কদিন ধরে টিটিপি নামধারী জঙ্গিদের গল্প বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় শোনা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিগোপনীয় এক চিঠি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ফলেই বাংলাদেশে টিটিপির হঠাৎ উপস্থিতি এভাবে প্রকাশ পেয়ে গেছে। এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে টিটিপির হয়ে লড়াই করতে গিয়ে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার কথা মিডিয়ায় এসেছিল।
নিহতদের মধ্যে মাদারীপুরের ফয়সাল, গোপালগঞ্জের রতন ঢালি এবং সাভারের জুবায়েরের পরিচয় জানা গিয়েছিল। তাছাড়া মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়েও কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণের টিটিপি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের খবর সংবাদপত্রে পড়েছিলাম। এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা অবশ্য প্রমাণিত হয়নি।
এদের সবাই নাকি উগ্র অনলাইন প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়েছিল। সম্প্রতি পুলিশের নথি ফাঁসের মাধ্যমে দেশের মধ্যে টিটিপির উত্থানের যে খবর মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে তা সত্যি হলে অনেক বেশি বিপদের কথা। বলা হচ্ছে, টিটিপি নাকি বিমান বাহিনীতে পর্যন্ত অনুপ্রবেশ করে ফেলেছে। এ তো ভয়ংকর সংবাদ! এসব খবর বিশ্বাস করব কি না বুঝতে পারছি না।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, শেখ হাসিনা তার শাসনকালে কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক ঝামেলায় পড়লেই দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে আজ্ঞাবহ আওয়ামী পুলিশ নানান কিসিমের জঙ্গি নাটক নিয়ে হাজির হতো। ফ্যাসিস্ট শাসনের ন্যায্যতা উৎপাদনের জন্য সে সময় গ্রামের দরিদ্র মানুষজন ধরে এনে ইসলামি জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তাদের চাঞ্চল্যকর ‘জাহাজবাড়ি’ অপারেশনের মতো এনকাউন্টারে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন নির্বাচিত সরকারের তো সাবেক আমলের মতো জঙ্গিবাদের প্রোপাগান্ডার কোনো প্রয়োজন দেখি না। সুতরাং, এই আমলের গোয়েন্দা তথ্য আমাদের যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তবে প্রশ্ন হলো, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের নথি ফাঁস কীভাবে ও কাদের দ্বারা হলো, তারও একটি বিশদ তদন্ত হওয়া আবশ্যক। কোনো দেশি বা বিদেশি সংস্থা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করার জন্য এ-জাতীয় খবর ছড়াচ্ছে কি না, সেটাও জানা দরকার।
এবার পাঠকদের টিটিপি সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছি। উগ্রবাদী পশতুন নেতা বাইতুল্লাহ মেহসুদ ২০০৭ সালে তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান নামে জঙ্গিগোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেন। দলের প্রতিষ্ঠা থেকেই টিটিপি আফগান জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সুইসাইড হামলাসহ ভয়াবহ সব সন্ত্রাসী অপারেশন অব্যাহত রেখেছে। তারা নিজেদের দেওবন্দি তরিকার অনুসারী বলে দাবি করে থাকে। ২০১২ সালে মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলা এবং ২০১৪ সালে পেশোয়ারের স্কুলে হামলা চালিয়ে ৮ থেকে ১৮ বছরের ১৩২ ছাত্রছাত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার জন্য টিটিপিকেই দায়ী করা হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানে অসংখ্য সন্ত্রাসী ঘটনার দায় টিটিপি বিভিন্ন সময় স্বীকার করেছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে টিটিপির জঙ্গি তৎপরতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জঙ্গিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের যুদ্ধ বেধেছে। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে টিটিপির প্রধান ঘাঁটি অবস্থিত। জঙ্গি সংগঠনটির বর্তমান নেতার নাম নুর ওয়ালি মাসুদ। এর আগের তিন শীর্ষ নেতা বাইতুল্লাহ মেহসুদ, হাকিমুল্লাহ মেহসুদ এবং মোল্লাহ ফাজলুল্লাহ যথাক্রমে ২০০৯, ২০১৩ এবং ২০১৮ সালে মার্কিন মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছিলেন। আফগান তালেবানদের সঙ্গে পাকিস্তানের একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চমকপ্রদ পরিবর্তন ঘটেছে। এখন পাকিস্তানের জায়গায় ভারত তালেবান সরকারের মিত্রের স্থান দখল করে নিয়েছে। ঘটনার নাটকীয়তা বোঝানোর জন্য খানিকটা পুরোনো ইতিহাস বর্ণনা করা দরকার।
১৯৭৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনী কাবুল দখল করে নিলে পাকিস্তান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আফগানরা ‘মুজাহিদিন’ বাহিনী গঠন করে এবং দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক দশকব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত সেনাবাহিনী বিপুল ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আফগানিস্তান ত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নেরই পতন ঘটে যায়।
অপরদিকে দখলদার বাহিনীমুক্ত কাবুলে ক্ষমতার লড়াই শুরু হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৬ সালে তালেবান নেতা মোল্লাহ ওমর ক্ষমতাসীন হন। ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান দখলের পর হামিদ কারজাইকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করে। ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেলে দুই দশক পর তালেবানরা ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়। দখলদার সোভিয়েত বাহিনী ১৯৮৯ সালে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কাবুল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত, এই দীর্ঘ ৩২ বছর ভারত আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী ‘নর্দার্ন অ্যালায়েন্স’কে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে। হামিদ কারজাই এবং পরবর্তী আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিল। অপরদিকে দিল্লি নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের প্রতিপক্ষ তালেবানকে সবসময় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করেছে। এখন পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে গিয়ে ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ নীতি অনুযায়ী, ভারতের হিন্দু কট্টরপন্থি সরকার আফগানিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থি তালেবানদের মিত্রে পরিণত হয়েছে। কট্টর হিন্দু এবং কট্টর ইসলামপন্থিরা তাদের উভয়ের শত্রু পাকিস্তানকে যৌথভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই নাটকীয় পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এই পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে টিটিপির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের উদ্বেগজনক বৃদ্ধির পেছনে সংগত কারণেই ইসলামাবাদ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কানেকশনের অভিযোগ জোরেশোরে উত্থাপন করেছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে যথাক্রমে টিটিপি এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি যে সন্ত্রাসী আন্দোলন চালাচ্ছে, তার পেছনে আফগানিস্তান এবং ভারতের সক্রিয় সমর্থন প্রদানের প্রবল সম্ভাবনার কথা অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাদের লেখা ও বক্তব্যে উল্লেখ করছেন। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসীদের খুব সহজেই সীমান্তের ওপার থেকে সব ধরনের সরবরাহ প্রাপ্তির সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া পাকিস্তানে যেকোনো সন্ত্রাসবাদী অপারেশন শেষ করে অপরাধীরা সীমান্তের ওপারে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রেও ভারতীয় এবং আফগান গোয়েন্দাদের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে ‘র’-এর এজেন্টদের ঘাঁটি গাড়ার অভিযোগ ইসলামাবাদ প্রায়ই উত্থাপন করে থাকে।
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের দিকে নজর ফেরানো যাক। পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত টিটিপির সঙ্গে বাংলাদেশের টিটিপির সম্পর্কের বিষয়টি এখনো ঠিকমতো পরিষ্কার হয়নি। এটাও জানা যায়নি যে, বাংলাদেশে টিটিপি নামে কোনো জঙ্গি সংগঠনের আদৌ অস্তিত্ব আছে কি না, নাকি অভিযুক্ত পুলিশ ও বিমান বাহিনীর সদস্যসহ আরো কিছু বিপথগামী বাংলাদেশি তরুণ শুধু অনলাইনে মগজধোলাই হয়ে পাকিস্তানি তালেবানের সদস্য হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে কিছুদিন পরপর বিচিত্র সব নামের কথিত জঙ্গি সংগঠন আবিষ্কারের মাধ্যমে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর ইত্যাদি পদ্ধতিতে ভয়াবহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘন জায়েজ করা হতো। টিটিপির গল্প তখন শোনা যায়নি। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ পুরোনো সেসব নাটকের মঞ্চায়ন আর দেখতে চায় না। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের প্রচারণা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নানা উপায়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারকে বিব্রত করার ষড়যন্ত্র আমরা প্রত্যক্ষ করেছিলাম। সারা দেশে একদিনে কয়েকশ বোমা বিস্ফোরণের রহস্যজনক ঘটনা আমাদের ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এদেশীয় এজেন্টদের সংযোগ এবং নিবিড় পরিকল্পনা ব্যতীত দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় একই দিনে এমন সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হওয়া সম্ভব ছিল না। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশকে একটি ইসলামি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রচারণার অস্ত্র হিসেবে ওই বোমা হামলার ঘটনা ব্যবহৃত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক মহলে এক-এগারোর ভারতপন্থি সেনা অভ্যুত্থান জায়েজ করার জন্য বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের গল্প বেশ কাজে লেগেছিল। পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদী আমলে দেশব্যাপী একযোগে বোমা বিস্ফোরণের রহস্যের কিনারা করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তারা হয়তো থলের বিড়াল বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত ছিল। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি। সেই সন্ত্রাসী ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের চেহারা উন্মোচন করতে পারলে বর্তমানের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সহজ হবে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের যেকোনো জঙ্গি গল্প বিশ্বাস করার আগে সব প্রাসঙ্গিক তথ্য সঠিকভাবে উদঘাটন এবং সেগুলো যথাযথ বিচারবিশ্লেষণ করা আবশ্যক। টিটিপিসংক্রান্ত অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেখবে বলে আশা করছি।
পাকিস্তানের টিটিপির সঙ্গে আফগান তালেবানদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রমাণিত। উপরন্তু এদের সঙ্গে ভারতের ‘র’-এর যোগসূত্র নিয়েও সর্বত্র আলোচনা রয়েছে। সুতরাং, বাংলাদেশে যদি সত্যি টিটিপির উত্থান ঘটে থাকে তাহলে এই জঙ্গিদের শুধু স্থানীয় বিপথগামী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বাংলাদেশে টিটিপি জঙ্গি সেল তৈরি হয়ে থাকলে সেটাকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের অনুরূপ বিদেশি কোনো আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের বাংলাদেশবিরোধী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আর যদি কেবল অনলাইনে টিটিপির প্রচারণা দ্বারা আমাদের তরুণরা বিভ্রান্ত হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে গণমাধ্যমের সহায়তা নিয়ে সরকারের উচিত জনগণকে বিশেষভাবে সতর্ক করা। তবে কাল্পনিক জঙ্গি হামলা নিয়ে সরকারি সূত্র থেকে অতিরিক্ত প্রচার সরকার এবং রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এ-জাতীয় প্রচারণার ফলে ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসী এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যকার বরখাস্তকৃত অপরাধীরা উৎসাহিত হয়ে দেশের অভ্যন্তরে নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

