নির্বাসিত জীবন শেষে ১০ বছর পর দেশে আসছেন বিএনপি নেতা টিপু

নির্বাসিত জীবন শেষে ১০ বছর পর দেশে আসছেন বিএনপি নেতা টিপু

হামলা-মামলা ও নিরাপত্তাহীনতার দীর্ঘ এক যুগ পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারমুক্ত দেশে ফিরছেন ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি এবং মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু। তিনি আগামী শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে পৌঁছবেন। এসময় তাকে স্বাগত জানাবেন দলের সিনিয়র নেতা ও সাবেক ছাত্র নেতারা।

ঢাকা মহানগর বিএনপির এই সাবেক নেতা স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে ছাত্রদলের যাত্রা শুরু করে ঢাকা কলেজের সভাপতি হোন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হোন। ছাত্রদল থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকা কলেজের সভাপতি ও নিউমার্কেট থানায় স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে তার নেতৃত্বে ওই এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনসহ হরতাল অবরোধ মিছিল মিটিংয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচিতে নিউমার্কেট ও তার আশপাশের এলাকায় শক্ত অবস্থান পালন করেন তিনি। তার শক্ত অবস্থানের কারণে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকা শেখ হাসিনার সরকারের নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যায়। হাসিনার ধারণা ছিল তাকে নিভৃত করতে পারলেই ঢাকা মহানগরের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যাবে। এ লক্ষে তৎকালীন প্রশাসন ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হোন তিনি। এসময় নিউমার্কেট, শাহবাগ, কলাবাগান পল্টন ও রমনাসহ রাজধানীর কয়েকটি থানায় ২৭ থেকে ২৮টির অধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। এসব মিথ্যা মামলায় ৪ বার গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকেন। কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর আবারও স্বৈরাচার সরকার ২০১৪ সালের শেষের মূল আন্দোলনে মিথ্যা হত্যা মামলায় ১ নম্বর আসামি দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাসিত ১০ বছরে তিনি মালয়শিয়া, নেপাল, সিঙ্গাপুর সর্বশেষ কাতার থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে চলে যান। সেখান গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাহচর্য পেয়ে লন্ডন বিএনপির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি দেশের থাকা আওয়ামী সরকারের রোষানলে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান তিনি। বিশেষ করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ও জেলে বন্দি থাকা নেতাকর্মীদের পাশে আর্থিক ও আইনি সহায়তা নিয়ে পাশে থাকেন বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা কলেজের সাবেক এক ছাত্রদল নেতা জানান, বিএনপির যেকোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে নিউমার্কেট ও আশেপাশের এলাকায় তার শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ কোণঠাসা ছিল। বিএনপির আন্দোলন দমাতে আওয়ামী লীগ তখন তার ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। পুলিশের নির্যাতন ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হয়রানিতে দমিয়ে রাখতে না পেরে ২০১৫ সালে রমনা থানায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলভাবে হত্যা মামলা আসামি করে দেশ ছাড়া করা হয়। এরপর থেকে লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন শুরু করেন। লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে ও ইউকে বিএনপির নেতৃত্বে আনোয়ার হোসেন টিপু স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রবাসে নির্বাসিত থাকাকালীন সময়ে শেখ হাসিনার আক্রোশের শিকার হোন আনোয়ার হোসেন টিপু। ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল নিউমার্কেটে ব্যবসায়ীদের ঢাকা কলেজে ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে জখম ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়।

এমন পরিস্থিতি মহানগর বিএনপির সাবেক এ নেতা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা-হামলার কারণে দেশে আসতে পারেননি। এখন তার দেশের আসার খবরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে আনোয়ার হোসেন টিপুকে বরণ করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীরা। দেশের ফেরার পর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করার কথা রয়েছে। এরপর তিনি নিজ জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা তার দেশে আসার মাধ্যমে ঢাকা মহানগরের বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়বে কয়েকগুণ।

দেশে আসার বিষয়ে আনোয়ার হোসেন টিপু বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের অমানবিক নির্যাতন পরিবার ছাড়া দীর্ঘদিন লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছিলো। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারমুক্ত নিজ জন্মভূমিতে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই এখন দেশে আসছি।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে নির্বাসিত থাকাকালেও শেখ হাসিনার আক্রোশ থেকে আমি রেহাই পায়নি। গত ১০ বছরে একাধিকবার আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমার গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর লুটপাট করে। পাশাপাশি পুলিশ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের জন্য ঢাকার বাসায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাসায় আমাকে না পেয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসময় আমার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে নির্যাতন করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন