বিরোধীদলীয় নেতা

শেষ সময়ে লুটপাট বন্ধে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অর্থ বছর করা হোক

স্টাফ রিপোর্টার

শেষ সময়ে লুটপাট বন্ধে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অর্থ বছর করা হোক

শেষ সময়ে বাজেটের লুটপাট বন্ধে ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে অর্থবছর করার প্রস্তাব করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার বিরোধী দল হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিকল্প ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা’ অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব করেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দল হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বাজেট পেশ করেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা লক্ষ্য করি, এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসের তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণ লুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। কিছু অসৎ সুবিধাভোগীর পকেটে সুফল চলে যায়। আমাদের অর্থবছরটি ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে মিলিয়ে করা হোক আমরা সংসদে সেই প্রস্তাব দেব। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।

জামায়াতের জনবান্ধব বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মনে করি আগামীর বাজেট কেমন হওয়া উচিত? সেই ব্যাপারে জনগণের অভিপ্রায়কে অনুধাবন করে জনগণের সামনে আমাদের চিন্তাগুলা পেশ করা উচিত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি একটি বাজেট নয়, এটা বাজেটের পূর্ব ধারণা। এখান থেকে যদি সরকার ভালো কিছু পিকআপ করেন, জনগণ উপকৃত হবে এটা কোনো দলের বিষয় নয়। আমরা এই বাজেট কোনো দলের জন্য দিচ্ছি না। এই বাজেট ১৮ বা ২০ কোটি মানুষের জন্য হতে পারে। আমরা যে প্রস্তাবনাটা জনগণের সামনে পেশ করব- এটার শর্ত আছে। শর্তগুলো হলো-এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সততা, স্বচ্ছতা লাগবে, জবাবদিহিতা লাগবে। সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার যদি নিশ্চিত করা যায়। আমরা মনে করি যে বাজেট প্রস্তাবনা আমরা করব। সেটা অবশ্যই অর্জনযোগ্য। এ কিন্তু যদি সততা, স্বচ্ছতা এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি না থাকে, তাহলে বাজেট যে সরকারই দিক না কেন, ওই বাজেট কার্যকর হবে না।

তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবনায় আরও কিছু বিষয় থাকবে। সেটা এখানে এবং সংসদে। আমাদের অর্থবছর হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাস, বর্ষা খড়া, দুর্যোগ, সাইক্লোন- এগুলোতে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিয়ম রয়েছে বাজেট পুরো হওয়ার মিনিমাম তিন মাস আগে সম্পূরক বাজেট সংসদে পেশ করতে হবে। কিন্তু আমরা সম্পূরক বাজেট পাবই শেষ মাসে। বৈধ অবৈধ,ন্যায্য অন্যায্য সব খরচ হয়ে গেল। কালো সাদা হয়ে একাকার হয়ে গেল। তারপরে সম্পূরক বাজেট সংসদে আসল, তাতে জনগণের লাভ কি?

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের ট্যাক্স কালেকশনের যে পদ্ধতি রয়েছে, সেটা দারুণ ত্রুটিপূর্ণ। যারা ট্যাক্স দেন তারা তিন ধরনের ট্যাক্স দেন। একটা ট্যাক্স ট্রেজারে (সরকারি কোষাগারে) জমা হয়, একটা কিছু ব্যক্তির পকেটে যায় (ট্যাক্স আদায়কারীদের একটি অংশ)। আরেকটা চাঁদাবাজদের পকেট যায়। ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। যার কারণে ট্রেজারির ট্যাক্সটা তার নম্বর ভলিউমের দিক থেকে ছোট হয়ে আসে।

তিনি বলেন, যদি সততা এবং স্বচ্ছতা মেনে ট্রাক্স কালেকশন করা যায়, অটোমেটিক্যালি ব্যবসায়ীরা বিপুল উৎসাহে আরও বেশি ট্যাক্স দিবেন জনগণ ও রাষ্ট্রকে। এতে রাষ্ট্র এবং জনগণ উপকৃত হবে। তাছাড়া ট্যাক্স বেস সম্প্রসারণ করার প্রয়োজনকে আমরা অস্বীকার করি না। আমরা প্রিয় দেশবাসীর কাছে জনবান্ধব একটি বাজেট প্রস্তাবনা আমাদের বিবেচনায় পেশ করতে যাচ্ছি। আসল বিচারক হবেন জনগণ। বাজেট পেশ করার পরে আমরা সচেতন জনগণের কাছ থেকে ফিডব্যাক আশা করব। আমাদের কোনো প্রস্তাবনা তাদের কাছে ভালো লাগলে সেটা বলার দরকার নেই।

কিন্তু কোনো প্রস্তাবনা যদি জনস্বার্থের বিপক্ষে হয়, তারা যেন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, আমাদের সমালোচনা করে সহযোগিতা করেন। আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সমালোচনাকে অভিনন্দন জানাব। এখান থেকে শিখব আমাদের জ্ঞানের ঘাটতি পূরণ করব। জনগণের জন্য আগামীতে আরও সুন্দর এবং আরও পরিপূর্ণ চিন্তা করার প্রয়াস পাব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাইতে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতার আগে নেতারা জনগণকে ওয়াদা দিয়েছিলেন- এমন একটি দেশ আমরা জনগণকে উপহার দেব, যেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে। বেকারত্ব থাকবে না। আমরা সমস্ত শিশুদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করব। কিন্তু না, তার কোনো ওয়াদা তারা পূরণ হয়নি। বরং ক্ষমতায় বসে জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে তৎকালীন সরকার দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। যার কারণে দুঃখজনকভাবে তাদেরকে বিদায় নিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্রমাগত পথ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশ এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে এ দেশের মানুষ একটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়ে বুক পেতে লড়াই করেছিল। লড়াই কোনো দলের পক্ষ থেকে হয়নি। এই লড়াই হয়েছে জনগণের পক্ষ থেকে। সমগ্র দেশবাসী, ছাত্র, জনতা, শ্রমিক-কৃষক- সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং লড়াইয়ের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক সকল জায়গায় আজকের নির্লজ্জ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট। সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা কর্পোরেশন সবগুলোয় সেই থাবা বিস্তৃত হচ্ছে এবং সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিভিন্নভাবে প্রমাণিত। এভাবে যদি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উপর রাজনৈতিক অন্যায্য হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে জাতির গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমির।

এ সময় জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মো.সেলিম উদ্দিন, ড, শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান ও সেক্রেটারি জেনারেল নিজামুল হক নাঈম, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...