বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিকরা আজও তাদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের নামে নেতৃত্বে থাকা অনেকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, তাদের পকেট মোটা হয়েছে; কিন্তু শ্রমিকের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি।
শুক্রবার সকালে গাজীপুর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (পাইলট) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত শ্রমিক দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গাজীপুর মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গাজীপুর মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি হোসেন আলীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক ফারদিল হাসান হাসিব ও জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কবির আহমদ, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম, মহানগর উপদেষ্টা অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, মহানগরের সাবেক সভাপতি আজহারুল ইসলাম মোল্লাসহ অন্যরা।
সমাবেশে শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ইসলামী শ্রমনীতির প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকরাই দেশ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। অথচ তারাই আজ সর্বক্ষেত্রে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ৫৪টি জাতীয় বাজেট পাস হলেও কোনো সরকার আন্তরিকভাবে শ্রমিকবান্ধব ও শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানমুখী বাজেট প্রণয়ন করেনি।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিক তার ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য থেকে আজও বঞ্চিত। আট ঘণ্টা কর্মদিবস প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিকরা জীবন দিয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানে ১০, ১২ এমনকি ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হলেও যথাযথ ওভারটাইম দেওয়া হয় না। একটি স্বাধীন দেশে কেন আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হবে—এর জবাব সরকারের কাছে জানতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায্য মজুরির সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। নির্বাচনের আগে নেতারা শ্রমিকবান্ধব নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা ভুলে যান। ফলে শ্রমিকদের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। অতীতে অধিকার আদায়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা হয়েছে, গাজীপুরে শ্রমিকরা গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন দিয়েছেন।’
পোশাক শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের জিডিপি ও রপ্তানি আয়ে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও সেই শ্রমিকদেরই বেতনের দাবিতে রাজপথে নামতে হয়। ‘আমরা ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি করেছিলাম, কিন্তু যোগসাজশের মাধ্যমে তা সাড়ে ১২ হাজার টাকায় নির্ধারণ করে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ‘কৃষক ও শ্রমিকরা রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখছে। কিন্তু তারা ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা পাচ্ছে না। দেশে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।’
তিনি শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, ‘আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্য নেতৃত্বকেও আত্মসমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। নেতারা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করলেও শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। নেতাদের পকেট মোটা হয়েছে, কিন্তু শ্রমিকের পেট শুকিয়ে পিঠের সঙ্গে লেগে গেছে। নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেই দেশের শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়েছে।’
সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, অধিকার আদায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ন্যায়ভিত্তিক শ্রম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


