বিপুলভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের দেয়া প্রথম বাজেটটি গতানুগতিক নয়। এখানে অনেক নতুন নতুন বিষয়কে ধারণ করা হয়েছে।
১। এককথায় পজিটিভ বললে বলতে হয়, 'জনবান্ধব' বাজেট, সোশ্যাল সেফটি নেট বাড়ানো হয়েছে, বহু স্তরে শুল্ক/ভ্যাট কমানো হয়েছে। এআইটি/টিডিএস সমন্বয়ের ঘোষণা এসেছে। পলিসি স্ট্যাবিলিটির আভাস আছে।
২। এককথায় নেগেটিভ বললে বলতে হয়, 'পপুলিস্ট' বাজেট, ফ্রিল্যান্সার থেকে ব্যবসায়ীরা যারা যা দাবি করেছে প্রায় সবার দাবি শুনা হয়েছে। বাজেট ফাইনান্সিং অটেকসই। এনবিআর এর সক্ষমতার চেয়ে দেড় লক্ষ্য কোটি টাকার বেশি রাজস্ব টার্গেট বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, যা বাজেটের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বছর শেষে।
৩। স্ট্র্যাটিজিক এনালাইসিস থেকে বললে বলতে হয়, নিউ হাইপো থিসিস টেস্টের ভালো চেষ্টা আছে বাট ভেরি রিস্কি। রাজস্ব আয়ের সংকটে ৪০% রাজস্ব বাড়ানোর টার্গেট দেয়া হয়েছে যেখানে সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৫-১৬%। ট্যাক্স নেট সেভাবে বাড়ছে না, তবে ট্যাক্স বেজ বাড়ানোর চেষ্টা আছে। সরকার শুরুতে ট্যাক্স নেট বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই সরে এসেছে। ট্যাক্স বেজে ডিজিটাল ট্রান্সফর্মের করে ৪০% রাজস্ব বাড়ানোর টার্গেট ভালো, কিন্তু ডিজিটাইজেশনের কাজ গুলো এক অর্থবছরে বাস্তবায়ন ডিফিকাল্ট। সরকার কিছু বেদরকারি ছাড় দিয়ে নিজের ট্যাক্স নেট ও ট্যাক্স বেজকে ছোট করেছে। বাস্তবায়ন করা গেলে ছক্কা, নাইলে উল্টো রাজস্ব কমে সরকার বড় বিপদে পড়ে যাবে।
সবমিলে, বাজেট প্রস্তাবনা আকর্ষণীয় ও গণমূখী। তবে কঠিন চ্যালেঞ্জিং এবং চরম রিস্কি।
ক. বাজেট ফাইনান্সিং এ সরকার একটা হাইপো থিসিস টেস্ট করছে যে, ট্যাক্স নেটের সিরিয়াস এক্সপানশন করতে পারবে। এক লাফেই ২ লক্ষ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব টার্গেট মাত্র এক অর্থবছরেই বারাতে পারবে। শুধু এনবিআর টার্গেট ১ বছরে বাড়াইসে ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি। নট এ জোক। এই রাজস্ব তোলা গেলে সরকারের ম্যাসিভ সাক্সেস হবে অবশ্যই যা আগামী ৪ বছরে সরকার পরিচালনার ভিত্তিকেও মজবুত করে দিবে।
বাস্তবের মোট রাজস্ব সাড়ে পাঁচ লাখ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের টার্গেট কিছুটা অবাস্তব। মাত্র এক অর্থ বছরেই রাজস্ব সোয়া দুই লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় হয়ে যাবে, এটা বেশ বড় আশা ও চ্যালেঞ্জিং। আমাদের দেশে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বছরে ১৫-১৬% এর রেকর্ড আছে, ৪০% এর নাই।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া। জবাবদিহি ছাড়া। ডিজিটাল ইনফ্রা ছাড়া। অডিট, কমপ্লায়েন্স ছাড়া। প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। সরকার ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ও ওয়ান আইডির কথা বলেছেন। বাস্তবে এসব বাস্তবায়নে সময় লাগবে, এবং ইনফ্রা গুল এখনও তৈরি নয়। এপিআই দিয়ে ব্যাংকিং সেক্টর, অডিট, এনবিআর, রপ্তানি ডেটা, ফাইনান্সিয়াল ডেটা, এলসি ডেটা এক জায়গায় এনে লার্জস্কেল ডেটার প্রসেসিংও অবকাঠামো, সময় ও সিকিউরিটি সাপেক্ষ। ফলে ই-রিটার্ণের সম্প্রসারণ দ্রুত সম্ভব হলেও, ই-টিডিএস, ই-ভ্যাট, ই-চালানের সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি ধরার মেকানিজম তৈরিতে সময় লাগবে।
তবে এবারের বাজেটে ফ্রিল্যান্সিং, সোলার সহ কিছু খাতে ২০৩০ পর্যন্ত পলিসি স্ট্যাবিলিটির নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এটা সব ক্ষেত্রে করা গেলেই ভালো হত। বিনিয়োগকারীরা বছর বছর কর-ভ্যাটের বাড়াকমার বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি রেট স্ট্যাবিলিটি ও প্রেডিক্টেবিলিটি চান।
একটু পেছনে ফিরে দেখি, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) শুরুতে এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের মাঝপথে আরো ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে বড় ধরনের হোঁচট খায় এনবিআর। প্রতি মাসেই রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ে সংস্থাটি। গত ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। আদায়ে বড় ধরনের হোঁচট খেয়ে অবশেষে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। কিন্তু নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে রাজস্ব আদায়ে ১৬ শতাংশের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। ২৪-২৫ এ রাজস্ব আহরণে তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল মাত্র। মানে, বাস্তবতা ভিন্ন। কোথায় ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি আর কোথায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি, ব্যবধান ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি।

আসলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ম্যাজিক ফ্লো এবং বিশদ পরিবর্তন না হলে, এনবিআর সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সোয়া পাঁচ লক্ষ কোটি টাকা তুলতে পারবে। এনবিআর ভিন্ন খাত থেকে আরও অনুমানিক ৬০-৬৫ হাজার কোটি। মোট আনুমানিক পৌনে ছয় লক্ষ কোটি। কিন্তু সরকারের রাজস্ব টার্গেট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে, শুধু রাজস্ব ঘাটতিই হয়ে যেতে পারে, ১ লক্ষ থেকে সোয়া লক্ষ কোটি টাকা। এর সাথে ফুল বাজেটের প্রাক্কলিত ঘটাতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা যোগ হবে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার ঘাটতি হলে অবাক হব না। ইটস নট ফান। ফলে বাজেট প্রাক্কলনকে সম্ভব করতে হলে সরকারকে রিয়েলি ভিন্ন কিছু করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২১-২২ বাজেট রিভিউতে আমার মতামত কলামের শিরোনাম ছিল, 'বাজেট যেন অবাস্তব সংখ্যার গালভরা উপস্থাপনা। প্রশ্ন করেছিলাম আমাদের বাজেট মিথ্যা একটা সংখ্যার প্রাক্কলন কেন? অর্থবছরের শুরুতে প্রাক্কলিত এবং শেষে সংশোধিত বাজেট অবাস্তব সংখ্যার বিশ্রী ধারাবাহিকতা মাত্র। শুরুতে চাপ তৈরি জন্য না হয় একটা বর্ধিত প্রাক্কলনের সংস্কৃতি থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তার পার্থক্য এমন আকাশ-পাতাল হবে কেন? বাজেটের বড় আকার দরকারি, কিন্তু বাস্তবায়ন-সক্ষমতা নেই।''
আওয়ামি লীগের আমলে বাজেট আসলে কিছু ভিত্তিহীন সংখ্যানির্ভ ছিলর। আমাদের জনসংখ্যা, মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে বুপুল ‘তথ্য বিস্ময়’, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণের তথ্য সংশোধনের চেষ্টা হয়েছে। এভাবে নতুন সরকারের সামনে আমাদের প্রবৃদ্ধি, আমদানি রপ্তানি ও উৎপাদন, সরকারি খরচ, উন্নয়ন প্রকল্পের বাড়তি বা অপখরচ ইত্যাদির তথ্য, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও ভোগ ও বন্টনের সংখ্যাগুলো সংশোধনের সুযোগ ছিল। চেষ্টাটা নতুন বাজেটে আমরা দেখিনি। ফলে ঘাটতি, ঋণ, রাজস্ব প্রকৃত জিডিপির কত শতাংশ তার প্রাক্কলন গুলো শতভাগ নিখুঁত এটা বালার সুযোগ নেই।
সরকার বেসরকারি খাতকে ঋণ নির্ভরতা থেকে পুঁজি বাজার নির্ভরতার দিকে নিতে চায়, এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বাজেটের ৪০% স্ফীত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে, সরকার নিজেই আরও অধিকহারে ঋণগ্রস্ত হয়ে ডেবট সার্ভিসকে নতুন করে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। এমনিতেই এটা বাজেট ব্যয়ের সর্বোচ্চ একক খাত। ব্যবসায়ীদের দাবী শুনায় করজাল সেভাবে বাড়ানো যায়নি। একদিকে সরকার বলছে, কর ভিত্তি বাড়াবে, অন্যদিকে সরকার নিজের ডজন ডজন জায়গায় শুল্ক ছাড় দিয়ে কর ভিত্তি কমিয়েছে।
সমস্যা হচ্ছে, সরকারের প্রথম বাজেট শেষে যদি বাজেট ফাইনাসিং এর প্রাক্কলিত সংখ্যা গুলো কাছাকাছি পর্যায়ে ঠিক না থাকে, তাইলে এটা বিএনপির পরবর্তী ৪টি বাজেটের প্রাক্কলিত সংখ্যার বিষয়ে আস্থাহীনতা বাড়াবে। ফলে সরকারকে বাজেট বাস্তবায়নে, রাজস্ব আহরণে প্রথম দিন থেকে সর্বচ্চো সতর্কতার সাথে কর্মপরিকল্পনা সাজাতে হবে।
খ. সমস্যা হবে, অপ খরচ। বড় বাজেটের কারনে সব খাতে বড় বরাদ্দ শুরু হবে। কিন্তু বছর শেষে রাজস্ব ঠিক না হলে সব কাজ মাঝ পথে আটকে যাবে, এতে বাড়তি বরাদ্দের ঝোঁক দুর্নীতি বাড়তে পারে।
গ. সরকারের ওয়েল ফেয়ার স্টেটের ধারণা শুনতে খুবই ভালো। নতুন সরকার হিসেব খুবই এট্রাক্টিভ। কিন্তু অবাস্তব।
ইউরোপীয় ওয়েলফেয়ার স্টেটে কঞ্জিউমার ভ্যাট ১৭-২১%, পাইকারি ভ্যাট ৬-৯%, আয়কর প্রায় ৪৮% পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেজে বিভক্ত। অর্থাৎ এখানে ব্যাপক আকারে কর ও ভ্যাট থেকে টাকা তুলে ওয়েলফেয়ার করা হয়।
বাংলাদেশে ধনীদের থেকে বেশি টাকা তুলতে গেলে, ব্যবসা বিনিয়োগ সংকুচিত হবে। আর দেশের যে বড় আকারে চাঁদাবাজি হয়, তা পরোক্ষ কর। সেটা বন্ধ না করে ভ্যাট বাড়ালে, ট্যাক্স নেট এক্সপানশন করলে মানুষের ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হবে।
ফলে সোশ্যাল সেইফটির বিদ্যমান ১৪০ প্যাকেজের অপব্যবহার থামানো এবং ডেটাবেজ ঠিক করে সঠিক হাতে (দ্ররিদ্য শনাক্তকরণ ও অপরাপর ভালনারেবল সিটিজেন) অর্থ তুলে দেয়াই দরকার ছিল মূল কাজ। ডেটাবেজ সমন্বিত না করে এবং ডায়নামিক না করে ভাতার হার এবং সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভুল।
তদুপরি, সরকারের সোশ্যাল সেইফটি নেট শুধুমাত্র কার্ড ও অলস ভাতা নির্ভর। এই ভাতা দারিদ্র্য, আয় ও বেকারত্বের ডায়নামিক তথ্য নির্ভর নাই, বাস্তবে বাংলাদেশের এই ডেটাবেজ ফ্রেইমওয়ার্কও নাই। ফলে এটা অটেকসই। বিপরীতে যদি সরকার ইউনিভার্সাল হেলথ ও ইউনিভার্সাল পেনশন এবং প্রকৃত বীমা ব্যবস্থার সূচনা ইত্যাদি নিয়ে আগাত তাইলে দেশের ওয়েল ফেয়ার স্টেটের ধারণার বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে থাকতো। আমার পরামর্শ, সরকার ডিজিটাল পাবলিক ইনফাস্ট্রাকচার, এন্ড টু এন্ড পেমেন্ট ইকোসিস্টেম, ন্যাশনাল ইন্টারঅপারেবিলিটি এবং প্রকৃত সিটিজেন অথেন্টিকেশন লেয়ার চালু করে ওয়েল ফেয়ার স্টেটের বাস্তবায়নে গেলে ভালো হত। ততদিনে বিদ্যমান ব্যবস্থার ত্রুটি সারানো এবং ভুল হাতে ভাতা ও অলস ভাতা দেয়ার প্রক্রিয়াগত শুদ্ধি দরকার ছিল।
ঘ. কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় না হলে সরকার বেসরকারি ব্যাংক থেকে ব্যাপক ঋণ নিবে, এতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ আরও সংকুচিত হবে।এবং প্রায় সাড়ে তিল লক্ষ কোটির কাছাকাছি ঘাটতি টানতে ব্যাপক টাকা ছাপাবে, বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের ট্রেজারি বন্ড কিনে নিবে, এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হবে।
এখন টাকা ছাপিয়ে বা ঋণ নিয়ে সোসাল সেইফটি বাড়ানো বা ফ্যামিলি কার্ড বা ফারমার কার্ড দিতে গেলে, ট্যাক্স বাড়ানোর চাপ বাড়বে। সরকার এখানে মর্ডার্ন মনিটারি থিউরিতে গিয়ে ঋণ করে পাবলিক স্পেন্ডীং বাড়িয়ে মানি ক্রিয়েটে যাচ্ছে হয়ত, কিন্তু ভিন্ন দিকে এমএমটি মতে ট্যাক্সেশন ব্যবস্থা চালু করেনি। বরং বেদরকারি জায়গাতেও ট্যাক্স কমিয়েছে। ফলে সরকারের এই মডেল ফেইল করলে এমএমটি মতেই মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হবে।
আমরা এখানে, মর্ডার্ন মনিটারি থিউরির ২য় একটি ভায়লেশন পাই। এমএমটি'তে পাবলিক স্পেন্ডিং বাড়াতে মানি ক্রিয়েট করা হয় রিসোর্স তৈরি করতে, ল্যাব তৈরিতে, শিল্পএর অবকাঠামোতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দক্ষতা তৈরি করতে, বেসিক উন্নয়নে যা বিজনেস প্রমট করে। কিন্তু এখানে বড় অংশ যাবে সরকার পরিচালনায়। অন্যদিকে বন্ধ শিল্প চালুর ৬০ হাজার কোটি টাকা আসা দরকার ছিল বাজেট থেকে, কিন্তু তা আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে, এসব প্যাসিভ ফাইনান্সিং হচ্ছে ব্যাতিক্রম।
অন্যদিকে, দেশে সবচেয়ে বড় ইসলামি ব্যাংক, ৫ টি ইসলামি ধারার ব্যাংক সহ প্রায় ১৫টির বেশি ব্যাংকের আমানত ও লিকুইডিটির অবস্থা শোচনীয়, ফলে তাদের লিকুইডিটি ও বেইল আউট সাপোর্ট দিতেও বাংলাদেশ ব্যাংক চাপে থাকবে।
ঙ. আমরা দেখছি, সরকার জ্বালানির দাম থেকে রাজস্ব তুলবে তাই, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে শুল্ক কমিয়েছে। যত প্রকার শুল্ক কমানো যায় প্রায় সব খাতেই কমিয়েছে। এটা ব্যবসায়ীদের প্রশংসা পাবে। দ্রব্য মূল্যের দাম বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানর কারনে যা বেড়েছে, সেটা শুল্ক হ্রাসে ব্যালান্সের চেষ্টা করেছে। তবে কমবে কিনা, এইটা আমরা পরে দেখবো।
১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে মে মাসে। মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে।
বাংলাদেশের ঋণ খেপালিরা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয় না। এমন জায়গায়, আমদানি শুল্ক, পাইকারি শুল্ক এবং ভ্যাট না কমিয়ে, সিন্ডীকেট ও মজুতদারি বন্ধ করে সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখলেই দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি ঠিক থাকে।
চ। এবারের বাজেটের বড় বার্তা এটি যে সরকার পরিচালনা খরচ কমাচ্ছে না বরং শতাংশের হারে কম হলেও ওয়েল ফেয়ার বাজেটের ভলিউমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়িয়েছে। এটা ওয়েল ফেয়ার ধারনার বিপরীত। এখানে ফিস্ক্যাল স্পেইস তৈরি হলে বরং ওয়েল ফেয়ার ড্রাইভ বাড়ানোর সুযোগ ছিল।
সবশেষে, বেশ বড় বাজেট ও অতি উচ্চভিলাশী বাজটের তকমা থেকে এবারের বাজেট যাতে মুক্ত হতে পারে সরকার সততা ও জবাবদিহিতার সাথে সেই চেষ্টা করবে আশাবাদ রাখি। করজালের আনুভূমিক ও উল্লম্ব বিস্তারে, ঋণের বিপরীতে রাজস্ব আয়ের উল্লম্ফনে, এবং সার্বিক বাজেট বাস্তবায়নে যাতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা রেখে সঠিক সক্ষমতা দেখাতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করি। জিডিপির আকার নিয়ে পরিসংখ্যান বিস্ময়, ঋণ ও সুদের দুষ্টচক্র থেকে সরকার বেরুতে পারবে বলেও আসা রাখি। সরকারের প্রথম বাজেট গতানুগতিক হয়নি, এতে অনেক নতুনত্ব আছে। নতুন সরকার কিছু নতুন আইডিয়া নিয়ে হাজির হয়েছে, তাই সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তথাপি বলতে চাই, বছর শেষে গলাভরা সংখ্যার উপস্থাপনা হিসেবেই যাতে এই প্রথম বাজেটখানি থেকে না যায়, নিখুঁত বাস্তবায়নেই যাতে হ্যাপি এন্ডিং হয়।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক লেখক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

