ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আঘাতের পর এবার চার রাজ্যে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বুধবার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্কতা কার্যকর থাকবে। বিশেষ করে নদী অববাহিকা, পাহাড়ঘেঁষা এলাকা, নিচু জনপদ এবং জলাশয়সংলগ্ন অঞ্চলে ঝুঁকি বেশি।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টি হলে মাটি অতিরিক্ত পানি শোষণ করতে পারবে না। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিচু এলাকায় জমতে পারে। এতে হঠাৎ বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি নদী-ছড়ার পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল নেমে নদী ও ছড়ার আশপাশের জনপদ প্লাবিত হতে পারে। আকস্মিক বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জরুরি সেবা পৌঁছাতে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, উদ্ধারকারী নৌকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী মজুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওড়িশায় নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যটিতে উদ্ধার ও জরুরি সেবার দলও মোতায়েন রয়েছে।
উপকূল পেরোলেও বিপদ কাটেনি
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আজ বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। স্থলভাগে ঢোকার সময় ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের পর দুর্বল হতে থাকলেও এর সঙ্গে আসা ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস দুর্বল হয়ে এলেও বৃষ্টিজনিত বিপদ দ্রুত বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা, নদী ও জলপ্রবাহের কাছাকাছি না যাওয়া এবং সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


