বিশুদ্ধ নিয়তের সঙ্গে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুমিনদের মক্কা, মিনা, মুজদালিফা, আরাফা ময়দান প্রভৃতি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কিছু নির্দিষ্ট আমলের সমষ্টিকে হজ বলা হয়। জীবনে একবারই এটা পালন করা ফরজ। এরপর যতবার পালন করা হবে, তা নফল। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর আল্লাহর জন্য মানুষের ওপর সেই ঘরের (বায়তুল্লাহ) হজ পালন করা অত্যাবশ্যক, যে তথায় পৌঁছাতে সক্ষম।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)
শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
হজ যেহেতু একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ইবাদত এবং হজের নির্ধারিত স্থানগুলোয় যাওয়ার সময় প্রচুর হাঁটতে হয়, তাই হজে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। কেননা হজের সময় ভিন্ন দেশের আবহাওয়া স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে গরমে হাঁটার প্রয়োজন হতে পারে। কেননা হজের সময় পর্যাপ্ত যানবাহন পাওয়া যায় না। ফলে হেঁটেই যাত্রা করতে হয়। এ ছাড়া খালি পায়ে চলতে হবে।
সফরের পাথেয় সংগ্রহ
সফরের সব পাথেয় সফরের আগে সংগ্ৰহ করতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে টুপি, চিরুনি, আয়না, সাবান, টুথব্রাশ, মেসওয়াক, তায়ামুমের মাটি, নারীদের হিজাব, নিকাব প্রভৃতি। সফরের পাথেয় সংগ্রহ করা নিঃসন্দেহে জায়েজ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে বনী আদম (মানবজাতি), আমরা তোমাদের ওপর অবতীর্ণ করেছি পোশাক, যা তোমাদের গোপনাঙ্গগুলো আবৃত রাখে এবং আসবাবপত্র (যা তোমাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করো) আর তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম।’ (সুরা আরাফ : ২৬)
হজের মাসয়ালা-মাসায়েল জেনে নেওয়া
হজে অনেক সময় মুয়াল্লিমের সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব হয় না। ভিড়ের কারণে অনেক হাজিই নিজ মুয়াল্লিমকে হারিয়ে ফেলেন। এ জন্য আশপাশের কোথায় হজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে জেনে নিয়ে সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হজে গেলে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এ ছাড়া নিজে বই-পুস্তক পড়েও হজের মাসয়ালা-মাসায়েল এবং কোথায়, কখন কোন আমল করতে হবে সে সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।
নিয়তের বিশুদ্ধতা
প্রত্যেক আমল গ্ৰহণযোগ্য হওয়ার শর্ত হচ্ছে ওই আমলের নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া। বিশুদ্ধভাবে আল্লাহর জন্য করার নিয়ত ব্যতিরেকে কোনো আমলই কবুল হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমলের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভর করে।’ (বোখারি : ১)
হক্কুল ইবাদত পরিশোধ করা : হজের আগে কোনো হজযাত্রীর হক্কুল ইবাদ অপরিশোধিত থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। কারো মনে কথাবার্তা বা কাজকর্মে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে। কারো পক্ষ থেকে কষ্ট পেলে তা মাফ করা উত্তম। সব হক্কুল ইবাদ পরিশোধ করে দায়মুক্ত হয়ে হজ পালন করতে হবে। কেননা হাদিসে এসেছে, হক্কুল ইবাদ বান্দা মাফ করে দেওয়া পর্যন্ত মাফ হবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

