শিরোপা লড়াইয়ের দামামা বেজে গেছে ক্লাব বিশ্বকাপে। নিজ নিজ দলের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছে ক্লাবগুলো। কিন্তু অন্য ক্লাবগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অকল্যান্ড সিটি। ক্লাব মানেই তো পেশাদার ফুটবলারদের ছড়াছড়ি। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্লাবের বেলায় ব্যাপারটা সম্পূর্ণ উল্টো। এই ক্লাবের কোনো ফুটবলারই পেশাদার নন। তাদের কারো পেশাই ফুটবল নয়।
দলের অনেকে পূর্ণকালীন অন্য কোনো কাজ করেন। কেউ কেউ আবার করেন পড়াশোনা। ফুটবল খেলা তাদের কাছে যেন পার্ট-টাইম জব। দলে রয়েছেন নানা পেশার লোকজন। কেউ কোমল পানীয় বিক্রির সঙ্গে জড়িত। আবার অনেকে কাজ করেন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে। তাদের কেউ নরসুন্দর, কেউ আবার কাঠমিস্ত্রি।
আর্থিক দুরবস্থার কারণেই অকল্যান্ড সিটিতে নেই কোনো পেশাদার ফুটবলার। শুধু তাই নয়, ক্লাবটিতে নেই অনুশীলনের আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। দলের সিংহভাগ ফুটবলারদের তাই অনুশীলন আর জিম করতে হয় অন্য কোথাও। কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা ছাড়া অভাব-অনটনকে সঙ্গী করেই অবিশ্বাস্যভাবে ক্লাব ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে অকল্যান্ড সিটি।
ক্লাবটি ওশেনিয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে গত বছর। সে সুবাদেই ক্লাব বিশ্বকাপের কেটেছে অকল্যান্ডের দলটি। ক্লাব ফুটবলের মহাযজ্ঞের গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ, পর্তুগালের বেনফিকা ও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্লাব বোকা জুনিয়র্স। ফুটবল দুনিয়ার বড় বড় ক্লাবের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত তারা। নামি-দামি এসব ক্লাবকে বিস্ময় উপহার দিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার প্রহর গুনছে এখন অকল্যান্ড সিটি।
অন্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও ফুটবলের প্রতি রয়েছে অকল্যান্ড সিটির ফুটবলারদের অদম্য ভালোবাসা। ক্লাবটির অধিনায়ক মারিও ইলিচের কণ্ঠে ঝরল সেই সুর, ‘লোকজন বলে পেশাদার খেলোয়াড়রা অনেক পরিশ্রম করে। এটা অবশ্য সত্য। কিন্তু আমরা দুটি, এমনকি কেউ কেউ তিনটি কাজ করি। তবু বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ে খেলার চেষ্টা করছি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


