বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী দোসররা বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে আছে। যারা বিএনপি বিরোধী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী, তারা প্রশাসনে আছে। তারা গিরগিটির মতো রঙ পরিবর্তন ও নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করছে। নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না দেয়ার চক্রান্ত করছে।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ নীলফামারী জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তুহিনকে ছোটকাল থেকেই তাকে চিনি, সে খুবই ভালো ছেলে। সবার কাছে সমাদৃত একজন ব্যক্তি হচ্ছে তুহিন। অন্যান্য নেতারা মামলা থেকে রেহাই পেলেও, তুহিন কেন রেহাই পাবে না? তার নামে দুটি মামলা। একটি ইনকাম ট্যাক্সের, আরেকটি দুদকের। এটা সত্য যে, এই মামলাগুলো প্রতিহিংসামূলক। এই মামলার কোনো ভিত্তি ছিল না।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল যে মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন, সে যে অবৈধভাবে ক্ষমতা নিয়েছিল সেটা প্রমাণ করার জন্য বিএনপির সমর্থক কিছু নেতৃবৃন্দকে জনগণের সামনে কলঙ্কিত করার জন্য তারা নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। তার মধ্যে ছিল মিথ্যা মামলা। সেই মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছিল শাহরিন ইসলাম তুহিনের নামে। রাজনৈতিক কারণে তুহিনকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। একইরকম ঘটনায় অন্যরা রেহাই পেলে তুহিন কেন পাবে না? আইন মন্ত্রণালয় যেখানে বলেছে যে কোনো অসুবিধা নেই, তাহলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে এটি আটকে থাকার কথা নয়।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, আমরা বলেছি, যারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙেছে, যারা সংবিধান থেকে মুছে দিয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, তারা তো আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে, আজও চাকরি করছে। যে বিচারপতি আক্তারুজ্জামান বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েছে, সে এখনো কিভাবে বিচারপতি থাকে?
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আজকে মানুষ কিন্তু নানা কথা ভাবছে। যে দোসরদেরকে দুধ-কলা দিয়ে পোষা হচ্ছে। তারা হয়তো আপনার সরকারকে বিএনপির বিরুদ্ধে নানাভাবে বুঝাচ্ছে। তারা বুঝাচ্ছে বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে হবে। আমার মনে হচ্ছে, বিএনপির প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে আপনার সরকারের ভূমিকা মনে হচ্ছে এরকম। আপনার সরকারের ভেতর থেকে মনে হয়, তারা তো নির্বাচন চায় না। একটা মুলা ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। ডিসেম্বরে, না হলে ফেব্রুয়ারিতে বা জুনে এরকম নানা কথা বলছেন। কিন্তু, কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বলছেন না অমুক মাসেই নির্বাচন হবে।
নির্বাচন নিয়ে সরকারের তালবাহানা, আজকে দিনকে দিন কিন্তু দেশ তার যে ৭১ এর অহংকার এবং ২৪ এর ৫ আগস্টের যে অহংকার, সে অহংকার মিলিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা বহুদলীয়, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, এটাতো এখনো প্রতিষ্ঠা হয়নি। সেই সুযোগ অনেকে দেয়ার চেষ্টা করছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আজকে মানবিক করিডোরের কথা বলছেন। এই মানবিক করিডোরের কথা আপনাকে লুকিয়ে লুকিয়ে বলতে হচ্ছে। আপনার জনগণের ম্যান্ডেট নেই, আপনি নির্বাচিত নন। আজকে সব দিক থেকে এই কথা ধ্বনিত হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়া কি হবে, আমাদের সার্বভৌমত্বের অবস্থা কি হবে, এটা জনগণের কাছে কোনোভাবেই খোলাসা করেননি। অনির্বাচিত সরকার অনেক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু, আপনার সরকারের প্রতি প্রত্যেকটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু সেই সমর্থনের মধ্যে আপনাদের যে বলিয়ান হওয়ার কথা, সেই বলিয়ান আপনারা হতে পারেননি। কারণ জনগণের সাথে আপনারা কানামাছি খেলা খেলছেন। এতো লুকোচুরি করছেন যে, কানামাছি খেলতে গিয়ে জনগণের কাছে আপনারা সন্দেহের মধ্যে পড়ছেন।
আরো বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

