ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মের পর এবার জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজের জাত চেনালেন রশিদ খান। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দিয়েছেন আফগানিস্তানের এই লেগ স্পিনার। তার বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ২০৭ রানে গুটিয়ে গেছে আইরিশরা। ফলে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯২ রানের বড় জয় পেয়েছে আফগানিস্তান।
ব্রেডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি কমে ৪৭ ওভারে নেমে আসে। প্রথমে ব্যাট করে ইব্রাহিম জাদরানের ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের ওপর ভর করে ৮ উইকেটে ২৯৯ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। এছাড়াও সেদিকউল্লাহ অটল করেন ৪৫ রান। আয়ারল্যান্ডের হয়ে মার্ক অ্যাডায়ার ও জয় মুন্দ্রা দুটি করে উইকেট নেন।
২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল আয়ারল্যান্ড। ১৪.১ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে স্বাগতিকরা জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেন রশিদ খান।
রশিদের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে আইরিশরা। ৯৬ রান থেকে ২০৭ পর্যন্ত যেতে গিয়ে বাকি ৯ উইকেট হারায় তারা। মাত্র ৩৩.৪ ওভারে অলআউট হয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন কেড কারমাইকেল।
রশিদের বোলিংয়ের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক ছিল শেষের ধস। আয়ারল্যান্ডের শেষ সাত উইকেটের চারটিই নিয়েছেন তিনি। তাতে মাত্র ৯ রানের মধ্যে শেষ পাঁচ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
সব মিলিয়ে ৭.৪ ওভারে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন রশিদ। তার ৪৬টি বৈধ ডেলিভারির মধ্যে ২৩টিই ছিল ডট বল। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।
এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে রশিদের সপ্তম পাঁচ উইকেটের ইনিংস। বর্তমান সময়ের স্পিনারদের মধ্যে ওয়ানডেতে তার চেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আর কারও নেই। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি রশিদের তৃতীয়বার। সব মিলিয়ে এই তালিকায় রশিদের সামনে এখন শুধু পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিস। ওয়ানডেতে পাঁচবার ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছেন তিনি।
এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে রশিদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল আফগানিস্তানরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

