ইসলামি সংগীতে মুসলিম ঐতিহ্যের দৃশ্যায়ন, মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

ইসলামি সংগীতে মুসলিম ঐতিহ্যের দৃশ্যায়ন, মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

দেশের ইসলামি সংগীতাঙ্গন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো সময় পার করছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এমন সব নাশিদ উপহার দিয়েছেন ইসলামি সংগীত শিল্পীরা, যা খুবই প্রশংসার দাবিদার। তবে এর মাঝেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মরমী কণ্ঠশিল্পী মুছলেহ উদ্দিন আখন্দ। একে একে বেশ কয়েকটি সফল নাশিদের পর তিনি নিয়ে এসেছেন ‘ব্লাড আইডেন্টিটি’। দেশের ইসলামি সংগীতাঙ্গনে যেটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শনিবার রাতে মুছলেহ উদ্দিন আখন্দের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ‘muslah’ ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এ নাশিদটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নাশিদ হিসেবে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে দর্শক-শ্রোতারাও এটিকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ দিরিলিস ও ‍কুরুলুসের আদলে নাশিদটির ভিডিওতে মুসলিম ঐতিহ্যের দৃশ্যায়ন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই দিকটিই মূলত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে নাশিদটিকে। ব্যতিক্রমী নাশিদটি নিয়ে শিল্পী মুছলেহ উদ্দিন আখন্দ বলেছেন, এর ভিডিও নির্মাণে মুসলিম ঐতিহ্যের স্পষ্ট ছোঁয়া রাখতে চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইসলামি চেতনা, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বার্তা। ব্যয়বহুল এই ভিডিওতে সিনেমাটিক ভিজ্যুয়াল, উন্নতমানের সিনেমাটোগ্রাফি ও গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশে ইসলামি সংগীতের ক্ষেত্রে নতুন এক দিগন্ত।

তিনি আরও বলেন, নাশিদটিকে এভাবে ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্য গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং তাদের অপসংস্কৃতি থেকে ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি ব্যতিক্রমী কিছু উপস্থাপনের মাধ্যমে সত্য ও সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টাই এর মূল প্রেরণা।

নাশিদটির ভিডিও পরিচালনায় ছিলেন এইচ আল হাদী। নাশিদটির লিরিক লিখেছেন সাইয়েদ এনায়েত তানভির, সুর করেছেন এইচ আহমেদ, অডিও প্রোডাকশনে ছিলেন পারভেজ জুয়েল, সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন নাবিল মোস্তফা। শ্যুটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার গাজীপুরে, যেখানে প্রায় ২৫০ জন মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে টানা ৫ দিন ধরে শ্যুটিং সম্পন্ন হয়।

এ সংক্রান্ত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ব্লাড আইডেন্টিটি’র মতো উদ্যোগ বাংলাদেশে ইসলামি সংগীতকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলতে পারে। যদি এই ধারা বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের নাশিদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে একজন ভক্ত লিখেছেন, বাংলাদেশের ইসলামি সংগীত জগতে ‘ব্লাড আইডেন্টিটি’ নতুন যুগের সূচনা করল। তিনি ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও অনেকে নাশিদটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নাশিদটি ইতোমধ্যে দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন