ঢাকা টেস্ট যেন নিজেদের প্রমাণের পরীক্ষা

ঢাকা টেস্ট যেন নিজেদের প্রমাণের পরীক্ষা

টেস্টে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সাফল্য বেশ ভালো। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে দারুণ শুরু করা নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে নিয়ে আলোচনাটা উঠেছে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হারের পর। এরপর অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে সিরিজ ড্র করে ফেরা বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে জেতা ম্যাচও ড্র করেছে। ফলে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের পরীক্ষার মঞ্চ। এ পরীক্ষার প্রথম ধাপে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুদল। এ ম্যাচ একদিকে যেমন সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই, অন্যদিকে তেমনি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আরো জোরালো করার হাতছানি। সাম্প্রতিক ব্যর্থতা পেছনে ফেলে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়াই এখন নাজমুল হোসেন শান্তর দলের লক্ষ্য।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ২০.৮৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হাতে এই চক্রে আরো ছয়টি টেস্ট রয়েছে। ফলে ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজটি ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার আগে প্রয়োজন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুল কমানো।

বিজ্ঞাপন

অধিনায়ক শান্তর ভাবনায় অবশ্য দূরের হিসাব নয়, আপাতত একটি ম্যাচই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে আমি শুধু এ টেস্ট নিয়েই ভাবছি, এমনকি দুই ম্যাচের সিরিজ নিয়েও নয়।’ তার কথায়, নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বড় লক্ষ্য এমনিতেই অর্জন করা সম্ভব। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কাছেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠার সম্ভাবনা বড় প্রেরণা। ‘ফাইনালে খেলার লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা আমাদের অবশ্যই রয়েছে’—বলেছেন তিনি। তবে প্রস্তুতির সময় কম পাওয়ার বিষয়টিও বাস্তবতা। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ব্যস্ত থাকায় দলের সব ক্রিকেটারকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার সুযোগ সীমিত ছিল।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজও সিরিজটিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির ভাষায়, ‘বাংলাদেশের নিজেদের মাঠে তাদের বিপক্ষে খেলা চ্যালেঞ্জিং হবে, আর আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।’

অধিনায়ক রস্টন চেজের নেতৃত্বে ক্যারিবীয়দের লক্ষ্যও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের অবস্থান উন্নত করা, ‘এ সিরিজে আমরা দুটি ম্যাচই জিততে চাই। এর ফলে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে থেকে বছর শেষ করতে পারব।’

বাংলাদেশ দলে ফিরেছেন লিটন দাস ও তাসকিন আহমেদ। লিটনের প্রত্যাবর্তন ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতা জোগাবে, আর পেস আক্রমণে তাসকিনের গতি ও দক্ষতা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গতকাল অনুশীলনে হাতে আঘাত পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম; তার চোটের অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্পিনে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব।

বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আছে। এখন প্রয়োজন পাঁচ দিন ধরে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা। ঢাকা টেস্টে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই সিরিজে ভালো শুরুর পাশাপাশি ফাইনালের স্বপ্নও পাবে নতুন গতি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন