গত দুই দিনের মতো আজ শনিবারও দেশের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এতে চৈত্রের খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ সারা দেশের মানুষ। আগের দিনের তুলনায় আজ তাপপ্রবাহের পরিধি বাড়তে পারে। গতকাল শুক্রবার দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও রাজশাহী বিভাগসহ দেশের ২৭টি জেলায় ছিল মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহ ছিল ১৭ জেলায়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ বাড়ছে। এতে ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নগরজীবন।
আগামী রোববার নাগাদ এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া চলতি মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। তীব্র তাপপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা আমার দেশকে বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের তুলনায় তাপপ্রবাহের পরিধি আজ আরো বৃদ্ধি ও অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি জানান, আজ খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলো ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বইছে। তবে রোববার ও সোমবার সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে এবং মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপপ্রবাহ কমতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ২০২৪ সালে টানা ২৬ দিন এবং ২০২৩ সালে ২২ দিন দেশে তাপপ্রবাহ ছিল। তবে এবার তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও ওই দুই বছরের ন্যায় এবার তাপপ্রবাহের কোনো সম্ভাবনা নেই। কেননা, এবার তাপপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী দুই দিনে গরম আরো বেড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তা আরো বিস্তার লাভ করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
গত কয়েক দিনের রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনের তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার দেশের পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার একই জেলায় সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে রাজধানীতেও তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশকি ৪। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল ৩৫ এবং বুধবার ৩৪ দশমিক ৫ সেলসিয়াস। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় রাজধানীতে তাপমাত্রা কিছু কম রেকর্ড করা হলেও ভ্যাপসা গরম হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে। এতে জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষায়, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

