ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সীমান্তে পুশ ইন এবং সীমান্ত হত্যা অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বক্তারা সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও জোরপূর্বক পুশ-ইনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ফুলতলা বাজারে বাদ জুমা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ফুলতলা ইউনিয়ন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার মো. আজিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব রুমেল আহমদ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন (সুরমান), উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার মোস্তাকিম আলী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. তারেক মিয়া।
এ সময় স্থানীয় জামায়াত, ছাত্রশিবির, শ্রমিক, যুব, ছাত্র, উলামা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যশোর (বেনাপোল)
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অব্যাহত সীমান্ত হত্যা, ভারত কর্তৃক পুশ-ইন কার্যক্রম এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে যশোরের বেনাপোলে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে বেনাপোলের রহমান চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন।
যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান।
বক্তারা বলেন, সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা এবং জোরপূর্বক পুশ-ইনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থি। তারা অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং পুশ-ইন কার্যক্রমের অবসান দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের জনগণ কখনো মেনে নেবে না। দেশের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সরকারকে আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পুশ-ইন কার্যক্রমের অবসান এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর হাবিবুর রহমান, এনসিপি যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক নুরুজ্জামান, এলডিপি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম মিলন, বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, এনসিপি জেলা শাখার সেক্রেটারি আবু জাফর, যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শার্শা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর তৈয়েবুর রহমান জাহাঙ্গীর, উপজেলা সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি রাশেদুল ইসলাম, এনসিপি শার্শা উপজেলার সংগঠক মুরাদ উদ দৌলা, বেনাপোল পৌর জামায়াতের আমীর রেজাউল করিম এবং সেক্রেটারি মাওলানা ইউসুফ আলী।
দিনাজপুর (বিরামপুর)
দিনাজপুরের বিরামপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা জাগপার আহ্বায়ক ইমরুল কায়েস রুপম, জেলা এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব একরামুল হক আবীর, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম সৈকত, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম, জেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বিরামপুর উপজেলা আমির হাফিজুল ইসলাম, হাকিমপুর উপজেলা আমির মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি প্রভাষক এনামুল হক এবং সাবেক জেলা শিবির সভাপতি জাকির হোসেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা মো. মোবারক হোসাইন।
তিনি তার বক্তব্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর আগ্রাসী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তারা বলেন, সার্বভৌম বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন বা জোরপূর্বক পুশ-ইনের চেষ্টা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুফতি আবু ইউসুফ মাহমুদী, শরীফ মু. আব্দুল বাতেন, মো. শিবলী নোমানী, হাফেজ নুরুল আমিন, মাওলানা গোলাম সারোয়ার এবং জাহিদ হাসান মোল্লা।
এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতা এস. এম. আজাদ মানিক, জামাল মিয়া, কবির আহমেদ ও মাওলানা আক্তার হোসেনসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
নওগাঁ
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় ভারতীয় পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার আমাইতাড়া বাজার থেকে বের হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক।
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মহিউদ্দীন, অ্যাডভোকেট আ. স. ম. সায়েম, মারুফ আহমেদ, কামরুজ্জামান জুয়েল, দেওয়ান মাহবুব সোহাগ, শাহান শাহ চিশতী এবং আব্দুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর নির্যাতন, হত্যা ও জোরপূর্বক পুশ-ইনের ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
ফেনী
ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে বিএসএফ কর্তৃক পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।
এ সময় বক্তব্য রাখেন মাওলানা মোজাফ্ফর আহমদ, মাওলানা নাজমুল আলম, ইমাম হোসেন আরমান, হাফেজ আহমদ, ইসমাইল হোসেন এবং আনম আবদুর রহিম। সমাবেশ পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন ও মো. ইলিয়াস।
বক্তারা সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধে সরকারের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হওয়া মিছিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক সাথোআই মারমা, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও খাগড়াছড়ি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী এবং অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন।
বক্তারা অবিলম্বে সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন বন্ধ, সীমান্ত হত্যা রোধ এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কমলগঞ্জ উপজেলা
বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক অব্যাহত সীমান্ত হত্যা এবং ভারত সরকার কর্তৃক কথিত পুশ-ইনের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী আদমপুর বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সীমান্ত হত্যা ও জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দাবি করেন, গত ১০০ দিনে বিএসএফের গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। সম্প্রতি ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে বক্তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
মানববন্ধন ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার নায়েবে আমির সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর, উপজেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মনসুর আলী, কমলগঞ্জ পৌরসভা সভাপতি আব্দুল হাই, এনসিপির উলামা বিভাগের সহ-সভাপতি আবু হানিফা, সেক্রেটারি শফিকুর রহমান, আদমপুর খেলাফত আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী।
এছাড়া পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, গোয়াইনঘাট উপজেলাসহ সীমান্তবর্তী বাকী জেলাগুলোতেও একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

