মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী হত্যা: ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মীর পদত্যাগ

মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী হত্যা: ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মীর পদত্যাগ

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় গত ৯ জুলাই সোহাগ নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পাথর মেরে হত্যা করেন যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

শুক্রবার ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ভাইরাল হয়। এরপরই দলমত নির্বিশেষে ফুঁসে উঠে সারা দেশ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাবি, বুয়েট, রাবি, চবি, জাবি ও জবিসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এসব বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ জনতাও অংশ নেন।

ঘটনাটি এতটাই নৃশংস ছিল যে, এর প্রতিবাদ জানিয়েছে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। ‘ইতিবাচক রাজনীতি করতে এবং দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপি ব্যর্থ’- এমন অভিযোগ এনে বেশকিছু নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগ করা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলেন—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ রানা প্রান্ত, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক লিসানুল আলম লিসান, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাহিমুর রহমান জিসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইশতিয়াক রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সব কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সূর্যসেন হল ছাত্রদলের কর্মী মোহাম্মদ আবু সাঈদ।

পদত্যাগপত্রে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ রানা লেখেন—‘সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদল এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড আমাকে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি। আমি আশা করি ছাত্রদল এবং বিএনপির অন্যান্য অঙ্গসংগঠন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে আরও ছাত্রবান্ধব ও জনবান্ধব রূপে গড়ে উঠবে।’

আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক লিসানুল আলম লিসান এক পোস্টে বলেন—‘ছাত্রদল ও বিএনপির সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ইতিহাস। তিনি লেখেন, ‘জন্মলগ্ন থেকে পারিবারিক রাজনীতির সূত্র ধরে দীর্ঘ ১০ বছরের ঊর্ধ্বে এই দলের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলাম। বিএনপির একদম দুঃসময়েও দলের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত ছিলাম। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বাবা জেলে থাকাকালীন (মামলা সংখ্যা ২৮), দীর্ঘ দুই মাসের ঊর্ধ্বে বাড়ি ছাড়া হয়েছি। ভোর রাতে লুকোচুরি করে আম্মার সাথে একবার দেখা করে আসতাম। ২৮ অক্টোবর সমাবেশ পরবর্তীও হরতাল অবরোধসহ বহু কার্যক্রমে যুক্ত ছিলাম। এই দলের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি ও বহু নির্মমতার ভাগীদার আমি হয়েছি। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনেও সরাসরি সামনের সারিতেই আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। এই সব কিছুর মূলে আমার একটাই স্বপ্ন ছিল— ‘নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণ এবং একটা সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ।’

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের অনুসারী ও ছাত্রদল কর্মী আবু সায়ীদ লেখেন—‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি পরিবারতান্ত্রিক দল। এখানে কখনো কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচন হয় না। তারেক রহমানের পর তার মেয়ে নেতৃত্বে আসবেন- এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত। গণতন্ত্রহীন একটি দল কীভাবে দেশের মানুষকে গণতন্ত্র দেবে?’

তিনি আরও লেখেন—দলের সংস্কার উদ্যোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ছাত্রদের বহুল প্রত্যাশিত ডাকসু নির্বাচনেও বিএনপি সক্রিয়ভাবে বাধা দিচ্ছে।’

ফেসবুক পোস্টে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইশতিয়াক রহমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাহিমুর রহমান জিসান লেখেন, ব্যক্তিগতভাবে যে আদর্শ আমি ধারণ করতাম, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেই আদর্শের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি সাংঘর্ষিক।’

পোস্টে তারা লেখেন, ‘দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে সেই আদর্শ কতটা সফল হবে, তাও প্রশ্নবিদ্ধ। যে আদর্শ নিয়ে ‘জুলাই বিপ্লব’ হয়েছিল, সেই শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো গাদ্দারি আমি মেনে নিতে পারি না, সম্ভবও নয়। দেশের জন্য কাজ করতে কোনো দলীয় পদবির প্রয়োজন নেই দেশকে যে ভালোবাসে, সেই-ই প্রকৃত সন্তান। দেশের প্রয়োজনে সদা প্রস্তুত। সাধারণ জনতার কাতার থেকেই দেশের মঙ্গল কামনা করি। প্রত্যাশা করি, পরবর্তীতে দেশের শাসনব্যবস্থা যাদের হাতেই উঠুক, তারা যেন নিজেদের দেশের শাসক নয়, সেবক মনে করে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন