মাদারীপুরের রাজৈরে ইয়াছিন মোল্লা (১৬) নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। সারারাত একটি নির্জন বাড়িতে আটকে রেখে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী। পরে কৌশলে মায়ের কাছে অবস্থানের ঠিকানা জানালে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়ি ঘেরাও করে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে কথিত অপহরণকারী চক্রের আরও দুই সদস্য পলাতক রয়েছে।
আটকরা হলেন সুনীল মণ্ডলের ছেলে আশীষ মণ্ডল (২১), মৃত সুবল বাড়ৈর ছেলে গ্রাব্যীয়েল বাড়ৈ (৫০) এবং ডলি বাড়ৈ (৪০), তিনি গ্রাব্যীয়েল বাড়ৈর স্ত্রী। পলাতকরা হলেন সুনীল বাড়ৈর ছেলে রনি বাড়ৈ (২৬) ও আমির মিয়ার ছেলে আকাশ মিয়া (২৪)।
রাজৈর থানায় দেওয়া ভুক্তভোগী ইয়াছিন মোল্লার জবানবন্দি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন আমগ্রাম ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামের আছাদ মোল্লার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সে আমগ্রাম ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামে তার নানাবাড়িতে থাকত।
বুধবার সকাল ৯টায় ইয়াছিন নানাবাড়ি থেকে টেকেরহাটে এক বন্ধুর জুতার দোকানে যায়। বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় রাজৈর থেকে অটোরিকশাযোগে নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় সে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশায় আকাশ নামে এক যুবকের সঙ্গে ইয়াছিনের পরিচয় হয়। কথাবার্তার একপর্যায়ে ইয়াছিন তার নানার নাম বললে আকাশ জানায়, ওই ব্যক্তি তারও আত্মীয়। একই বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তাকে ডুমুরতলা এলাকায় নামিয়ে নেয় আকাশ।
সেখানে কিছুক্ষণ পর আরও একজন হেলমেট নিয়ে আসে। ইয়াছিনকে হেলমেট পরিয়ে মাঠের ভেতরে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাকে পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা দিতে বলা হয়। পরিবারের সদস্যরা ফোন না ধরলে আকাশ তার সহযোগীদের ফোন করে একটি চাপাতি ও শিকল নিয়ে আসতে বলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা চাপাতি ও শিকল নিয়ে সেখানে হাজির হয় বলে ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ইয়াছিনকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করতে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে সে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানায়, তাকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ছেলের কোনো ক্ষতি না করার অনুরোধ জানিয়ে তার মা অপহরণকারীদের টাকা দেওয়ার কথা বলেন।
এরপর ইয়াছিনকে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
কোথায় রাখা হয়েছে, তা যেন ফোনে কাউকে না জানায়, সে জন্যও তাকে হুমকি দেওয়া হয়। এভাবে সারারাত তাকে ওই বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
পরে ইয়াছিনকে পাহারায় রাখা এক ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে তার মোবাইল ফোন নিয়ে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থানের ঠিকানা জানিয়ে দেয় ইয়াছিন। বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে থাকা পাহারাদাররা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও এরই মধ্যে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পরে তিনজনকে আটক করে ইয়াছিনকে উদ্ধার করা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে রাজৈর থানার এসআই নজরুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলায় বিভিন্ন ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় পলাতক দুই আসামিকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

