সরাসরি গণহত্যায় জড়িত অপরাধীদের অনেকে দম্ভ নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বেশিরভাগ লুণ্ঠিত সম্পদ সঙ্গে নিয়ে নিরাপদে দেশের সীমা অতিক্রম করে পালিয়েছে। কেউ কেউ নামমাত্র গ্রেপ্তার হলেও সহজে জামিন পেয়ে যাচ্ছে কিংবা তাদের অপরাধের উপযুক্ত পাওয়ার শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। এমনই চিন্তা থেকে দেশের নানা স্থানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ‘মব লিঞ্চিং’ তথা ‘গণধোলাইয়ের’ ঘটনা। ওদিকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্তিম দৃশ্যে পুলিশের অমোঘ বাণী ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না’ ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর তাই কথিত গণমাধ্যমে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘মব জাস্টিস’ কিংবা ‘গণবিচার’ বলার সুযোগ কম। এগুলো ইংরেজিতে ‘মব লিঞ্চিং’ আর সরল বাংলায় ‘গণধোলাই’, যাকে চলচ্চিত্রের ভাষায় সবাই আগে থেকেই জানতেন ‘পাবলিকের মার, ক্যাওড়াতলা পার’ হিসেবে।
ফ্যাসিবাদ তত্ত্বকথা মানে না, সে জানে না বাস্তবতার নিরিখে কোনো বিষয়কে যাচাই করতে দেখতে। শুধু নৈতিক-অনৈতিক সব পথে নিজের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে যা যা প্রয়োজন, সবই করতে দ্বিধা নেই তার। ফ্যাসিবাদ অধস্তনদের ক্ষমতার বলে ঘিরে রাখতে চায়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে বহুমুখী নজরদারি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আর সামাজিক অবকাঠামোর মধ্যে বহুমুখী বয়ান উৎপাদনকে সে হাতিয়ার হিসেবে মনে করে। সর্বগ্রাসী এই ফ্যাসিবাদী ধারণাকে বিশ্লেষণ করতে গেলে আমরা বিভিন্ন তত্ত্বচিন্তা থেকে ধারণা নিতে পারি। তবে ফরাসি চিন্তাবিদ মিশেল ফুকো ফ্যাসিবাদের বিস্তার তথা ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার প্রক্রিয়াকে একটু ভিন্নভাবে দেখেছেন। তিনি অন্য সবার মতো চিন্তা না করে জ্ঞানের মধ্যে ক্ষমতা খোঁজার কথা বলেছেন।
তবে জ্ঞান ও ক্ষমতার পূর্বানুমান নিয়ে এ ধরনের আলাপন পুরোপুরি নতুন নয়। এর আগে কার্ল মার্ক্সও ক্ষমতা এবং জ্ঞানের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে শ্রেণি শোষণের ভয়াবহ মানদণ্ড মনে করেছেন। পক্ষান্তরে ম্যাক্স ওয়েবার মনে করেন সমাজে আমলাতান্ত্রিকতার প্রভাব যত বিস্তৃত হবে, জ্ঞানও ঠিক তার সমান্তরালে ক্ষমতা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পথ করে নেবে। তবে ফ্যাসিবাদের ক্ষেত্রে এসব তত্ত্বকথাকে আড়াল করে সুবিস্তৃত ‘ভয়ের সংস্কৃতি’। এখানে ফুকো মার্ক্স এবং ওয়েবারকে ছাড়িয়ে আরও একধাপ এগিয়েছেন, তার মতে ক্ষমতা গোপন এবং বিপজ্জনক। সেই ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করে তোলা হলে উপস্থাপিত কিংবা নির্মিত সত্য এবং ডিসকোর্সের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে মনোদৈহিক পরিসরে ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটে, যা ফ্যাসিবাদী আধিপত্যকে নিরঙ্কুশ করে তোলে।
চিহ্নিত অপরাধীদের ‘মব লিঞ্চিং’ তথা ধরে ধরে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এখন সরব। তবে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ঘোষণা দিয়ে আদালতকে চৌরাস্তায় নামিয়ে আনা, নজিরবিহীন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা অহরহ ঘটলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভয়ে সবাই ছিলেন মুকি এবং বধির। বিস্ময়ে হতবাক জাতি প্রত্যক্ষ করেছিল বন্ধ হওয়ার কিছুদিন আগে দৈনিক আমার দেশে ছাপা হওয়া সেই সংবাদ। বিচারপতি নিজামুল হক (নাসিম) নিয়মিত বিচারের নানা দিক নিয়ে বিদেশে অবস্থানরত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে স্কাইপি কথোপকথন করেছিলেন। আর সেখান থেকেই দৈনিক আমার দেশ শিরোনাম করেছিল ‘গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়’। সাম্প্রতিক যে গণধোলাইয়ের অরাজকতা তার মূলে বিদ্যমান নৈরাজ্যের শেকড় অনেক গহিনে গ্রোথিত। আর সেখানে ঘুরেফিরে আসছে অভিন্ন একটা শব্দ ‘অবিচার’। যার থেকেও এখনও আমরা মুক্ত হতে পারিনি।
জুলাই বিপ্লব ফ্যাসিবাদ বিতাড়নে সক্ষম হলেও আমাদের দেশে এখনও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অক্টোপাসের মতো চারদিক থেকে আষ্টেপিষ্টে বেঁধে ফেলা ফ্যাসিজম এখনও আমাদের রেলগাড়ির বগির মতো টানছে ‘উল্টোপথে-উল্টোরথে’। শিক্ষার্থী জনতার আন্দোলনে সরাসরি গুলি চালিয়ে মানুষ খুন করার পাশাপাশি আক্রমণ ও জখমের অপরাধে দুষ্ট পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য এখনও পলাতক। তাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত যারা ডিউটিতে যোগদান করেছেন, তাদের মনেও অতীত কৃতকর্ম নিয়ে চরম অবিশ্বাস এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত রকমের নাভিশ্বাস কাজ করছে। ফলে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত অচল হয়ে পড়ার পথে। এমনই পরিস্থিতিতে নানা প্রভাব-প্রতিপত্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমনকি জুলাই বিপ্লবের বিপ্লবীদের বিতর্কিত অনেকের প্রত্যক্ষ মদতে অনেক খুনি ও দাগি আসামি বেকসুর খালাস পেয়ে যাচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তাই মব লিঞ্চিং তথা ‘গণধোলাই’ নিয়মিত একটা ঘটনায় পরিণত হতে বসেছে।
এমনই পরিস্থিতিতে পলাতক স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী অংশীজনরা তাদের ‘বাকস্বাধীনতা’ প্রয়োগের সুবর্ণ সুযোগ মনে করছে। তারা এমনই নানা ঘটনা এবং রটনাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব। ‘আগেই ভালো ছিলাম’ কিংবা ‘জুলাই বিপ্লবী দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে’ এমন বক্তব্য তাদের অনেকেই অহরহ দিয়ে চলেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে বাস্তবতা বোঝার জন্য আবারও ফুকোর ধারণা থেকে সাহায্য নিতে হবে। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা শুধু রাষ্ট্র বা পুঁজিপতিরা প্রয়োগ করে না, বরং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিন্ন ক্ষমতার প্রয়োগ দেখা যায়। তিনি মনে করেন, ‘রাষ্ট্রকাঠামোতে বিদ্যমান প্রতিটি অংশ থেকে ক্ষমতা তৈরি হয়, তারপর চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে সেই ক্ষমতা সবকিছুর ওপর প্রয়োগ করার মধ্য দিয়েই নিরঙ্কুশ হয়ে ওঠে।’ পলাতক স্বৈরাচারের যে সুবিধাভোগী অংশীজনরা এত দিন ফ্যাসিবাদী ক্ষমতাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে সক্রিয় ছিলেন, তারাই এখন অপেক্ষাকৃত দুর্বল সুরে ফ্যাসিবাদের পক্ষে তাত্ত্বিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছেন। কারণ তারাও এটা স্বীকার করেন যে ‘ক্ষমতা অনেকটাই হাতিয়ার তথা অস্ত্রের মতো, যাকে শুধু ধারণ করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ করা যায়’। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী আমলে শুধু নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নয়, বরং সেই ক্ষমতা চর্চা করার অবারিত সক্ষমতা যাদের ছিল, তারা এখনও অভ্যাসবশত অভিন্ন কাজ করে বসছেন। আর ক্ষেত্রবিশেষে রাষ্ট্রযন্ত্র যথাযথ কোনো পদক্ষেপ না নিতে পারায় তাদের ওপর ক্ষিপ্ত জনতার রোষ আছড়ে পড়ছে ‘গণধোলাই’ হয়ে। এখানে ক্ষমতার বিষয়টি ব্যক্তির ওপর চূড়ান্তভাবে আরোপিত নয়, বরং এখানে ‘ক্ষমতা’ এমন কিছু, যা ব্যক্তির বিপরীতে উত্তেজিত জনতার আক্রোশ তথা অন্যের কাজকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে না পারলে অরাজকতা সহসা কাটবে না। বিশেষত, জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থী জনতার বিরুদ্ধে বন্দুক হাতে নিয়ে সরাসরি যারা গণহত্যার মতো অপরাধে জড়িত তাদের গ্রেপ্তার না করে নিরাপদে দেশের সীমানা পার করে দিতে থাকলে এই ‘মব লিঞ্চিং’ তথা ‘গণধোলাই’ আরও বাড়বে। বিরক্ত, বিব্রত ও হতাশ মানুষের শেষ আশ্রয় আইনের প্রতি অনাস্থা, মতান্তরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া। আর সে ঘটনাটাই সম্প্রতি ঘটছে নানা স্থানে।
তত্ত্বচিন্তায় দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা চারপাশের পরিস্থিতি দেখেই বুঝতে পারি পাঁচ আগস্ট আমাদের চারপাশকে কীভাবে বদলে দিয়েছে। ভাইরাল সেই উক্তি ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’। সরাসরি বলতে গেলে জুলাই বিপ্লব মিশেল ফুকোর ‘প্যানোপটিকনের’ মতো আওয়ামী ফ্যাসিজমের ভয় সৃষ্টিকারী সেই ‘টাওয়ার’ দুমড়েমুচড়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের মনে আর যাই হোক ভয় নেই।
বাস্তবতা হচ্ছে মানুষের মন থেকে মৃত্যুভয় উবে যাওয়ার পর তারা পৌনঃপুনিকভাবে দুঃসাহস দেখাতেই থাকবে। আর তার অনিবার্য ফলাফল অন্যায়ের প্রতিরোধে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার নামান্তে ধারাবাহিক বিশৃঙ্খলা। আর কারণটাও স্বাভাবিক, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে চলমান জঙ্গলের আইন থেকে এখনও মুক্তি মেলেনি গণমানুষের। যাই হোক, ট্রাফিক পুলিশকে রাস্তার মোড়ে বসে ফেসবুক রিলস কিংবা টিকটক দেখার সুযোগ করে দিতে দুই হাত প্রসারিত করে গুলি খাননি আবু সাঈদ। খুনের আসামিদের লুটের টাকাপয়সা নিয়ে নিরাপদে পাশের দেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবেÑ এমন বাংলাদেশের জন্য বেঘোরে জান দেননি শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা আহসাবুল ইয়ামিন। কিন্তু সেটাই যখন অহরহ ঘটছে, সেখানে কীসের ওপর আস্থা রাখবে উত্তেজিত জনতা !!
শুনতে খারাপ শোনা গেলেও সত্য, সরাসরি যারা ছাত্রদের ওপর গুলি চালিয়েছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। অবাক বিস্ময়ে আমরা লক্ষ করছি, বৈবিছাআ (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) কিংবা রূপান্তরিত জানাকের (জাতীয় নাগরিক কমিটি) লোকজনও ধীরে ধীরে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে তাদের দীপ্ত উচ্চারণ শিথিল করে দিয়েছে। পদ-পদবির প্রত্যাশা, লাভ ও লোভের অমীমাংসিত রসায়ন তাদের কক্ষপথচ্যুত করছে নানাক্ষেত্রে। অর্থের বিনিময়ে পদায়ন এমনকি ওয়ার্ড কমিশনারদের নিয়ে দল গোছানোর ঘৃণ্য অভিযোগের তীরও তাদের দিকে। ওদিকে চতুর্মুখী মচ্ছবে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এখন দর্শকের ভূমিকায়। পাশাপাশি অন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর বিতর্কিত ভূমিকার পাশাপাশি পরস্পরবিরোধী দোষারোপের হেতু তাদের সঙ্গে একে অন্যের দূরত্ব বাড়ছে।
বিগত দেড় দশকের সংগ্রামে লক্ষাধিক নেতাকর্মী নিপীড়নের শিকার হওয়ার পাশাপাশি সহস্রাধিক গুম ও খুন হওয়ার পরও রাজপথের আন্দোলন কিংবা কর্মসূচির বিচারে বর্তমানে বিএনপি অপেক্ষাকৃত নীরব। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হলেও তাদের পরিস্থিতি অনেকটা অনাহূত ঘোড় সওয়ারের মতো। যারা ঘোড়ার সামনে যেতে চাইলে দাঁত-মুখ খিঁচে কামড়াতে আসে, পিছলে দাঁড়াতে চাইলে জোড়া পায়ে লাথি মারে। এহেন পরিস্থিতিতে তাই নীরব থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছে তারা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার স্থানান্তরের জন্য তারা যখন অপেক্ষমাণ সেই সুযোগে ফাঁকা রাজপথে আস্ফালন করে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন সাইনবোর্ডসর্বস্ব সংগঠন। অনেকাংশে বর্তমানে চলমান অস্থিরতার সেটাও অন্যতম কারণ।
দেড় যুগ মুখে কুলুপ এঁটে থাকার পর এখন হঠাৎ করেই যারা সুশীলসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দু-চার কথা না বললেই নয় মনে করছেন, তারা হয়তো ভুলে গিয়েছেন যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে কোনোভাবেই শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। বিচারহীনতা বন্ধ করা না গেলে যেভাবেই হোক মানুষ প্রতিশোধ নিতে চাইবে। দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ফ্যাসিবাদী শাসনকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা জনগণ আর যাই হোক কোনো অন্যায় হতে দেখলে এখন আর চুপ থাকবে না। চোখের সামনে স্বজন হারাতে দেখা মানুষের চোখে এখন প্রতিশোধের আগুন। রক্তস্নানে সিক্ত বিপ্লবী ৩৬ দিন মন থেকে ভয়ডর সব কেড়ে নিয়ে চরম দুঃসাহসী করে তুলেছে তাদের প্রত্যেককে। এ জন্যই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইনে দ্রুততার সঙ্গে শাস্তির ব্যবস্থা করার দিকে নজর না দিলে জনতা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অতি প্রবল। এখানে আইনি দিক থেকে অপরাধী রক্ষাচেষ্টা যেমন ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, তেমনি উত্তেজিত জনতার অপরাধীর ব্যক্তি পরিচয়ের ধার ধারে না। তাদের হাত থেকে পরিস্থিতি রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণই হতে পারে একমাত্র পথ।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

