রাজনীতিতে হিরো আর ভিলেনের মাপকাঠি

রাজনীতিতে হিরো আর ভিলেনের মাপকাঠি

গত কয়েক দিনে দেশের রাজনীতিতে বেশ উত্তাপ দেখা গেছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনীতির নীতি-নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে তুমুল আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে দখলদারিত্ব ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কঠোরতা; অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ও নীতিভ্রষ্ট রাজনৈতিক চরিত্রকে রাতারাতি ‘বীর’ হিসেবে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টাÑএ দুই বিপরীতমুখী বাস্তবতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শের সংকটকে আবারও খালি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে দেশি অস্ত্রে সজ্জিত শতাধিক মুখোশধারীর হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি নাগরিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের সংরক্ষিত আসনের এক সংসদ সদস্য ও কতিপয় নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়। ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই এমপি পদত্যাগে বাধ্য হন এবং পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনায় জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।

একই সময় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর, ইউটিউবার সালমানের স্টুডিও তছনছ এবং জমি দখলের ঘটনায়ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এক মেজর জেনারেলসহ ছয়জনকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার জানান দিতে চেয়েছেন যে, অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি ফেনীতে প্রদত্ত এক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন—রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন ব্যাহত করলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক চর্চার এই জটিল পটভূমিতে নতুন বিতর্ক উসকে দেয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ওমরাহ পালন শেষে আসা জামায়াত সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে উদ্যত, অশোভন ও রূঢ় আচরণ করায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। সর্বশেষ আদালতের আদেশে কারাগারে প্রেরিত হন।

আখতারুজ্জমানের ঘটনায় ভার্চুয়াল যুদ্ধে এক পক্ষ তাকে হিরো বানানোর জন্য যারপরনাই চেষ্টা করছেন। তারা বলতে চাইছেন, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরিসহ সীমাহীন অনিয়ম-ব্যর্থতার প্রতিবাদে আখতারুজ্জমান প্রবাসীদের কণ্ঠ হয়ে যথার্থ ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে অবিলম্বে মুক্তির দাবিও করা হয়েছে। বিপরীতে বলা হচ্ছে, আখতারুজ্জমান বিমানবন্দরে প্রতিবাদের নামে যা করেছেন, তা সভ্যতা-ভব্যতাবিবর্জিত। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান একজন সরকারি কর্মকর্তাকে বেঁধে পেটানোর হুমকিসহ যেসব শব্দচয়ন করেছেন, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে ভাষায় হুঙ্কার দিয়েছেনÑতা অগ্রহণযোগ্য। তাকে গ্রেপ্তার করা ঠিকই আছে বলে মন্তব্য করছেন সরকার সমর্থকরা।

আখতারুজ্জমানকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি এবং জানি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। সংসদে থাকাকালে পেশাগত কারণে তাকে কাছ থেকে দেখেছি। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সময় তার কাণ্ডকীর্তি দেখার সুযোগ হয়েছে। একাধিক টকশোতে আমার বিপরীতে তাকে পেয়েছি। একটি প্রকল্প ঘিরেও আখতারুজ্জামান আলোচনায় ছিলেন। সিনক্রিয়েট করে আলোচিত হওয়ার এক অদম্য নেশা আছে তার। বিএনপির ভেতরে বারবার বিদ্রোহ করে আবার অনুনয়-বিনয় করে ফিরেছেনও। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে আলোচনায় আসতে দেখা গেছে তাকে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা বলে গোটা রাজনৈতিক জীবনে জামায়াতকে তুলাধুনা করেছেন। বিএনপি কেন জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছিল, তার প্রতিবাদে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন একাধিকবার। শেখ হাসিনার বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়েও আলোচনায় ছিলেন। সবশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতে যোগ দিয়ে চমক দেখান। এখন ‘শহীদ’ হতে চান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে গতকাল রোববার দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আখতারুজ্জামানকে ‘মানুষের হৃদয়ের বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। স্ট্যাটাসে তিনি আখতারুজ্জামানের ভুল শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন। ‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’ শিরোনামে স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘জনগণ অন্ধ নয়, সবই দেখছে। কার্যত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তিনি বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের হৃদয়ের বীরে পরিণত হয়েছেন।’

কথা হচ্ছে, বিমানবন্দরের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ কি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান একা করেছেন? হরহামেশাই তো যাত্রীরা বিমানবন্দরে লাগেজপ্রাপ্তিতে হয়রানি, সময়ক্ষেপণ ও কাস্টমসের হাতে হেনস্তা নিয়ে প্রতিবাদ জানান। সামাজিকমাধ্যমে এ ধরনের অনেক ভিডিও এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। সমস্যাটা হয়েছে আখতারুজ্জামানের উগ্র ও উদ্যত আচরণ। তিনি স্বভাবসুলভ সিনক্রিয়েট করে আলোচিত হতে গিয়ে সীমা লংঘন করেছেন কি নাÑসেটি জামায়াত নেতৃত্ব বিবেচনায় নিতে পারতেন।

আবার সরকার বিষয়টিকে যেভাবে হ্যান্ডেল করেছে, তাতে আখতারুজ্জামানের লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অতীত সামনে এনে যেভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে, সেভাবে জবাব দেওয়াই যথেষ্ট ছিল। মামলা ও গ্রেপ্তারে তার বিতর্কিত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কিছু পয়েন্ট যুক্ত হয়েছে বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন সৎ নেতৃত্ব, নীতি-নৈতিকতা ও জুলাই বিপ্লবের রক্তস্নাত পটপরিবর্তন নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তখন একজন চরম বিতর্কিত ও দলছুট নেতাকে নিয়ে জামায়াতের উৎসাহ দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—জাতীয় সংকট ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মোড়ে বারবার অবস্থান পরিবর্তনকারী, নীতিহীন কর্মকাণ্ড ও লাগামহীন মন্তব্যের জন্য পরিচিত একজন ব্যক্তি কীভাবে সমাজে ‘বীর’ হিসেবে গণ্য হতে পারেন?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) টিকিটে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে একদা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবনের সিংহভাগই কেটেছে তীব্র বিতর্ক আর অসদাচরণের ছায়ায়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করা এবং টকশো, সামাজিক ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অপরাধে তাকে বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কার করা হয়।

বাংলাদেশে কোনো একক রাজনৈতিক দল থেকে কোনো নেতাকে পাঁচ-পাঁচবার বহিষ্কার করার ঘটনা বিরল। ১৯৯৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে দল থেকে পদচ্যুত বা কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। বিএনপি যখন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন বা গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল, তখন মেজর আখতারের রাজনৈতিক বক্তব্য প্রায়ই দলীয় সিদ্ধান্তের চরম বিপরীতে দাঁড়িয়েছে।

দলের গঠনতন্ত্র অমান্য করে নিজের খেয়াল-খুশিমতো বক্তব্য দেওয়া এবং শেখ হাসিনা সরকারের ফাঁদে পা দিয়ে বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল করার অপচেষ্টার দায়ে সবশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালের বিভিন্ন সময় তাকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। রাজনৈতিক স্থায়িত্ব ও আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা এবং গণমাধ্যমের খবরের শিরোনাম হওয়াই যে তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল, তা মেজর আখতারের রাজনৈতিক জীবনপঞ্জি দেখলেই স্পষ্ট হয়।

২০০৮-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত একদলীয় ও প্রহসনের নির্বাচনগুলোকে যখন দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলো বয়কট করছিল, তখন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বারবার সেই পাতানো নির্বাচনে অংশ নিতে উদগ্রীব ছিলেন। বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপির স্পষ্ট বয়কটের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়ার এ প্রক্রিয়ায় তার অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের নজর এড়ায়নি। গণমাধ্যমে দেওয়া তার বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও প্রচারণায় বিরোধী দলকে খাটো করা এবং শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থার প্রতি পরোক্ষ নমনীয়তা প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি নিজের স্বৈরাচার তোষণকারী নীতিই প্রকাশ করেছিলেন।

নির্বাচনি প্রচারের সময় স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরে ধরে শায়েস্তা করার হুমকি এবং নিজেকে আইন ও নিয়মের ঊর্ধ্বে ভাবার মনোভাব ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। তার এ ধরনের সুবিধাবাদী রাজনীতি শুধু বিরোধী আন্দোলনের নীতিকেই আঘাত করেনি, বরং কিশোরগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি কর্মী ও সাধারণ মানুষের মনেও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান যখন পুরো বাংলাদেশকে এক নতুন ভোরে উপনীত করে, যখন হাজারো ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত করে, তখনো মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ও প্রশ্নবোধক। আন্দোলন চলাকালীন বিভিন্ন টকশো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া বক্তব্যগুলো ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে নিরুৎসাহিত করেছিল। শেখ হাসিনার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আন্দোলনরতদের ‘রাজাকার’ হিসেবে ট্যাগ দিয়েছেন। তিনি স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়নকে পরোক্ষভাবে যুক্তিসিদ্ধ করার চেষ্টা করেন এবং ছাত্র আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেন। একটি ঐতিহাসিক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে দাঁড়িয়ে একজন সামরিক কর্মকর্তা ও সাবেক রাজনীতিক হিসেবে দেশের নির্যাতিত মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে তিনি উল্টো আন্দোলনকারীদের মনোবল ভাঙার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন।

এ ধরনের বৈচিত্র্যময় ও বিতর্কিত অতীতের অধিকারী একজন ব্যক্তিকে যখন ‘হিরো’ বানানোর চেষ্টা হয়, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর বিষাদের সৃষ্টি করে। জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে যখন সততা, নৈতিকতা ও বিপ্লবের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটছে, তখন সুবিধাবাদ ও নীতিহীনতার মূর্ত প্রতীককে বীর হিসেবে তুলে ধরা চরম নীতিগত পরাজয় নির্দেশ করে।

রাজনীতিতে সাময়িক মিত্রতা বা কৌশলের খাতিরে অসৎ ও নীতিহীন চরিত্রকে বাহবা দেওয়ার এই সংস্কৃতি দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে ব্যাহত করে। একজন বারবার বহিষ্কৃত ও নীতিভ্রষ্ট ব্যক্তি কখনো কোনো সমাজ বা জাতির কাছে অনুপ্রেরণা হতে পারেন না। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুগে যুগে যেসব রাজনীতিবিদ বা ব্যক্তিত্ব স্বার্থের প্রয়োজনে আদর্শ বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের স্থান শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই হয়েছে। আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘আপনি কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানিয়ে রাখতে পারেন, এমনকি সব মানুষকেও কিছু সময়ের জন্য বোকা রাখা সম্ভব; কিন্তু সব মানুষকে চিরকাল বোকা বানিয়ে রাখা যায় না।’

নীতিহীন রাজনীতি ও রাজনৈতিক অসাধুতা নিয়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের উক্তিটিও এ ক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘যে নেতা নিজ দলের নীতি বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থের পেছনে ছোটেন, তিনি দেশের বন্ধু নন, বরং শত্রুর দালাল।’

প্রকৃত হিরো তিনি, যিনি সংকটে নীতি বিসর্জন দেন না; বীর তিনি, যিনি ক্ষমতার লোভ ও স্বৈরাচারের প্রলোভনকে তুচ্ছ করে জনতার কাতারে দাঁড়ান। বারবার দল পরিবর্তন, স্বৈরাচারী নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রহসনকে বৈধতা দেওয়া এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা ব্যক্তি কোনোভাবেই জাতীয় বীরে পরিণত হতে পারেন না। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য যাদের পদায়ন করা হয়, তারা সাময়িক বাহবা পেলেও ইতিহাসের আক্ষরিক বিচারে তারা সুবিধাবাদী হিসেবেই থেকে যান। এখন জনগণের জন্য শহীদ হতে চাইলেও তার মধ্যে কতটা ব্যক্তিগত লাভালাভ আর কতটা রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতা রয়েছেÑতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। বাংলাদেশকে একটি পরিচ্ছন্ন, নীতিভিত্তিক ও সাম্যের রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে চরিত্রহীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সুবিধাবাদীদের কঠোরভাবে বর্জন করাই প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

লেখক: যুগ্ম সম্পাদক, আমার দেশ ও রাজনীতি বিশ্লেষক

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন