্বকে আলোকিত করবে অতিকায় উপগ্রহ আয়না

আপনি মাঝরাতে ছবি তুলতে আগ্রহী, কিন্তু পুরো এলাকা অন্ধকার। আপনার প্রয়োজন দিনের মতো আলো, কিন্তু আদৌ কি তা সম্ভব? যদি এমন হয় একটি অ্যাপ্লিকেশন খুলে কিছু অর্থ প্রদান করতেই সূর্যের মতো আলো আপনার মাথার উপর এসে হাজির। বিষয়টি অবিশ্বাসযোগ্য হলেও সত্য। রাতের আকাশকে এমনই আলোকিত করতে এয়ারেন্ডিল-১ কক্ষপথে একটি মিরর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সরকার। খবর পেটাপিক্সেলের।

বিজ্ঞাপন

বেডসাইড টেবিলের সমান আকারের এয়ারেন্ডিল-১ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ মাইল ‍উপরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে। সেখানে এটি একটি বর্গাকার আয়না উন্মোচন করবে, যা প্রায় ৬০ ফুট চওড়া। আয়নাটি একটি নির্দিষ্ট অবস্থানের দিকে সূর্যালোক বাউন্স করবে এবং প্রায় তিন মাইল চওড়া একটি বৃত্তাকার প্যাচকে আলোকিত করবে।

প্রতিফলিত কক্ষপথের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেন নোয়াক জানিয়েছেন, যদি কোনো গ্রাহক বছরে অন্তত এক হাজার ঘণ্টা ব্যবহারের প্রতিশ্রতি দেন, তাহলে তাদের কোম্পানি প্রতি ঘণ্টায় আয়না ব্যবহারের জন্য পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার ফি নেবে।

বছরে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিশ্চিতভাবেই বেশিরভাগ ফটোগ্রাফারের বাজেটের বাইরে, তাই এটা সমন্বয় করা কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কৃত্রিম আলো ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে এ ধরনের আরো এক হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন সরকারের, যা ১৮০ ফুট চওড়া এবং ১০০টি পূর্ণ চাদের সমান আলো প্রতিফলিত করতে পারবে।

এদিকে প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তাদের অন্যতম কানাডার সাসকাচোয়ানের রেজিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সামান্থা ললার বলেন, এটা আমার কাছে ভয়ংকর, যেখানে একটি দেশ পৃথিবীর সবার জন্য রাতের আকাশ পরিবর্তন করতে পারে।

জীববিজ্ঞানীরা এ ধরনের প্রযুক্তির বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং কানাডার জীববিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অরবিটাল স্থাপনার প্রস্তাবিত গ্রহের সাইজ প্রাকৃতিক রাতের আলো পরিবেশের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করবে। আলো-অন্ধকার চক্রকে পরিবর্তন করবে, যা প্রাণী ও মানুষের ঘুমের জন্য বিপর্যয়কর হবে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন