এ দেশের এক সূর্যসন্তান এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর এমএ জলীল বলে গেছেন, অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা! আর আমাদের স্বাধীনতাকে অরক্ষিত করতেই এরশাদ, মইন ইউ, জেনারেল মাসুদ এদের অনেক আগে থেকেই গ্রুম করা হয়েছিল! এই কুলাঙ্গারদের স্নায়ুগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে (হানি-ট্র্যাপ ও মানি-ট্র্যাপের মতো কৌশল প্রয়োগ করে) দেশের শত্রুরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোয় অনুপ্রবেশের সুযোগ পেয়েছে—এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। এর ফলেই রাষ্ট্রীয় স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশ দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে পড়ে গেছে। এসব কারণেই আগামী কয়েকটি টার্ম জাতীয় সরকার গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।
আজকের গ্লোবাল ভিলেজটি সত্যি ভয়ংকর কিছু মাস্তানের হাতে পড়ে গেছে! একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে অন্য একটি দেশ! পৃথিবী আবার ‘জোর যার, মুলুক তার’ নীতিতে ফিরে যাচ্ছে। এক বিশ্ব-মাস্তানের হাতে পড়ে বড় শক্তিগুলো যা খুশি করছে আর ছোট ও মাঝারি দেশগুলো ক্রমেই আরো অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
বাবা মারা যাওয়ার পর এক ছেলে জোরে শব্দ করে কাঁদছে। তার কান্নায় বিরক্ত হয়ে প্রতিবেশীরা বলছে, এই বুইড়া ছেলে এভাবে কাঁদছে কেন? তখন ছেলেটি বলে, ‘আমি তো শুধু আমার বাপের জন্য কাঁদছি না। জম যে বাড়ি চিনে গেল, সে জন্যই আমার কান্না থামছে না!’ কাজেই ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্টের জন্য শুধু ভয় লাগছে না, আমাদের পাশেও এ রকম ট্রাম্প তৈরি হয়ে যেতে পারেÑআতঙ্কটি এ কারণেই!
এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার একমাত্র পথ হলোÑশক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, বিশ্বস্ত মিত্রদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক শক্ত ভিত, জনসচেতনতা ও তথ্যযুদ্ধ মোকাবিলা, শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এগুলো না করে শুধু রবীন্দ্রচর্চা বাড়ালে কোনো লাভ হবে না। দরকার পড়লে ঘাস খেয়ে হলেও সামরিক সরঞ্জাম বাড়াতে হবে, দেশের সক্ষম সব পুরুষকে না হলেও এক কোটি যুবককে সামরিক ট্রেনিং দিয়ে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখতে হবে!
তার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজনÑইস্পাত-কঠিন জাতীয় ঐক্য
জাতীয় প্রতিরক্ষা বিবেচনায় অভ্যন্তরীণ বিভাজনই একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় পারস্পরিক মতভেদ থাকলেও রাষ্ট্রের অস্তিত্বের স্বার্থে ন্যূনতম ঐক্য অপরিহার্য। ৫৪ বছরে এই জাতীয় ঐক্যের ভিত রচনা করতে দেওয়া হয়নি। আজ গভীরভাবে খুঁজে দেখতে হবে সেসবের পেছনে কারা মূল রসদ (Bags of Cash and Advice) জুগিয়েছে, কারা তাতে হাওয়া দিয়েছে এবং কারা ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করেছে। এটা করতে ব্যর্থ হলে স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে! মাই কান্ট্রিমেন! প্লিজ ওয়েক আপ!
এ ব্যাপারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়টুকুতেও এই ঐক্যের সর্বোত্তম নমুনা আমরা দেখেছি! তবে তার দুটি কাজ পরে মারাত্মক ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। শুধু তাই নয়Ñসেই ভুলের খেসারত তাকে নিজের জীবন দিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে। তার মধ্যে প্রথমটি হলো, লম্পট এরশাদকে প্রধান সেনাপতি বানানো। দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিয়ে খাল কেটে কুমির আনা। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ১৪ দিনের মাথায় প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হয়েছিলেন! কাজেই একই ভুলের রিপিটেশন যাতে না হয়, তাই অত্যন্ত নির্মোহভাবে আমাদের ইতিহাসের এই পৃষ্ঠাগুলো পাঠ করতে হবে!
এর পরের চল্লিশ বছর বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা দেশের সামগ্রিক রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন! দুর্ভাগ্য আমাদের, দুর্ভাগ্য ব্যক্তি খালেদা জিয়ার—তিনি এমন একজন সাইকো প্রতিপক্ষ পেয়েছিলেন, যার কারণে অত্যন্ত অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে তাকে ‘দুই মহিলা’ নামক এক বিষাক্ত ব্র্যাকেটে বন্দি করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার মতো একজন মহীয়সীকেও নামিয়ে আনা হয়েছিল প্রায়ই বস্তির খিস্তি তোলা একজন অত্যন্ত নিম্নরুচির মহিলার স্তরে। এখান থেকেই এক-এগারোর নৈতিক রসদ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তথাকথিত সিভিল সোসাইটিকে ‘সুশীল সমাজ’ নামে ব্র্যান্ডিং করে যে বুদ্ধিবৃত্তিক ইতরামো চালানো হয়েছিল, তার ক্ষত আজও আমাদের জাতীয় মনোজগতে দগদগে হয়ে বিরাজ করছে।
এ দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে খুবই ইটারেস্টিং একটি ফেনোমেনা লক্ষ করা যেত। অগত্যা যখন শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে সমালোচনা করা জরুরত হয়ে পড়ত, তখন সুশীল নামে এই বিশিষ্টজন পুরো রাজনীতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিতেন। তখন একটা মেকি নিরপেক্ষভাব ধারণ করে বলতেন আর বলবেন না ভাই, এই ‘দুই মহিলা’ সব অনিষ্টের মূল। এই প্রক্রিয়ায় হয় বিশেষ চেতনা জাতিকে গেলাতেন অথবা তা না পারলে বিরাজনীতিকীকরণের বীজ জাতির মনোজগতে ঢুকিয়ে দিতেন!
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন তখন তুঙ্গে। সরকারের বিভিন্ন বাহিনী নিজেরাই যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে এর দোষ বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপাচ্ছে। সরকারের অনুগত মিডিয়া ঝাঁক বেঁধে এমবেডেড জার্নালিজমের স্টাইলে সরকারের ‘আগুন-সন্ত্রাস’ বয়ানকে প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যস্ত। তথাকথিত মূলধারার প্রায় নব্বই ভাগ গণমাধ্যম তখন সরাসরি সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিরোধী দলগুলোকে ‘আগুন-সন্ত্রাসী’ বলে অভিযুক্ত করতে থাকে।
এ রকম একটা মোক্ষম সময়ে ডেইলি স্টার তার নিরপেক্ষ(?) অবস্থান থেকে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে একটি কার্টুন ছাপে। তাতে দেখানো হয়, শেখ হাসিনার চেয়ারের নিচে একটি বাস দাউ দাউ করে জ্বলছে। শেখ হাসিনা চেয়ারে বসে একটি পাখা দিয়ে সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন আর বলছেন, হেল্প-হেল্প। আর তার সামনে একটি পেট্রলবোমা নিয়ে খালেদা জিয়া বসে আছেন! খালেদা জিয়ার মাথা থেকে বিচ্ছুরণ হচ্ছেÑ‘মাই চেয়ার’ ভাবনাটি। সেই কার্টুনের ওপরে পাঠকদের টার্গেট করে প্রশ্নÑWhat do you think can make the blickering top two reach a truce?’ অর্থাৎ আপনার মতে ঝগড়ায় লিপ্ত শীর্ষ দুই নেতাকে কী বিষয় একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে? এসবই ছিলÑপ্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট, যা আপনার বোবা উপলব্ধিতে ধরা পড়লেও কিছুই বলতে পারবেন না।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের এ রকম শত শত সংবাদ, শিরোনাম ও কার্টুন রয়েছে স্রেফ জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে! ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তারিখে শিরোনাম করেছিল, দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলেকে বাঁচানো খালেদার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল (Protecting corrupt son Khaleda's biggest political mistake)। পরের দিন লিখল, খালেদার পতন হয়েছে নিজের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে (Khaleda failed by saving corrupt son)। ২০১৪ সালের পর ১৭ জুন তারিখে শিরোনাম করেছিল, তারেক ভুল ইতিহাসে বিশ্বাস করে (Tarique believes in wrong history)! ২০০৮ সালের ডিসেম্বর, যেদিন নির্বাচন হয়েছিল, সেদিন প্রথম আলো ছাপাল কোকোর মানি লন্ডারিংয়ের সেই তরতাজা খবরটি। অর্থাৎ এই গরম খবরটি দেখতে দেখতেই দেশবাসী সকালবেলা ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন! কী চমৎকার টাইমিং! ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম আলো শিরোনাম করল, ‘তারেক-কোকো সৎ হলে অসৎ কে?’
আরাফাত রহমান কোকোকে যারা ব্যক্তিগতভাবে জানতেন, তারা সহজেই উপলব্ধি করতে পারছেন যে মিডিয়ার এসব পরিকল্পিত ও মতলববাজ অপপ্রচার তার মতো একজন ব্যক্তির ওপর কী গভীর মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি করেছিল! তিনি ছিলেন ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সহজ-সরল, রাজনীতি থেকে সচেতনভাবে দূরে থাকা ও নির্ঝঞ্ঝাট জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন মানুষ। স্বভাবগতভাবে ইন্ট্রোভার্ট এই ব্যক্তিত্ব রাজনীতির কোলাহল ও সংঘাত এড়িয়ে চলতেন। খেলাধুলা ছিল তার প্রধান আগ্রহ ও ব্যস্ততার জগৎ।
ঠিক এমন একজন নরম দিলের মানুষকে লক্ষ করে যখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হলো, তখন তা তার মানসিক ভারসাম্যে গভীর আঘাত হানে। কাজেই কোকোর মৃত্যুর জন্য শেখ হাসিনা ৫০ ভাগ দায়ী হলে বাদবাকি প্রায় ৫০ ভাগের দায় পড়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর!
‘দুই বেগমের ঝগড়া’, ‘দুই মহিলার জন্য দেশ রসাতলে’—এই বাক্যগুলো আমরা শুনেছি তথাকথিত নিরপেক্ষ মহল থেকেই। যারা নারীদের পক্ষ নিয়ে পুরুষতন্ত্র বলে বলে মুখে ফেনা তুলতেন, তারাই আবার এই কোরাসে শামিল হয়েছেন। এটি ছিল এক ভয়াবহ চিকিৎসাপদ্ধতি—দাঁতের একটি পাটিতে ব্যথা হলে সেখানে চিকিৎসা না করে দুই পাটির সব দাঁত উপড়ে ফেলা। এই বুদ্ধিবৃত্তিক বর্বরতার নামই ছিল এক-এগারো।
পরে আরো ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি আমরা। দেখা গেল, ব্যথাযুক্ত দাঁতের পাটিটি দিব্যি বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে; বরং সুস্থ দাঁতের পাটিটিকেই উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারগং। বিদেশিরা বাংলাদেশকে দেখে ডেইলি স্টারের চোখ দিয়ে—আর সেই সুযোগটি পুরোদমে কাজে লাগিয়েছেন মাহফুজ আনাম।
আপনাদের হয়তোবা স্মরণে আছে যে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পরপরই শেখ হাসিনা বলেছিলেন, একদিনের তরেও এ সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেব না। তিনি কার্যতও সেটাই করেছিলেন। আসলে তাকে এই অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেট করা হয়েছে। নিজের ইচ্ছায় সম্ভবত সব কাজ করেননি। আর এই কাজটিও তিনি করেছিলেন তার প্রভুর (স্বামী) ইশারায়। এ কারণে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার অনেক প্রচেষ্টা খালেদা জিয়া, এমনকি তারেক রহমান গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এই পাপেটের অসহযোগিতায় তা সম্ভব হয়নি।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির অন্তরায়গুলো স্পষ্ট হয়েছে। এখনো আগের সেই অশুভ শক্তি আমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির সেই প্রচেষ্টাটি বন্ধ করেনি! তাদের নিয়োগকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অনুচররা নিজ নিজ জায়গা থেকেই কাজ করে যাচ্ছে! আগের নমশূদ্র বিএনপিকে আবার ব্রাহ্মণ হিসেবে অভিনয় করানোর কোশেশ শুরু হয়ে গেছে।
কিন্তু তারেক রহমান দেশে আসার পর তার কিছু পদক্ষেপ আধিপত্যবাদী শিবিরে অ্যালার্ম বাজিয়ে দিয়েছে! সদ্য মা হারানো তারেক রহমানকে সান্ত্বনা দিতে ডা. শফিক তার কাছে গিয়েছিলেন এবং রহমান যখন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিশেষ সম্মান দিয়ে হাইচেয়ারটি শেয়ার করেছিলেন। এই দৃশ্যটি কি নিছক সৌজন্য নাকি এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি সম্ভাব্য সুন্দর চিত্র? আমাদের রাজনীতি কি তাহলে খালেদা-হাসিনা যুগ থেকে নতুন তারেক-শফিক যুগে প্রবেশ করে ফেলল?
এই প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমান ও ডা. শফিকের সাম্প্রতিক আচরণ আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, কিছুটা সতর্ক আশাবাদীও করে তুলেছে! ওনারা দুজন ইচ্ছে করলেই এই জাতির ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।
তারেক রহমান তার প্রতিপক্ষকে যে সম্মানটুকু দেখিয়েছেন, তা শুধু ব্যক্তিগত ভদ্রতা নয়; এটি সামনের রাজনীতির একটি সভ্য, পরিণত রূপরেখা। নির্বাচনের আগে আগে তিক্ততার পরিমাণ হয়তো বাড়বে—এটাই রাজনীতির বাস্তবতা। কিন্তু তারপরও এক হয়ে কাজ করতে হবে। কারণ বিরোধী দল মূলত সরকারেরই একটি অংশ। গণতন্ত্রে বিরোধী দল শত্রু নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার।
আমাদের গণতন্ত্র এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে ম্যাচিউরড হয়নি—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেই বাস্তবতায় জাতীয় সরকারই উত্তমপন্থা। নির্বাচনের পর এই জাতীয় সরকারের কথা অনেক আগেই তারেক রহমান বলেছিলেন। আজ একই কথা বলছেন ডা. শফিক। কাজেই এই প্রশ্নে এখন আর কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক দ্বিধা থাকার কথা নয়।
জাতীয় সরকার মানে ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়; জাতীয় সরকার মানে দায়িত্বের ভাগাভাগি। রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত বা দলীয় প্রতিশোধের যন্ত্র বানানো থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ এটি। যদি তারেক রহমান ও ডা. শফিক তাদের এ অবস্থানে দৃঢ় থাকেন, তাহলে এ রকম একটি জাতীয় সরকার গঠনের পথে আর বড় কোনো বাধা থাকার কথা নয়।
আমরা আসলে খুব বেশি কিছু চাই না। আমরা এটুকুই চাই—রাজনীতিতে মানবিকতা, সৌজন্য ও ন্যূনতম শালীনতা ফিরে আসুক। মতভেদ থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে; কিন্তু বিদ্বেষ ও বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা বা চাতুর্যপনার রাজনীতি বন্ধ হোক।
পরম করুণাময় আমাদের এই দেশটিকে রক্ষা করুন। আমিন!
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

