পারিবারিক বিরোধ ও চাঁদা না দেয়ায় এক ব্যবসায়ীকে জুলাই-আগস্টে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর তুরাগ থানা বিএনপির নেতা মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের। চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়েছে। হয়রানি থেকে বাঁচতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনিরউদ্দিন।
অভিযোগে মনিরউদ্দিন বলেন, রাজধানীর তুরাগ থানা বিএনপি নেতা মো. মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদেরের প্ররোচনায় দক্ষিণখান থানা বিএনপি কর্মী আসাদুল্লাহ নীরব জুলাই-আগস্টের হত্যাচেষ্টা মামলায় আমার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। অথচ ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আমি কানাডায় অবস্থান করি। যে সময়টায় আমি দেশেই ছিলাম না, ওই রকম একটা মিথ্যা মামলায় আমাকে জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক।
জানা যায়, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মনিরউদ্দিনের বাড়ি ফেনীতে। তিনি কানাডা প্রবাসী ও পেশায় ব্যবসায়ী। বিশ্বখ্যাত পোশাক ব্র্যান্ড ‘ইনডিটেক্স-জারা’র বাংলাদেশের এজেন্ট হিসেবে গত দুই দশক কাজ করছে। দেশে ২০টিরও বেশি ফ্যাক্টরিতে অর্ডারে কাজ করেন। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের সঙ্গে জমি নিয়ে এলাকায় বিরোধের রয়েছে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনিরউদ্দিনের। এ নিয়ে ফেনী জর্জ কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মনিরউদ্দিনকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দিচ্ছে মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের।
মনিরউদ্দিন বলেন, ফেনী কোর্টে চলমান মামলাটি তাদের বিপক্ষে পরিচালনা না করার জন্য আমাকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দিয়ে যাচ্ছে।পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন অভিযুক্তরা। টাকা দিলে আগস্ট হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে মনিরউদ্দিনের নাম প্রত্যাহার করবে বলে জানায়। আর টাকা না দিলে জুলাই-আগস্টের বিভিন্ন মামলায় তার নাম দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের ৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগের এমপি হাবিব হাসানের শেল্টারে উত্তরার রাজলক্ষ্মী ও আজমপুরের ফুটপাত থেকে টাকা উঠাতো। ৫ আগস্টের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
তারেক রহমানের কাছে অভিযোগে মনিরউদ্দিন বলেন, গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন আমি কানাডায় অবস্থান করি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবলীলা দেখে স্থির থাকতে পারিনি। তাৎক্ষণিক আমি আমার ঢাকাস্থ অফিসে যোগাযোগ করে আন্দোলনকারীদের সকল প্রকার সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেই। আন্দোলন চলাকালে উত্তরার বিভিন্ন স্পটে নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। আহতদের ওষুধ ও চিকিৎসা সেবার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করি। ৫ আগস্টের পর রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনরত শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করি। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির সময় প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে ৩ লাখ টাকা দান করি। আমি আমার সাধ্যমতো প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করি।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের উপর ঝেঁকে বসা যে সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সারাদেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। দেশের মানুষ মুক্তির আশা দেখা শুরু করে। কিছু কারণে আমাদের সেই আশা ফিকে হচ্ছে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কিছু অসাধু লোকজন মামলা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। আমাকে হয়রানি করছে।
এদিকে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মনিরউদ্দিনের নামে আমি কোন মামলা দেয়নি। তার কাছে কখনো চাঁদার জন্য ফোন অফিসে যায়নি, যদি চাঁদা চাওয়ার কোন প্রমাণ দিতে পারে তাহলে দল আমার বিরুদ্ধে যে শাস্তি নিবে তা মাথা পেতে নিবো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

