ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ভোটের ফলাফলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ পার্টি। বিশেষ করে আরব-ইসরাইলি ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নির্বাচনের হিসাব বদলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব-ইসরাইলি বা ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি। এই জনগোষ্ঠীর ভোটের হার বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দলের আসনসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলের নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থায় কোনো দল যত বেশি ভোট পায়, পার্লামেন্টে সাধারণত তত বেশি আসন পায়। তবে নির্বাচনে কম আসন পেলেই যে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে, বিষয়টি এমন নয়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারলে তিনি আবারো প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
বুধবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে নির্বাচনের ফলাফলের পর ইসরাইলে সরকার গঠনের সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম সম্ভাবনা হলো, নির্বাচনে লিকুদ পার্টি প্রত্যাশার চেয়ে কম আসন পেলেও নেতানিয়াহু তার বর্তমান মিত্রদের নিয়ে আবারো জোট গঠন করতে পারেন। প্রয়োজনে ছোট দলগুলোকেও জোটে যুক্ত করে পার্লামেন্টের ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে পারেন তিনি। এমনটি সম্ভব হলে নির্বাচনে পিছিয়ে থেকেও ক্ষমতায় থাকার সুযোগ থাকবে তার।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের দল বেশি আসন পেতে পারে। অন্য দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আরব দল রা'ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দলটি বিরোধী জোটে যোগ দিয়ে সরকার গঠনের পথ সুগম করতে পারে। ২০২১ সালেও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রা'মের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয় সম্ভাবনা হলো, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোত একসঙ্গে জোট সরকার গঠন করতে পারেন। এমন সরকারকে জাতীয় ঐক্য সরকার বলা হয়। এতে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর পাশাপাশি অন্যান্য দলের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলে এমন একটি সরকার গঠনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পরামর্শ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কোনো একক পক্ষের পক্ষে সরকার গঠন কঠিন হয়ে পড়লে জাতীয় ঐক্য সরকার একটি বিকল্প হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


