শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুর্নীতি, অর্থ লুটপাট এবং অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে, যা দেশের বিভিন্ন খাতে সমালোচিত হয়েছে। যদিও সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উন্নয়নের ত্বরান্বিত পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেছে, তবে কিছু ঘটনা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্যাংক খাতে লুটপাট
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি : বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বেসিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক কেলেঙ্কারি : সোনালী ব্যাংকের হেলথ অ্যান্ড হোপ গ্রুপের নামে প্রায় ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি।
আইএলএফএসএল কেলেঙ্কারি : আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ।
ইসলামী ব্যাংক কেলেঙ্কারি : ২০২২ সালে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংক একাধিক অস্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের নামে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
এস আলম গ্রুপের মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঋণের বেশির ভাগই হয় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে, নয়তো অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, এস আলম গ্রুপ তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এসব ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ। শেখ রেহানার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, কারণ তার পরিবারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উঠেছে।
বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি
কুইক রেন্টাল প্রকল্প : বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত পূরণে শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল স্বল্প মেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি করা।
উচ্চমূল্য : এই প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সরকারের ওপর বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও রেন্টাল কোম্পানিগুলো ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছে। প্রকল্পে নিয়োজিত অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালীদের মালিকানাধীন বলে অভিযোগ। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অনেকগুলোই নিম্নমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
ক্যাপাসিটি চার্জ কী?
ক্যাপাসিটি চার্জ এমন একটি খরচ, যা বিদ্যুৎ না কিনলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে হয়।
অনিয়ম : সরকার অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কেনার প্রয়োজন না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন : বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দরপত্র ছাড়াই কাজ পেয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা প্রভাবশালীরা বেশি সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ। বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তিতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তি এবং তাদের পক্ষে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বাজেট ও প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় : বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পগুলোয় বরাদ্দকৃত বাজেট প্রায়ই প্রকল্পের বাস্তবিক খরচের চেয়ে বেশি বলে অভিযোগ। উদাহরণস্বরূপ, কিছু বিদ্যুৎ প্রকল্পে যন্ত্রপাতির দাম অতিরিক্ত দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের খরচ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাজেট নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। এই প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ এবং অস্বাভাবিক খরচ, যেমন অতিরিক্ত মূল্যায়িত আসবাবপত্র, দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। এই প্রকল্পে টাকা পাচারের অভিযোগও উঠেছে।
বেক্সিমকো গ্রুপের আর্থিক কেলেঙ্কারি : বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ এবং ঋণ মওকুফ করিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমালোচনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ এবং গ্যাস খাতে সুবিধা : সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে একাধিক প্রকল্পে সরকারি চুক্তি পেয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে বেক্সিমকোকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে আধিপত্য : বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের বাজারে প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে একচেটিয়া সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আমদানির ক্ষেত্রে বেক্সিমকোর প্রভাব এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে অতিরিক্ত দাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পুঁজিবাজারে কারসাজি : সালমান এফ রহমানের নাম ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের পুঁজিবাজার ধসের পেছনে যুক্ত থাকার অভিযোগে উঠে এসেছে।
সালমান এফ রহমানের সঙ্গে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তার পরিবারকে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে ওঠে। বেক্সিমকোর বিভিন্ন প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সালমান এফ রহমান এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনগুলোয় দেখা যায়, তার নাম বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারে জড়িতদের তালিকায় এসেছে। বিদেশে তার মালিকানাধীন বিভিন্ন সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গণমাধ্যমের নীরবতা : প্রচলিত মিডিয়া তার প্রভাব এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের কারণে এসব বিষয়ে নীরব থাকে বলে সমালোচকদের দাবি।
সামিট গ্রুপের কেলেঙ্কারি
সামিট গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার অভিযোগে সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।
বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় ঋণ পুনঃতফসিল এবং মওকুফের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তাও দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এবং কার্যকর হয়নি।
সামিট পাওয়ারের বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহের দাম বেশি রাখা এবং অতিরিক্ত ভর্তুকি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সামিট গ্রুপ তার কিছু প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। সামিট গ্রুপ সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ পেতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষভাবে, গ্রুপটি অফিশিয়াল দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে কাজ পেয়েছে এবং এতে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারও নাম রয়েছে। সামিট গ্রুপের কিছু বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত পরিবেশগত শর্তাবলি মেনে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা এবং সঠিক পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) না করায় গ্রুপটির বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়েছে।
মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ
পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ : প্রকল্পের খরচ বৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমদিকে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা, যা পরে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অস্বাভাবিক খরচ বৃদ্ধি প্রকল্পে দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। বিশ্বব্যাংক ২০১২ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।
অভিযোগ করা হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কানাডার কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের মাধ্যমে ঘুষ দেওয়া হয়েছে। কানাডার একটি আদালতে তদন্ত হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে মামলা খারিজ হয়।
জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি : পদ্মা সেতু প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়।
নির্মাণসামগ্রীর অতিরিক্ত দাম : প্রকল্পে ব্যবহার হওয়া নির্মাণসামগ্রীর দাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেতুর নির্মাণ উপকরণ, যেমন : পাইলিং, স্টিল, এবং কংক্রিটের খরচকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে।
সমালোচকরা মনে করেন, পদ্মা সেতুর ব্যয়বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই। একটি এত বড় প্রকল্পে স্বাধীন নিরীক্ষা এবং তদারকির অভাব দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে অনেকে দাবি করেন। সেতু নির্মাণে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
দুর্নীতির অভিযোগ : ২০১৯ সালে একটি সরকারি অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায় : প্রতিটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। বালিশের কভার পরিবহনে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। পর্দার রড স্থাপনে প্রতিটির খরচ প্রায় ১ লাখ টাকার বেশি। সাধারণ আসবাবপত্র এবং সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক দাম দেখানো হয়। প্রকল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ঠিকাদার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় ঠিকাদারদের যোগসাজশের মাধ্যমে খরচ বৃদ্ধি করার অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং পুনর্বাসনে ক্ষতিপূরণের হিসাবেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের মোট খরচ বাড়ছে, তবে এই বৃদ্ধি নিয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছ ব্যাখ্যা নেই। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি এবং সরঞ্জাম আমদানির খরচের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
কক্সবাজার রেল প্রকল্প
প্রকল্পটির প্রাথমিক বাজেট ছিল ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা, যা বারবার পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে। সমালোচকরা দাবি করেন, বাজেট বৃদ্ধি দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি তহবিল অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। রেললাইন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের অনিয়ম ও দরপত্র প্রক্রিয়ার জটিলতাও বিলম্বের জন্য দায়ী। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের সময় নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রেলপথ নির্মাণের কাজ তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর অদক্ষতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের বেশ কয়েকটি অংশে নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়ম এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণের অভিযোগ উঠেছে। জমির মূল্য বেশি দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে দুর্নীতি
প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া এবং ঠিকাদারি চুক্তি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অনেকের মতে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংযোগ ছিল এবং এটি স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়ায় হয়নি। চীনা কোম্পানি CCCC-এর সঙ্গে সরকারের চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত চুক্তির শর্তাবলি এবং অস্বচ্ছ ফিন্যান্সিয়াল লেনদেন বিষয়েও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি এবং ক্ষতিপূরণের জন্য অর্থের অস্বচ্ছ বণ্টন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় স্থানীয় জনগণের ক্ষতিপূরণে অনিয়ম এবং অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটেছে, যা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। প্রকল্প এলাকার কিছু পরিবার অভিযোগ করেছে, তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি বা দেরিতে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বাজেট প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এবং কাঠামো সম্প্রসারণের ফলে বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা হয়ে যায়। এই বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় ঘটানোর জন্য দুর্নীতিগ্রস্ত পক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে করা হয়। প্রকল্পের নির্মাণকাজের সময় নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে দুর্নীতি এবং অবহেলার অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং ব্যাংক খাতে দুর্নীতি ও লুটপাট দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যদিও সরকার এসব ক্ষেত্রে উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করেছে, তবে জবাবদিহির অভাব এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। লুটপাট বন্ধে স্বচ্ছতা ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
লেখক : সিনিয়র ফেলো, সিআইপিজি নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি
Email:marashid426@gmail.com
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

