স্পিনও খেলতে পারে না বাংলাদেশ

স্পিনও খেলতে পারে না বাংলাদেশ

দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ডুবেছিল মোহাম্মদ শামির বোলিং তোপে। তার বলে ঘায়েল হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত-সৌম্য সরকাররা। রাওয়ালপিন্ডিতেও বাংলাদেশ পায়নি মনমতো সংগ্রহ। এবার বাধা হয়ে ওঠেন এক স্পিনার। ব্যাটিং অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েলের বোলিংয়ে ভাঙে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। তানজিদ তামিমকে ফিরিয়ে দারুণ শুরু করা বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙেন তিনি। পরে একে একে আউট করেন তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো ক্রিকেটারদের। গুরুত্বপূর্ণ চার ব্যাটারকে ফেরানো ব্রেসওয়েল বোলিং কোটার পুরোটা করে ২৬ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। তার মতো উইকেট না পেলেও বল হাতে সফল মিচেল স্যান্টনার ও গ্লেন ফিলিপসরাও। তাতেই স্পষ্ট রাওয়ালপিন্ডিতে স্পিনটাও ঠিকঠাক খেলতে পারেননি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দেখেশুনে ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশকে থামাতে নবম ওভারেই স্পিন আক্রমণ আনেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। নিজে স্পিন আক্রমণের নেতা হলেও পার্ট-টাইম মাইকেল ব্রেসওয়েলকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক। ব্রেসওয়েলও সেই আস্থার প্রমাণ দেন ৪ উইকেট নিয়ে। কোটার পুরোটা বোলিং করে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের ফিরিয়ে আস্থার প্রতিদান দেননি, উইকেট শিকারের পাশাপাশি করেছেন ৪৩ ডট বল। সব মিলিয়ে পুরো ইনিংসে বাংলাদেশ খেলেছে ১৮১ ডট বল। এতেই স্পষ্ট গতকাল রাওয়ালপিন্ডিতে কিউই বোলারদের বিপক্ষে রান তুলতে কতটা সংগ্রাম করেছে বাংলাদেশি ব্যাটাররা।

বিজ্ঞাপন

মাইকেল ব্রেসওয়েলের মতো স্পিনে সাফল্য পেয়েছেন মিচেল স্যান্টনার ও গ্লেন ফিলিপস। ১০ ওভারে ৪৪ রান দেন স্যান্টনার আর ২ ওভারে ১০ রান দেন গ্লেন ফিলিপস। এই দুজন কোনো উইকেট শিকার করতে না পারলেও বোলিংয়ে রেখেছিলেন নিয়ন্ত্রণ। তাতে দুজন মিলে ১২ ওভারে দেন ৩৬ ডট বল। অর্থাৎ তাদের করা বলের অর্ধেক থেকেই কোনো রান আসেনি বাংলাদেশের ইনিংসে। ব্রেসওয়েল, স্যান্টনার ও ফিলিপস- তিন স্পিনারের করা ১৩২ বলের (২২ ওভার) মধ্যে ৭৯ বলেই কোনো রান করতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটাররা। এই সময়ে বাংলাদেশের ইনিংসে যোগ হয়েছে মোটে ৮০ রান। স্পিনারদের বিপক্ষে গতকাল বাংলাদেশের রানরেট মাত্র ৩.৬৪। এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট বাংলাদেশের ব্যাটাররা কতটা অসহায় ছিলেন কিউই স্পিনারদের বিপক্ষে। অথচ পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের রানরেট ছিল ৪.৭২। স্পিনারদের বিপক্ষে ৮০ রানের বিপরীতে কিউই পেসারদের বিপক্ষে ২৮ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ১৫৬ রান। পেসারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলারদের রানরেট ছিল ৫.৫৭।

কিউই বোলারদের এমন দাপটের বিপরীতে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্য সরকারকে একাদশ থেকে সরিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে জায়গা করে দেওয়ায় ওপেনিংয়ে নামেন অধিনায়ক। দলের ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১১০ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৭ রান। ১৫৩ মিনিট উইকেটে থেকে ৭০ স্ট্রাইক রেটে সাজানো এই ইনিংসে ছিল ৯টি চার। তার লড়াইয়ের ওই সময়ে একে একে কিউই স্পিন আক্রমণে ভুল শটে ফেরেন তানজিদ তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। ইনিংসের নবম ওভারে ব্রেসওয়েলের বলে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে ফেরেন ২৪ বলে ২৪ রান করা তানজিদ।

তার বিদায়ের পর মেহেদি হাসান মিরাজও ফেরেন দ্রুতই। তাতে ৬৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই সময় চাপ আরো বাড়িয়ে তোলেন তাওহিদ হৃদয়। ব্রেসওয়েলের বলে কাভারে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ব্রেসওয়েলের বোলিংয়ে স্লগ সুইপে আউট হন মুশফিকুর রহিম। ভারতের বিপক্ষে গোল্ডেন ডাকের শিকার হওয়া মুশফিক এদিন ৫ বলে করেন ২ রান। তার বিদায়ের পর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও চাপ নিতে পারেননি। কিউইদের দিনের সেরা বোলার ব্রেসওয়েলের বলে শর্ট থার্ডে ক্যাচ তুলে ফেরেন। তাদের এমন আত্মাহুতি দেওয়া ইনিংসে মনে হচ্ছিল উইকেটে যেন রান করাটাই কঠিন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন