বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক মূল্যবোধ-সমৃদ্ধ ও নৈতিকতা-ভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এটি একটি সময়োপযোগী আহ্বান, যার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সহিংস অপরাধ এবং জাতীয় পর্যায়ে দুর্নীতির মতো কলঙ্কজনক বিষয়গুলো মোকাবিলা করা সম্ভব। এই নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে, কেন এবং কীভাবে মূল্যবোধ-ভিত্তিক শিক্ষা বাংলাদেশের মানবিক ও বস্তুগত উন্নয়নের পথ সুগম করতে পারে।
এমন একসময়ে তার এই মন্তব্য এলো, যখন সহিংস সামাজিক অপরাধ, অবাধ চাঁদাবাজি, ব্যাপক দুর্নীতি, তরুণদের মাদকাসক্তি, বয়স্ক বাবা-মায়ের প্রতি দুর্ব্যবহার এবং শিশুদের ওপর যৌন হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পর হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৭০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। এই দ্রুত সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করেছে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
তবে একটি মৌলিক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে—আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি শুধু যোগ্য সনদধারীই তৈরি করছে, নাকি একই সঙ্গে সৎ চরিত্রের মানুষও গড়ে তুলছে? উচ্চ শিক্ষাধারী লোকদের ব্যাপকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষিত তরুণদের সম্পৃক্ততায় সংঘটিত সহিংস অপরাধ, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দুর্নীতি, একাডেমিক অসততা, সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি এবং নৈতিক মানদণ্ডের ক্রমাবনতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই প্রশ্নের উত্তর ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রযুক্তিগত ও পেশাগত জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রে মোটামুটি সফল হলেও সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো মানবিক গুণাবলি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনেক কম গুরুত্ব দিয়েছে। অথচ এই গুণাবলিই একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষকে শুধু ডিগ্রিধারী ব্যক্তির থেকে আলাদা করে।
মূল্যবোধহীন জ্ঞান বিপজ্জনক। একজন উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী চুক্তি কারসাজি করতে পারেন; একজন চিকিৎসক রোগীকে শোষণ করতে পারেন; একজন আইনজীবী ন্যায়বিচারকে বিকৃত করতে পারেন; একজন ব্যবসায়িক নির্বাহী আর্থিক প্রতারণায় জড়িয়ে পড়তে পারেন; এমনকি একজন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন। এগুলো প্রচলিত অর্থে শিক্ষার ব্যর্থতা নয়; বরং এগুলো চরিত্র গঠনের ব্যর্থতা।
এ কারণেই বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে মূল্যবোধভিত্তিক উচ্চশিক্ষা চালু করা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কেবল এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়—‘শিক্ষার্থীদের কী জানা উচিত?’ বরং তাদের আরো একটি সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—‘শিক্ষার্থীরা কী ধরনের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে?’
বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফিনল্যান্ড তাদের শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে পারস্পরিক আস্থা, সমতা ও সহযোগিতাকে। জাপান গুরুত্ব দেয় শৃঙ্খলা, সম্মানবোধ ও দায়িত্বশীলতার ওপর। সিঙ্গাপুর তাদের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থায় চরিত্র গঠন এবং নাগরিকত্ব শিক্ষাকে সংযুক্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের গ্র্যাজুয়েট অ্যাট্রিবিউটসের মধ্যে স্পষ্টভাবে নৈতিকতা, টেকসই উন্নয়ন, নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা একটা নতুন ধারণা হলেও ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বহু দার্শনিক এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘শিক্ষা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক গুণাবলিও বিকশিত করে।’ কনফুসিয়াসের মতে, ‘শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত নৈতিক উৎকর্ষ ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা।’ আল-গাজ্জালি বলেছেন, ‘নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান কখনোই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান হতে পারে না।’ আর মহাত্মা গান্ধীর ভাষায়, ‘প্রকৃত শিক্ষা মানুষের দেহ, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশ ঘটায়।’
এই অভিজ্ঞতাগুলো প্রমাণ করে, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা কখনোই একাডেমিক উৎকর্ষের বিকল্প নয়; বরং এটি একাডেমিক উৎকর্ষকে আরো সমৃদ্ধ ও অর্থবহ করে তোলে।
বাংলাদেশেরও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা বা প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নয়। বরং এটি এসব শিক্ষাকে আরো শক্তিশালী করে, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে অর্জিত জ্ঞান নৈতিক ও দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করা হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি দৃঢ় নৈতিক ভিত্তি এবং সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে বের হয়, সেটিই হওয়া উচিত উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সুতরাং, মূল্যবোধের শিক্ষা একটি মাত্র ঐচ্ছিক নৈতিকতা বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়; বরং প্রতিটি বিষয়ে এবং প্রতিটি পাঠ্যক্রমে তা সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের পেশাগত নৈতিকতা, জননিরাপত্তা এবং প্রকৌশলীর সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে রোগীর মর্যাদা, রোগীর অধিকার, গোপনীয়তা রক্ষা, অবগত সম্মতি (Informed Consent), সহমর্মিতা এবং মানবিক আচরণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ব্যবসায় শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের করপোরেট সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়িক দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে। ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের মূল্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজেদের মধ্যেই সেই মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে, যা তারা শিক্ষার্থীদের শেখাতে চায়।
শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বক্তৃতার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং শিক্ষকদের আচরণ থেকে অনেক বেশি শিক্ষা লাভ করে। যদি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যদি পদোন্নতিতে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার অভাব থাকে, যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের শাস্তি না হয় এবং যদি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা অনুপস্থিত থাকে, তবে শিক্ষার্থীরা ভুল বার্তা গ্রহণ করবে। যে বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই অনৈতিক কর্মকাণ্ড সহ্য করে, সে বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই শিক্ষার্থীদের সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও নৈতিকতার শিক্ষা কার্যকরভাবে দিতে পারে না।
শিক্ষকদেরও একটি বিশেষ ও অনন্য দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি একটি মহান ব্রত (vocation)। একজন শিক্ষক কেবল জ্ঞান প্রদান করেন না; তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তা, চরিত্র এবং মূল্যবোধ গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন। তাই প্রত্যেক শিক্ষকই একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব (Role Model), যার আচরণ, নৈতিকতা এবং জীবনদর্শন শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। পেশাদারত্ব, সময়ানুবর্তিতা, সততা, নিরপেক্ষতা, গবেষণায় নৈতিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক দায়িত্ববোধ—এসবকে শিক্ষকের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে; এগুলো কোনো ঐচ্ছিক ব্যক্তিগত গুণ নয়।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় তাই মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় কাঠামো (National Framework) গ্রহণ করা প্রয়োজন, যা কয়েকটি পরস্পর-সম্পর্কিত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে থাকবে—প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট মূল্যবোধ ও অভীষ্ট লক্ষ্য (Vision), পাঠ্যক্রমে মূল্যবোধের সমন্বয়, শিক্ষকদের পেশাগত ও নৈতিক সক্ষমতা উন্নয়ন, নৈতিক সুশাসন, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ, সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং ধারাবাহিক মাননিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন।
এই লক্ষ্যে একাডেমিক লিডার ও নীতিনির্ধারকেরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসূচিতে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা সংযুক্ত করা; একাডেমিক সততা (Academic Integrity) নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নীতি প্রণয়ন; শিক্ষকদের জন্য নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; স্নাতক পর্যায়ে সমাজসেবামূলক শিক্ষা (Service Learning) ও কমিউনিটি এনগেজমেন্টকে উৎসাহিত করা; অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থায় গ্র্যাজুয়েট অ্যাট্রিবিউটসকে অন্তর্ভুক্ত করা; বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ও প্রশাসন নিশ্চিত করা; শিক্ষার্থী কাউন্সেলিং ও মানসিক সুস্থতা-সংক্রান্ত সেবা জোরদার করা; এবং উচ্চশিক্ষায় নৈতিকতা ও মূল্যবোধ-বিষয়ক গবেষণাকে উৎসাহিত করা।
এই উদ্যোগগুলোর সুফল শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর ইতিবাচক প্রভাব সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী হবে।
যেসব স্নাতক সততা ও নৈতিকতার মূল্য উপলব্ধি করে, তাদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক কম। যেসব পেশাজীবী মানুষের মর্যাদাকে সম্মান করে, তারা জনগণকে আরো উন্নত ও মানবিক সেবা প্রদান করে। নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যবসায়িক নেতারা টেকসই ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। নৈতিক মূল্যবোধে পরিচালিত সরকারি কর্মকর্তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেন। আর যেসব নাগরিক সহমর্মিতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা করেন, তারা সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বর্তমান বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়; বরং এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যদি সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নির্ণয় করতে শেখানো না হয় এবং ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে সততা ও নৈতিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার শিক্ষা না দেওয়া হয়, তবে কোনো দুর্নীতি দমন কমিশন, কোনো আইনগত সংস্কার কিংবা কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা একাই দুর্নীতি নির্মূল করতে পারবে না।
এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান হলো বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে শুধু কতজন স্নাতক তৈরি হলো তার ওপর নয়; বরং তারা সমাজে কী ধরনের মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং আদর্শ বহন করে নিয়ে যাচ্ছে তার ওপর। তাই মূল্যবোধভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ মানে শুধু মানবসম্পদে বিনিয়োগ নয়; এটি জাতির নৈতিক পুঁজিতে (Moral Capital) বিনিয়োগ। দুর্নীতি প্রতিরোধ, সহিংস সামাজিক অপরাধ হ্রাস এবং একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক, মানবিক ও সহানুভূতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগুলোর একটি।
এখন সময় এসেছে উচ্চশিক্ষা সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে মূল্যবোধকে স্থান দেওয়ার। কেবল জ্ঞানসম্পন্ন স্নাতক তৈরি করে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে না; আমাদের এমন স্নাতক তৈরি করতে হবে, যারা জ্ঞানের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং প্রজ্ঞার অধিকারী। তারাই হবে আগামী দিনের সৎ প্রশাসক, ন্যায়পরায়ণ বিচারক, দায়িত্বশীল চিকিৎসক, দক্ষ প্রকৌশলী, নীতিবান ব্যবসায়ী, সৃজনশীল বিজ্ঞানী, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ এবং দূরদর্শী জাতীয় নেতা।
প্রধানমন্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বানটি বাস্তবায়নের জন্য এ লেখাটা বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে।
লেখক : ওএএম পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ; অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের ইমেরিটাস অধ্যাপক; এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকার সাবেক উপাচার্য এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির প্রবাসী ফেলো
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন




