লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করার ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানায় দলটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বুধবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাসিবুল আলম (২৪) নামক একজন বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় হাসিবুল আলমকে তুলে নিয়ে যায় বিএসএফ। রাতে ভারতের কোচবিহারের একটি হাসপাতালে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ইতিপূর্বে গত ১১ই এপ্রিল ঝিনাইদহের পলিয়ানপুর সীমান্তে ওয়াসিম হোসেন (৩৫) নামক এক বাংলাদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করে বিএসএফ এবং অমানবিকতার চরম দৃষ্টান্তস্বরূপ ওয়াসিম হোসেনের লাশ নদীতে ফেলে দেয়।
বিএসএফ কর্তৃক লাগাতার বাংলাদেশি নাগরিক হত্যায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি বলে, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতাকে সরাসরি ভঙ্গ করে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সীমান্তে অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের যুবকদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে এবং এমনকি তাদের লাশের সাথেও চরম অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। চলতি মাসেই অন্ততঃ তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক বিএসএফের হাতে শহীদ হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের গড়নকালে নানা সময়ে বাংলাদেশের তরুণরা সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংস্কতিক তৎপরতা জারি রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্রনীতি এখন পর্যন্ত সীমান্ত হত্যা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এসব ঘটনায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলটি আরও বলে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সহ আগামীর সকল সরকারকে আহ্বান জানাই– রাষ্ট্রের তরফ থেকে সীমান্তবর্তী সকল জেলার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। একইসঙ্গে, ঢাকাকেন্দ্রিকতার বাইরে গিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকার নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মসূচি হাতে নিন।
এসময় অভ্যুত্থানের সরকার হিসাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যার মতো এমন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপন করারও জোর দাবি জানায় এনসিপি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

