সিপিবি-বাসদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন হওয়া সম্ভব: প্রিন্স

ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন হওয়া সম্ভব: প্রিন্স

সিপিবিসহ গণতান্ত্রিক বাম জোটের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে বিএনপি। রোববার রাজধানীর বনানীতে হোটেল সেরিনায় বিকালে ৪টা থেকে প্রায় ১ ঘণ্টার এই বৈঠকে নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

ত্রয়োদশ নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে গত বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির জন্য দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করার। এর অংশ হিসাবে সিপিবি ও বাসদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করল বিএনপি।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি লিয়াজোঁ কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা সিপিবি-বাসদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে বসেছিলাম। তাদের সঙ্গে নির্বাচন ও সংস্কারসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা মনে করে, ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন হওয়া সম্ভব।

এই বৈঠক থেকে বের হয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স জানিয়েছেন, বিএনপি বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা। আমরা মনে করি ডিসেম্বরের আগেই বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়া সম্ভব এবং তা করার দিকে জরুরিভাবে এগিয়ে যাওয়া দরকার।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত হচ্ছে- তারা নির্বাচন কমিশনকে বলে দেবে- কথার কথা- তোমরা অক্টোবর, নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা কর। কারণ, নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত এটা ঘোষণা করবে, আমরা তত দ্রুত বাংলাদেশের অনেক সংকট দূর করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করতে পারি।

তিনি বলেন, আজকের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সিপিবি ও বাসদের নেতারা ছিলাম। আমরা এবং আমাদের জোট বহু আগেই বলে এসেছি যে, বাংলাদেশে জরুরিভাবে একটা নির্বাচিত সরকার দরকার। কারণ, অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন থাকলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে বিবৃতি দিয়েছিলাম, তাতে বলেছিলাম, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা বলেছি, ডিসেম্বর কেন, ডিসেম্বরের অনেক আগেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা সংস্কার করা প্রয়োজন তা করে নির্বাচন করা সম্ভব।

প্রিন্স বলেন, আজকের বৈঠকটি বাম গণতান্ত্রিক জোটের বৈঠক নয়, আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকও নয়। বিএনপির নেতৃবৃন্দের আমন্ত্রণে অনানুষ্ঠানিকভাবে চা খেতে এসেছিলাম। চা খেতে গিয়ে রাজনীতিবিদরা এক সঙ্গে বসলে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। সেটা আমাদের হয়েছে। তিনি মনে করেন, বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, আমাদের রাজনীতিতে একটা নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার। এই যে দেখা হওয়া, না- হওয়া- তা অনেকদিন ধরে বন্ধ ছিল সেইটা ভেঙে ফেলা দরকার। ভেঙে ফেলে পরস্পর জানাবুঝা, কিভাবে কাজ করছে, এবং কিভাবে আমরা একটা গণঅভ্যুত্থান করলাম, সংঘটিত করলাম এবং তারপরে কিভাবে গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যেতে চাই সেই কাজটা করা দরকার। সুতরাং আজকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যদিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং রাজনীতির নুতন সংস্কৃতি- এবিষয়গুলোই প্রধানত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন প্রধান এজেন্ডা হলো দ্রুততম সময়ের মধ্য নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা। রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

সিপিবির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যারা নির্বাচন করে সংস্কার করবে- তারাই আসল সংস্কারের পক্ষে। শক্ত ভিত্তির উপর সংস্কার করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ লাগবে, জনগণের সম্মতি নিতে হবে এবং সেটা করতে হলে একটা ইলেকশন অপরিহার্য। তবে যেকোনো নির্বাচনের নামে আমরা প্রহসন গ্রহণ করব না। অবাধ নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন তা অবশ্যই নির্বাচনের আগে করতে হবে। নির্বাচন করার মাধ্যমে সংস্কারের ভিত্তিভূমি শক্ত করে অগ্রসর হওয়াটা সঠিক পথ। যারা এটাকে অস্বীকার করবে তাদের হয়ত সংস্কারের নামে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

বাসদের জেনারেল সেক্রেটারি বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে আমরা এ বিষয়ে বলেছি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যখন দেখা করেছি, তারাও বলেছে, জুলাই মাসে মধ্যে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টাকেও সেটা বলেছি। আর সংস্কার। সংস্কার তো আমরাও চাই। আমাদের চেয়ে বড় সংস্কার চাওয়ার কে আছে। সেজন্য সংস্কার ও নির্বাচন- এই দুটাকে প্রতিপক্ষ বানানো দরকার নেই। উন্নয়ন আর গণতন্ত্র ফ্যাসিস্ট হাসিনা বানিয়েছিল, এখন সংস্কার আর নির্বাচনকে প্রতিপক্ষ না বানানো হয়। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে সংস্কার কার্যকর করা যায়। যে সংস্কারই করেন না কেন, সেটাও কিন্তু নির্বাচিত পার্লামেন্টে অনুমোদন করাতে হবে।

বৈঠকে বাম দলগুলোর নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি শাহ আলম বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, কমিউনিস্ট পার্টি সহ সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ ও বাসদের সহ সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন