সাত হাজার টেস্ট রান ক্লাবের দ্বারপ্রান্তে মুশফিক

সাত হাজার টেস্ট রান ক্লাবের দ্বারপ্রান্তে মুশফিক

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ এসেছে মুশফিকুর রহিমের। ২৩ বছর আগের দলে ছিলেন না বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। সে হিসেবে এই প্রথম অজিদের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন মুশফিক। ডারউইনে আগামীকাল ক্যারিয়ারের ১০৪তম টেস্ট খেলতে নামবেন এই ব্যাটার। এ ম্যাচে তার সামনে অপেক্ষা করছে দারুণ এক মাইলফলক। ৭ হাজার টেস্ট রান থেকে মাত্র ১৯৪ রান দূরে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তাই দুই ম্যাচের এই সিরিজ মুশফিকের ক্যারিয়ারে একইসঙ্গে ঐতিহাসিক ও আবেগঘন এক অধ্যায়ও বটে।

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছেন মুশফিক। বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি প্রজন্মের অনেক তারকাই অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালও সে তালিকায় রয়েছেন। সে জায়গায় ৩৯ বছর বয়সি মুশফিক এবার নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এক অপূর্ণতা পূরণের দ্বারপ্রান্তে। ৭ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকটি ছুঁতে সিরিজের শুরুতেই বড় ইনিংস প্রয়োজন হবে। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে কাজটি সহজ হবে না। তবে মুশফিকের অভিজ্ঞতাই হতে পারে বড় ভরসা।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে মুশফিকের জন্য সিরিজে রান করাও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠতে পারে। ডারউইনে বাংলাদেশ মাঠে নেমেছে ড্রপ-ইন পিচে। এর আগে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ড্রপ-ইন পিচে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এ ধরনের উইকেটে প্রথমবার টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। মুশফিকের সঙ্গে পুরো দলের জন্যও এই পিচ চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠতে পারে। কেননা, ড্রপ-ইন পিচের অসমান বা অতিরিক্ত বাউন্সের সঙ্গে বাংলাদেশ পরিচিত নয়। খুব নিচু হয়ে আসা কিংবা বুক সমান উঁচুতে লাফিয়ে উঠে বলে বাংলাদেশের দুর্বলতা আছে। অবশ্য ট্রফি উন্মোচনের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তার দল।

ম্যাচের আগে ড্রপ-ইন উইকেট নিয়ে শান্ত বলেন, ‘ড্রপ-ইন উইকেটে খেলার সুযোগ আমাদের হয়নি। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের এই চ্যালেঞ্জগুলো মানিয়ে নিতে হবে। আর আমি যেমনটা বলেছি, প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। আশা করি আমরা এ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব।’

ডারউইনের উইকেটে ঘাস থাকলেও ব্যাটার ও বোলারদের জন্য সুযোগ দেখছেন শান্ত। তার ভাষায়, ‘উইকেটে অবশ্যই ঘাস আছে। তবে আমার মনে হয় উইকেটটা ভালো হবে। এখানে বোলিং ও ব্যাটিং দুই বিভাগেই সাহায্য থাকবে। বোলাররা হয়তো একটু বেশি সুবিধা পেতে পারে। উইকেট দেখে ভালোই মনে হয়েছে। আমার মনে হয় ব্যাটিং-বোলিং দুদিক থেকেই চ্যালেঞ্জ থাকবে। চেষ্টা করতে হবে দুই বিভাগেই ভালো করার।’

প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ম্যাচকে এখন আর গুরুত্ব দিতে চান না শান্ত। তিনি বলেন, ‘ওটা তো প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল, এমন হতেই পারে। আমরা আগেভাগেই এসেছিলাম নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য। মনে হয় আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব বলেই আশাবাদী।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৬ টেস্ট খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। বাকি ৫ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। সেই কঠিন পরিসংখ্যান পেছনে ফেলে এবার নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা। আর সে ইতিহাসের কেন্দ্রে থাকতে পারেন মুশফিক। এবার দেখার পালা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের সঙ্গে ৭ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকে নাম লেখাতে পারেন কি না ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত এই তারকা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন