আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কট্টর আওয়ামীপন্থি ফয়সাল এখন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা

এম লোকমান হোসেন, চরফ্যাশন (ভোলা)

কট্টর আওয়ামীপন্থি ফয়সাল এখন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন কট্টর আওয়ামী পরিবারের সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল। পতিত সরকারের চিহ্নিত দোসর পরিবারের এ সদস্য কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনকারী মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাবির আওয়ামী প্যানেলের শিক্ষক নেতা অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের ছোট ভাই।

আমার দেশের পক্ষ থেকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার মরহুম আরব আলী মাস্টারের পরিবারটি কট্টর আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচিত। এ পরিবারের সাত ছেলের সবাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। তাদের মধ্যে অন্যতম অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। তিনি ঢাবির সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামক সংগঠনের আহ্বায়ক এবং আওয়ামী লীগের শিক্ষক সংগঠনের নেতা। ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকালীন সময়ে আন্দোলন দমনে একাধিক মিছিল-মিটিং ও ছাত্রদের ওপর হামলা করে তার সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এ ছাড়া দৈনিক সংগ্রামে হামলা করে প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদকে লাঞ্ছিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা।

অপর ভাই শাহে আলম খোকন চরফ্যাশন দুলার হাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পতিত সরকারের আমলে ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। বিভিন্ন দলমতের সমর্থককে চাকরি থেকে বঞ্চিত করে নিজ দলের নেতাকর্মীকে চাকরি দিয়েছেন।

তাদের আরেক ভাই ডা. রাসেল। তিনি পিজি হাসপাতালের সর্বশেষ ভিসির সাবেক পিএস। পিএস থাকাকালীন ক্ষমতার প্রভাব দিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো নতুন চিকিৎসক এলে তার নিজের প্রতিষ্ঠান চরফ্যাশন আধুনিক হাসপাতালে চেম্বার করতে বাধ্য করতেন।

পাশাপাশি নিয়োগ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আবার টাকা নিয়ে চাকরি না দিয়ে টাকা আত্মসাৎও করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হলো, অপচিকিৎসায় দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফয়সালের বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফরিদ উদ্দিন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ফরিদের চরফ্যাশনের বাসায় স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন ফয়সাল। এ ছাড়া গত পরশু রাতে এই ফয়সালকে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফ্যাসিস্টের দালাল আখ্যা দিয়ে গণধোলাই দিয়েছে কমিটির ক্ষুব্ধ কয়েকজন নেতা।

কট্টর আওয়ামী পরিবারের এ সদস্য কীভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে পদ পেলেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন যারা পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত, সে কীভাবে ফ্যাসিস্টবিরোধী নবগঠিত রাজনৈতিক দলে পদ পায়?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় নাগরিক কমিটির একাধিক সদস্য জানান, ফয়সাল ফ্যাসিস্টের দালাল। তাকে গণধোলাই দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সে ভোলার মেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিনকে ম্যানেজ করে কমিটিতে ঢুকেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে শামান্তা শারমিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাইয়েরা ফ্যাসিস্ট হলেও সে আমাদের সঙ্গে আগ থেকে আছে। তা ছাড়া আমি যে ভোলার মেয়ে কেন্দ্রীয় নেতা হলাম আমাকে নিয়ে নিউজ না করে তার পেছনে লেগেছেন কেন?

ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসানের কাছে। তিনি আমার দেশকে জানান, গত পরশু আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সালকে গণধোলাই দেওয়া হয়নি। অন্য একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে দু’পক্ষের মধ্যে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে ফয়সালকে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন