দেশে মাওলানা ভাসানি, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ জিয়ার মত এত নেতা থাকার পরও তারা বাহিরের নেতাদের এত পছন্দ করার কারণ কি? প্রশ্ন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক জাগ্রত বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উদ্দেশে এ প্রশ্ন করেন।
তিনি বলেন, কেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা বাহিরের দেশের তিনটি দলের আদলে তাদের দল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কর্মসূচি নির্ধারণ করছে জাতির সামনে পরিষ্কার করলে ভালো হয়। না হলে এই প্রজন্ম বিভ্রান্তিতে থাকবে।
আলাল বলেন, তুরস্কের এরদোয়ানের একে পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-এ- ইনসাফ এবং দিল্লির কেজরিওয়ালের দলের নাম আম আদমি পার্টি। তিনটাই কিন্তা বাংলাদেশের সীমানার বাহিরে। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা এই তিনটি দলের আদলে তাদের দল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কর্মসূচি নির্ধারণ করছে।
তিনি বলেন, আমার কাছে অবাক লাগে আমাদের যে ছেলেরা এই মাটিতে বেড়ে উঠলো, এই দেশের মাটির ঘ্রাণ তাদের শরীরে লেগে আছে তাদের কাছে বিদেশি নেতাদের মতবাদ এত জনপ্রিয় হলো কেন? এটা দেখার পর আমার আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে আসলে এর মূল কারণ কি?
যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, শেখ হাসিনার আন্দোলনের চেয়েও পালানোর পেছনে সব থেকে বড় যে উপসর্গ ছিল কিছু সুবিধাভোগী ছাড়া সমাজের সকল পেশার মানুষ তার উপর অতিষ্ঠ ছিল। শেখ হাসিনা পালানোর পিছনে সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার ফল। বিএনপি এটা এককভাবে দেড় যুগ ধরে করে আসছে। তাই এই জায়গায় এসে ঠেলাঠেলি আর খোঁচাখুঁচি সমর্থন যোগ্য না।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, সেনাপ্রধান বলেছিলেন আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে ক্যান্টনমেন্ট ৬২৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এটিও বলছিলেন আরও যদি কেউ নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নিতে চায় তাহলে তারা আশ্রয় দিবে। কিন্তু কথা হলো এখন তারা কোথায়? এ নিয়ে অনেক গুঞ্জন রয়েছে। সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা এবং সরকারি কর্মকর্তারা তাদের নিরাপদভাবে বের করে দিয়েছেন। না হলে পরবর্তীতে এই আশ্রয়প্রাপ্তরা কোথায় তা পরবর্তীতে জানানো হলো না কেন!
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম কলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, শাহজাহান সম্রাট প্রমুখ।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

