ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে: তারেক রহমান

ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতেই হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহনা চলবে না। ১০ মাস পার হয়ে গেলেও সরকার এখন পর্যন্ত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেনি।

বুধবার রাজধানীতে হওয়া তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার, দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। বিএনপির তিন অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সমাবেশ হয় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। এর আগে তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাবেশ হয় চট্টগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায়। সর্বশেষ ঢাকা, সিলেট, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ নিয়ে নয়াপল্টনে তারুণ্যর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে রঙিন টুপি, টিশার্ট, নেমপ্লেট ও প্ল্যাকার্ড হাতে তরুণরা অংশ নেন। এ সময় তারা ধানের শীষ এবং তারেক রহমানের লোগোসংবলিত গেঞ্জি ও টুপি পরেন।

বিকাল ৩টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই তরুণদের জোয়ার সৃষ্টি হয় নয়াপল্টন এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশ ঘিরে মানুষের সমাগম নয়াপল্টন ছাড়িয়ে মৎস্য ভবন, কাকরাইল, প্রেস ক্লাব, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, মতিঝিল, কমলাপুর, শাহজাহানপুর, মালিবাগ, শান্তিনগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। আবারও বলছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে হবে। সবাইকে বলছি, আপনারাও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। আপনারা জনগণের কাছে যান, তারা কী বলতে চায় তা মন দিয়ে শুনুন। সে অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন।

এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্লোগান দেন- ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

সমাবেশে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, জনগণই বিএনপির ক্ষমতার মূল উৎস। ক্ষমতায় না থাকলেও বিএনপি জনগণের উন্নয়নের কথা সব সময় চিন্তা করে। যে কোনো দলের কর্মসূচি পালনের জন্য দরকার একটি নির্বাচিত সরকার আর বিএনপি শুরু থেকেই এই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করবে। দেশের বহুল জনসংখ্যাকে যদি জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারি, তাহলে আমাদের আর পিছিয়ে থাকতে হবে না। এ সময় আগামী দিনের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আর কথা বলার রাজনীতি নয়, এখন বাস্তবায়ন ও দৃষ্টান্ত স্থাপনের সময়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখন টালবাহানা শুরু হয়েছে। অল্প সংস্কার না বেশি সংস্কার, এ নিয়ে চলছে টানাপড়েন। সংস্কারের আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে এবং বাইরে কারো কারো মনে হয় ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। এই সরকারের কেউ যদি ক্ষমতায় থাকতে চায় বা রাজনীতি করতে চায়, তাহলে আপনাদের বলব, ক্ষমতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে ইশরাকের শপথে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইশরাকের শপথ গ্রহণে বাধা দিয়ে আজ স্বৈরাচারের ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠ করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সরকার পরিচালনায় একটি কথা আছে- গণতন্ত্র সবার আগে। কিন্তু কথাটি শুধু লেখা মাত্র। তাই বলতে চাই, এমন কিছু করা যাবে না, যাতে মানুষের বিশ্বাস বা আস্থার জায়গায় থাকা না যায়। বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা যেন থাকে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে।

বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নারী-পুরুষ সবার জন্য মৌলিক কর্মমুখী শিক্ষা ও সর্বোচ্চ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিএনপি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এদের মধ্যে গ্রামীণ পর্যায়ে যারা অসচ্ছল, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করার উদ্যোগ নিয়েছি। রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তাদের আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হবে। একদিকে তাদের আর্থিক সংকট কাটবে অন্যদিকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ হবে। কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ড প্রণয়ন করা আমাদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এই ফারমার্স কার্ডে জমির পরিমাণসহ যাবতীয় তথ্য থাকবে। কাজের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ।

যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলালী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন