Dr. Md. Adnan Arif Salim

নেই বাংলা একাডেমির আভিজাত্যে ভরা অভিধানে, খুঁজে পাবেন না প্রচলিত গালাগাল কিংবা বাক্যালাপের জনপ্রিয় পরিসরে। তবে ক্রমেই একটি শব্দ বেশ ভালোভাবেই ঠাঁই করে নিয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে। ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে ইউটিউব ভিডিও, চায়ের টেবিল থেকে খেলার মাঠ কোথায় নেই? সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে শব্দটি লেখ

আপনার বর্ষীয়ান দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিকে নিশ্চয় স্বর্ণালি সাদাকালো কোনো সিনেমা দেখে এখনো চোখের পানি ফেলতে দেখেন? নব্বই দশকের ছেলেমেয়েরা নিশ্চিত করেই গান বলতে বোঝে ‘কুমার শানু আর অলকা ইয়াগনিক’। বাংলাদেশের বিনোদন মানেই বলিউড হয়ে যাওয়ার সময়টা মনে করলে তখন সংগীতশিল্পী বলতে বোঝাত স্রেফ শ্রেয়া ঘোষাল

প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং অবোধ্যের মতো তার ব্যবহার অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে চলমান পরিবর্তনগুলোর দৃশ্যমান প্রভাব সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। বিশেষত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং তার বিভিন্ন ব্যবহার সমাজের প্রাথমিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে। বদলে দিচ্ছে শ্রমের ধরন ও সময়

চারপাশের চিরচেনা রাজনৈতিক সংস্কৃতি কিংবা আমাদের যাপিত জীবনের আলেখ্য অনেকটা সরলরৈখিক। এখানে অর্থলোভী আর ক্ষমতালিপ্সু মা-বাবার অবৈধ পথে প্রতিযোগিতায় জেতার মানসিকতা ছুঁয়ে যায় তার সন্তানদেরও। স্বজন হারানোর বেদনা থেকে শুরু করে নানা ধরনের ফন্দিফিকিরে তারাও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয় নিত্যনতুন ধান্দায়।

বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আর বিপ্লবের মাতাল হাওয়া ২০২৫ সালকে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণে এনে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক অসমতা এবং অর্থনৈতিক সংকট, অন্যদিকে নতুন এক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জেন-জির উত্থান। তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে বহুমাত্রিকভাবে ব্যবহার করে নতুন পৃথিবী

রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা দখল করলেই কোনো শাসক সরাসরি ফ্যাসিস্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে না। এর পেছনে অনেকগুলো আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। প্রতিপক্ষকে দমন করতে গিয়ে ডিহিউম্যানাইজেশন তথা বিমানবীকরণের মধ্য দিয়ে তাদের ওপর সব ধরনের অত্যাচার ও নিপীড়নের নারকীয় তাণ্

বাংলাদেশের বর্তমান বিভাজন, বিষোদগার, ট্যাগিং আর কুৎসার রাজনীতি বোঝার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে সহজ পথ আছে প্রত্নতত্ত্ব আর বাণিজ্য শাখার পাঠে। যারা প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক, তাদের কাছে কনটেক্সট তথা প্রেক্ষিত বিচ্ছিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাদানের জটিলতা তুলনামূলক কম। কারণ এর সঙ্গে কো

হঠাৎ করেই আপনাদের চোখে পড়তে পারে ‘অরা’ (Aura) শব্দটি। কিন্তু এটি যে ব্যক্তিত্বের পরিমাপ হিসেবে কেউ কতটা ‘কুল’ বা ‘আনকুল’ তা বোঝায়, সেটি অনুমান করা অন্যদের জন্য বেশ কঠিন। একইভাবে আপনি অনুমানও করতে পারবেন না ‘বেইজড’ (Based) শব্দটি কোনো ব্যক্তির নিজের মতামত বা অবস্থান বজায় রাখার বিষয়টিকে তুলে ধরছে।

যিনি কলম হাতে নিলে নড়বড়ে হয়ে ওঠে ফ্যাসিবাদী সিংহাসন—তিনি আর কেউ নন, তিনি জনবুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর। ক্ষমতাকেন্দ্রের কাছাকাছি থেকে কলাটা-মুলাটা হাত বাড়িয়ে ভিক্ষা করা বুদ্ধিজীবীর দল আর তাদের দরবারি সমাজ হয়তো তাকে অবহেলা করেছে; কিন্তু তিনি ছিলেন সব দ্রোহ-বিপ্লবে আর প্রতিবাদে নিজের স্বভাবভঙ্গিমায়

জায়নবাদী ইতিহাস-লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির সেপিয়েন্স, হোমো দিউস কিংবা নেক্সাসের মতো বইগুলো যখন বের হয়, অনেকেই সতর্ক পর্যবেক্ষণ করেছেন। সে সময় আমরা অনেকেই একটি বিষয় নিয়ে লিখেছিলাম খুব করে।

নানা বালখিল্য যুক্তির প্রেক্ষাপটে ঘটেছে তাত্ত্বিক অনুরণন, স্মৃতি তর্পণের নামান্তে হয়েছে নির্লজ্জ সাংস্কৃতিক দাসত্বের নতুন বয়ান উৎপাদন আর মনোজাগতিক দুর্বৃত্তায়নের পথে দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে নিত্যনতুন নানা কুশীলব। সেখানে ১৫ আগস্টের শোকবার্তার বিপরীতে কালচারাল ফ্যাসিস্টের লটকানো আলোকচিত্রে জুতা নিক্ষেপের

বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি পিলে চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ের মোসাহেবদের কিছু বক্তব্যের লাইন এখনো বোধশক্তিসম্পন্ন বাংলাদেশিদের কানে বাজে। তার মধ্যে একটি ছিল বিচারপতি এনায়েতুর রহিমের

গলির মোড়, শহরের ব্যস্ত রাজপথ, নিভৃত গ্রামের মাটির রাস্তা, এমনকি পাহাড়ি জনপদ কিংবা নদীবিধৌত চর—সব জায়গার দেয়ালই তখন কথা বলছিল। আর এই কথাগুলো বলা হচ্ছিল রঙে, তুলিতে ও স্প্রে ক্যানের আওয়াজে। এক অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের আবহে বাংলাদেশের মানুষ যে গ্রাফিতির জন্ম দিয়েছিল, তা কেবল পরিমাণে নয়, ব্যঞ্জনায়ও অতুলনীয়

মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতায় ইসরাইল একক কোনো দেশ না, তারা পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধি। নিয়মনীতি, লোকদেখানো মানবাধিকার আর নানা চুক্তির কারণে পশ্চিমারা যেই কাজগুলো করতে পারছে না, তাদের হয়ে সেই ‘ডার্টি গেম’ খেলে দিচ্ছে ইসরাইল।

সরাসরি গণহত্যায় জড়িত অপরাধীদের অনেকে দম্ভ নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বেশিরভাগ লুণ্ঠিত সম্পদ সঙ্গে নিয়ে নিরাপদে দেশের সীমা অতিক্রম করে পালিয়েছে। কেউ কেউ নামমাত্র গ্রেপ্তার হলেও সহজে জামিন পেয়ে যাচ্ছে কিংবা তাদের অপরাধের উপযুক্ত পাওয়ার শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।