যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর ইরানের রাজধানী তেহরানে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত বিশাল একটি ব্যানার। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানও দেন বিক্ষোভকারীরা।
বুধবার তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে (ইসলামিক রেভল্যুশন স্কয়ার) আয়োজিত এক সমাবেশে এ ঘটনা ঘটে। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে ইরান সরকার সমর্থকদের অংশগ্রহণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আলজাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রকাশিত ছবিতে ব্যানারটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছবিও দেখা যায়।
এর আগে ৩ নভেম্বর তেহরানের এনকেলাব স্কয়ারে চার নেতার ছবি সংবলিত বিশাল একটি পোস্টার টাঙানো হয়েছিল। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির আলোকচিত্রী ফাতেমেহ বাহরামির তোলা ছবিতে পোস্টারটির উপস্থিতি দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা এদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকাও পোড়ান। পাশাপাশি ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর ইরানে এ বিক্ষোভ বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়েছে। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতারা মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন তারা।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমেরিকানরা যুদ্ধকে না বলেছে, আমরাও এই বার্তাকে সমর্থন করি।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সরকার জনগণের এই বার্তা উপেক্ষা করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন হলেও তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলগুলোর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইরানের প্রতি দেশটির বৈরী মনোভাবের অবসান হবে এমন আশা করা ভুল।
এদিকে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে আবার বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে একদল ইরানি শিক্ষার্থী মার্কিন দূতাবাসে প্রবেশ করে ৫২ জন মার্কিন নাগরিক ও কূটনীতিককে জিম্মি করে। টানা ৪৪৪ দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। প্রায় পাঁচ দশক পরও দুই দেশের মধ্যে সেই বৈরিতা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আনাদোলু এজেন্সি ও ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


