আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভারত-বাংলাদেশ পানি কূটনীতি

মুহাম্মাদ পারভেজ ইসলাম

ভারত-বাংলাদেশ পানি কূটনীতি

ভারত ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ৫৪টি অভিন্ন নদী প্রবাহিত হচ্ছে, যা আন্তঃসীমান্ত নদী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রায় সব নদীর পানিপ্রবাহ ভারত বাঁধ এবং ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ পর্যন্ত একটি মাত্র পানিবণ্টন চুক্তি হয়েছে- ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি। এই চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন বা অনুসরণ বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহের অবস্থা দেখে। অন্যদিকে বর্ষাকালে কোনো নোটিস ছাড়াই বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার ফলে ব্যাপক বন্যা দেখা যায়। বিরোধের প্রধান উৎসগুলো হলো ফারাক্কা এবং তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে পানি আটকে তা সংযোগ খালের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া এবং সব বাঁধের কারণে মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, খরার সৃষ্টি ও জলবায়ুতে নেতিবাচক প্রভাব হওয়া। পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে ভারতের মনোভাব অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আজ আমরা জাতির সবচেয়ে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। সাম্প্রতিক ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট ভারত-সমর্থিত, অবৈধ, স্বৈরাচারী, মাফিয়া এবং খুনি মনোবিকারগ্রস্ত সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে এবং ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তারপর থেকে ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্র এবং মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ব্যাপক বন্যার সম্মুখীন হয়েছে। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনা এবং কাজ করার।

বিজ্ঞাপন

বহুল আলোচিত দ্বিতীয় ব্যারাজের ধারণা, তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের প্রস্তাব, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টনের আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন জটিল আইনি, রাজনৈতিক এবং পরিবেশগত বিবেচনার সঙ্গে জড়িত। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের প্রয়োগ বিরোধ সমাধানে, ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশের প্রতি সৃষ্ট ক্ষতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারে।

১. আন্তর্জাতিক নদীর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত হেলসিঙ্কি নিয়মাবলি (১৯৬৬) : এই নিয়মগুলো আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য ও যৌক্তিক ব্যবহার এবং যেকোনো ধরনের দূষণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি প্রতিরোধের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে। এই নিয়মাবলির আর্টিকেল ৪ অনুযায়ী, ‘প্রতিটি রাষ্ট্র তার সীমানার মধ্যে আন্তর্জাতিক নদীর পানির উপকারী ব্যবহারে ন্যায্য এবং যৌক্তিক অংশ পাওয়ার অধিকারী।’

আর্টিকেল ১০(১) অনুযায়ী, ‘আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য ব্যবহারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, একটি রাষ্ট্র : (ক) যেকোনো নতুন ধরনের পানিদূষণ বা বিদ্যমান পানিদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি, যা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করবে, তা প্রতিরোধ করতে হবে; (খ) বিদ্যমান পানিদূষণ কমাতে এমন মাত্রায় যুক্তিসংগত সব ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কোনো উল্লেযোগ্য ক্ষতি না হয়।’

আর্টিকেল ১১ অনুযায়ী, ‘আর্টিকেল ১০(১)(ক)-এ বর্ণিত নিয়মের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে, দায়ী রাষ্ট্রকে বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে তার ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ আর্টিকেল ২৯ অনুযায়ী, ‘১. প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তাদের আইনি অধিকার বা অন্যান্য স্বার্থ নিয়ে বিরোধ এড়াতে, প্রতিটি রাষ্ট্রের উচিত অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে তার সীমানার মধ্যে নদীর পানির ব্যবহার ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক এবং যুক্তিসংগত সব তথ্য সরবরাহ করা। ২. একটি রাষ্ট্র, নদীর প্রবাহ বিবেচনায় তার অবস্থান যাই হোক না কেন, সেই রাষ্ট্র তার প্রস্তাবিত বিশেষ কোনো নির্মাণ বা স্থাপনার বিষয়ে অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে নোটিস দিতে হবে, যা নদীর অবস্থান পরিবর্তন করবে এবং যা আর্টিকেল ২৬-এ সংজ্ঞায়িত বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।

এই নোটিসে এমন প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, যা তথ্যগ্রহণকারীকে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করতে সক্ষম করবে।’ আইনি পদক্ষেপের জন্য আর্টিকেল ৩৪-এ বলা হয়েছে, ‘প্রস্তাবিত যে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সম্মত হয়ে তাদের আইনি বিরোধ একটি এড হক সালিশি ট্রাইব্যুনাল, একটি স্থায়ী সালিশি ট্রাইব্যুনাল বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে উপস্থাপন করবে যদি : (ক) আর্টিকেল ৩৪ অনুযায়ী একটি কমিশন গঠিত না হয়, বা (খ) কমিশন কোনো সুপারিশযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে সক্ষম না হয় বা (গ) সুপারিশকৃত সমাধান সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো দ্বারা গ্রহণ করা না হয় এবং (ঘ) অন্যভাবে কোনো সমঝোতা না হয়।’

২. আন্তর্জাতিক জলপথের নন-নেভিগেশনাল ব্যবহার সম্পর্কিত জাতিসংঘের কনভেনশন (১৯৯৭) : এটি ২১ মে ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয় এবং ১৭ আগস্ট ২০১৪ সালে কার্যকর হয়। এটি ইউএন ওয়াটারকোর্স কনভেনশন নামেও পরিচিত। এই কনভেনশন যৌথ নদীর পানির ন্যায্য এবং যৌক্তিক ব্যবহার, উল্লেখযোগ্য ক্ষতি না করার বাধ্যবাধকতা এবং সহযোগিতার দায়িত্বকে জোর দেয়। জাতিসংঘের ভোটিং রেকর্ড অনুযায়ী, এই কনভেনশন পাস করার সময় বাংলাদেশ পক্ষে ভোট দেয় এবং ভারত বিরত থাকে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এবং ভারত এই কনভেনশনটি রেটিফাই করেনি।

৩. পানিসম্পদবিষয়ক বার্লিন নিয়মাবলি (২০০৪) : এটি হেলসিঙ্কি নিয়মাবলির উন্নীতকরণ, যা বিস্তৃত পরিবেশগত বিবেচনা এবং মানবাধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং স্থায়ী ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য ব্যবহার ও ক্ষতি না করার বাধ্যবাধকতাকে জোর দেয়। প্রাসঙ্গিক নিয়মগুলো হলো- আর্টিকেল ৮ : পরিবেশগত ক্ষতি ন্যূনতম করা- ‘পরিবেশগত ক্ষতি প্রতিরোধ বা ন্যূনতম করতে রাষ্ট্রগুলো সব উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’; আর্টিকেল ১০(১) : জলপথ রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণ- ‘জলপথ রাষ্ট্রগুলো একটি আন্তর্জাতিক নিষ্কাশন জলপথের পানির ব্যবস্থাপনায় ন্যায্য, যৌক্তিক এবং স্থায়ীভাবে অংশগ্রহণের অধিকার রাখে।’ আর্টিকেল ১২(১ এবং ২) : ন্যায্য ব্যবহার- ‘জলপথ রাষ্ট্রগুলো অন্যান্য জলপথ রাষ্ট্রের প্রতি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি না করার বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিজ নিজ সীমানার মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক নিষ্কাশন জলপথের পানিকে ন্যায্য এবং যৌক্তিকভাবে ব্যবস্থাপনা করবে। বিশেষ করে, অন্যান্য জলপথ রাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং পানির পর্যাপ্ত সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে জলপথ রাষ্ট্রগুলো জলপথের পানি এমনভাবে উন্নয়ন এবং ব্যবহার করবে, যাতে সর্বোত্তম এবং স্থায়ী ব্যবহার এবং তার থেকে সুবিধা অর্জন করা যায়।’ আর্টিকেল ১৬ : আন্তঃসীমান্ত ক্ষতি এড়ানো- ‘জলপথের পানির ন্যায্য এবং যৌক্তিক ব্যবহারের অধিকারের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিয়ে জলপথ রাষ্ট্রগুলো, একটি আন্তর্জাতিক নিষ্কাশন জলপথের পানির ব্যবস্থাপনার সময়, তাদের সীমানার মধ্যে এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে এবং প্রতিরোধ করবে, যা অন্যান্য জলপথ রাষ্ট্রের প্রতি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সৃষ্টি করে।’

আর্টিকেল ৩৪(১) : বন্যা- ‘বন্যায় সম্ভাব্য প্রভাবিত অন্যান্য রাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিয়ে রাষ্ট্রগুলো বন্যানিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।’ আর্টিকেল ৩৫(১) : খরা- ‘অন্যান্য জলপথ রাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিয়ে রাষ্ট্রগুলো খরা প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ বা হ্রাসের জন্য পানির ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে।’ আর্টিকেল ৭৩ : সালিশি এবং মামলা- ‘১. যদি এই নিয়মাবলির আর্টিকেল ৭২-এ বর্ণিত পদ্ধতিগুলো বিরোধ সমাধানে সফল না হয়, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সম্মত হবে, তাদের বিরোধ একটি এড হক বা স্থায়ী সালিশি ট্রাইব্যুনাল বা সক্ষম আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপন করতে। ২. সালিশি বা মামলার আশ্রয় নেওয়া মানে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো যেকোনো ফলাফলমূলক রায় বা সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত এবং বাধ্যতামূলক হিসেবে গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়।’

৪. আন্তর্জাতিক পরিবেশগত আইনের নীতিমালা : এটি স্থায়ী উন্নয়ন, পূর্বসতর্কতা নীতি এবং প্রজন্মান্তরীয় সমতা নিয়ে আলোচনা করে, যা আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তঃসীমান্ত ক্ষতির দায়িত্ব বিষয়ে স্টকহোম ঘোষণার নীতিমালা ২১ প্রত্যেক রাষ্ট্রের তার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকারকে স্বীকার করে জোর দেয় যে এটি আন্তঃসীমান্ত ক্ষতির দায়িত্ব দ্বারা সীমাবদ্ধ। বিশ বছর পর, নীতিমালা ২১ কে রিও ঘোষণার নীতিমালা ২-এ আবার উল্লেখ করা হয়, যেখানে শুধু ‘উন্নয়নমূলক’ শব্দটি ‘পরিবেশগত’ এবং ‘নীতিমালা’ শব্দের মধ্যে যোগ করা হয়।

৫. একই ধরনের নিয়ম এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ‘আন্তঃসীমান্ত জলপথ এবং আন্তর্জাতিক হ্রদসমূহের সুরক্ষা ও ব্যবহার সম্পর্কিত কনভেনশন’-এ বর্ণিত আছে, যা ১৭ মার্চ ১৯৯২ সালে হেলসিঙ্কিতে সম্পন্ন হয়েছিল।

উপরোল্লিখিত আইন বা নিয়মের পাশাপাশি আরো অনেক ধারা এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আলোচনা ও রায় আছে, যা উদাহরণ হিসেবে প্রযোজ্য। আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতির জন্য উপরোক্ত আইন ও নিয়মগুলো বিবেচনা করে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি, বাংলাদেশকে নিম্নলিখিত অতীতের বিষয়গুলো তদন্ত করতে হবে—

ক. উজানের সব বাঁধ নির্মাণের জন্য কোনো আলোচনা হয়েছে বা অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না?

খ. ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে কি পানি দেওয়া হয়েছে?

গ. কোনো নোটিস ছাড়া বা সময়মতো নোটিস না দিয়ে কখন কখন পানি ছেড়ে দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছে?

ঘ. পানি অপসারণের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ।

ঙ. পানি অবরোধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ।

চ. বাংলাদেশের অনুরোধে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না করা বা দেরি করার কারণে ক্ষতি হয়েছে কি না?

ছ. স্বাধীনতার পর থেকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত, দূষণ এবং অন্যসব বিষয়ে সৃষ্ট ক্ষতির মূল্যায়ন।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি কূটনীতি সহযোগিতা এবং সংঘাত জটিল ইতিহাসের মধ্যে গ্রোথিত। আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো বাংলাদেশের জন্য ন্যায্য পানিবণ্টনের সুযোগ প্রদান করলেও, ভারতের কিছু চুক্তি অনুমোদনে অনীহা এবং তার ধারণকৃত আধিপত্যবাদী পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। বাংলাদেশকে তার পানি অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও ক্ষতিপূরণের জন্য আইনি পদক্ষেপ এবং বহুপক্ষীয় কৌশল অনুসন্ধান করতে হতে পারে। এ ছাড়া বেসিনভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনার ধারণাগত পরিবর্তন রয়েছে, যা বহুপক্ষীয় পদ্ধতির মাধ্যমে অন্যান্য উজান রাষ্ট্রগুলোকে সম্পৃক্ত করে পানি চুক্তির জন্য একটি ভালো পদ্ধতি প্রণয়ন করা যেতে পারে। আর ভারত যদি তার আগের মনোভাব বজায় রেখে চলতে চায়, তবে উজানের ন্যায্য প্রাপ্য পানি ছাড়া বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে বাঁচবে, দেশ কীভাবে উন্নতি করবে, সে বিষয়ে ভাবা এবং জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করার এখনই সময়।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন