ইনকিলাব মঞ্চ

পুলিশের হেডকোয়ার্টার ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে 'জনতার জুলাই যাত্রা' শুরু

ঢাবি সংবাদদাতা

পুলিশের হেডকোয়ার্টার ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে 'জনতার জুলাই যাত্রা' শুরু

জুলাই গণহত্যায় পুলিশের যেসকল সদস্য সরাসরি জড়িত ছিলো তাদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা, পুলিশে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোসহ ৫ দফা দাবিতে পুলিশের হেডকোয়ার্টার ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে 'জনতার জুলাই যাত্রা' করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় শাহবাগ থানার সামনে থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। পদযাত্রাটি শাহবাগ থেকে টিএসসি মোড় হয়ে হাইকোর্ট দিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসময় 'পুলিশ, আমলা স্বৈরাচার; খুনী হাসিনার তাবেদার', 'ফ্যাসিবাদের পুলিশগিরি, নতুন দেশে চলবে না', 'খুনী হাসিনার হাতিয়ার, পুলিশ তুই ছবক ছাড়' প্রভৃতি স্লোগান দেন।

যাত্রা শুরুর আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগঠনটির মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এর আগেও পুলিশ বিনা কারণে বিএনপি-জামায়াত আখ্যা দিয়ে বাড়ি থেকে ছাত্রজনতাকে তুলে নিয়ে যেতো। কিন্তু সেই পুলিশই যখন প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করেছে, যেটার প্রমাণ আছে- তাদের গ্রেপ্তার করার কথা বললে আমাদের কাছে প্রমাণ খোঁজে। এর থেকে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে!

তিনি আরো বলেন, আমরা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সামনে গেলে সমস্যা, আর হত্যাকারীরা সেখানে থাকলে কোনো সমস্যা নাই? আমরা চাই দ্রুত তাদের তালিকা প্রকাশ করে গ্রেপ্তার করা হোক।

ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, যেসকল পুলিশ সদস্য গণহত্যার সাথে জড়িত তাদের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি। সরকার আশ্বাস দিলেও এ বিষয়ে কাজের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। যত দ্রুত সম্ভব তাদের তালিকা প্রকাশ করা, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবি জানান তিনি।

এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ বলেন, পুলিশকে শেখ হাসিনা 'পুলিশলীগ'-এ পরিণত করেছে। আমরা চাই পুলিশ প্রশাসনকে সংস্কার করা হোক। এসময় হত্যাকারী পুলিশদের বরখাস্ত করাসহ আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।

ইনকিলাব মঞ্চের ৫ দফা দাবি হলো-

* জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত সকল পুলিশকে অতিদ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের আওতায় আনা।

* জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা, মিথ্যা প্রতিবেদন ও হয়রানিতে যে সকল পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

* পুলিশে ছাত্রলীগের সকল ক্যাডারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো।

* জুলাই গণহত্যার দায়ে তিরস্কৃত ও বদলিকৃত পুলিশদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।

এবং

* দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি করা বন্ধ করা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন