২৫ টেস্ট, এক জয়, ২৪ হার

দ. আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ

দ. আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে গেছে বাংলাদেশ। দলটি যেহেতু অস্ট্রেলিয়া এবং তাদের মাটিতেই খেলা, তাই বাংলাদেশের জন্য লড়াইটা কঠিনই হবে। সিরিজে রওনা হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ভালো কিছু করার জন্য ‘আলাদা কিছু’ করার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশকে নিজেদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সফরে রওনা হওয়ার আগে বড় কোনো ভবিষ্যদ্বাণী না করে স্বীকার করেছেন, সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা। নির্বাচকের আশাবাদ আর অধিনায়কের বাস্তববাদী স্বীকারোক্তির মাঝেই গতকাল অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। তবে ইতিহাস বলছে, শান্তদের সামনে অপেক্ষা করছে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে। কিন্তু সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াÑটেস্ট ক্রিকেটের বহুল আলোচিত চার দেশের (এই চার দেশকে সংক্ষেপে ‘সেনা’ বলা হয়) বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পরিসংখ্যানের পাতা থেকে দেখা যায়, সেনা দেশগুলোতে এখন পর্যন্ত ২৫টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জয় মাত্র একটি।

বিজ্ঞাপন

উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য সেনা দেশগুলো বরাবরই সবচেয়ে কঠিন গন্তব্য। ঘাসে মোড়া উইকেট, অতিরিক্ত বাউন্স, ধারাবাহিক সিম মুভমেন্ট এবং আবহাওয়ার বৈচিত্র্য মিলিয়ে এই চার দেশে টেস্ট জেতা এশিয়ার যেকোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই কঠিন সমীকরণ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পরিসংখ্যানে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলেছে মাত্র দুটি টেস্ট। ২০০৩ সালের সে সফরে দুই ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ১৩২ রানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংস ও ৯৮ রানে হেরেছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ইংল্যান্ডেও চার টেস্টে জয়হীন তারা। দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা আট টেস্টের প্রতিটিতেই পরাজয় সঙ্গী হয়েছে। সেনা দেশগুলোতে বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য এসেছে নিউজিল্যান্ডে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে স্বাগতিকদের আট উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত সেনা দেশগুলোতে সেটিই বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয়।

অন্য এশীয় দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের সংগ্রাম আরো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। সেনা দেশগুলোতে সবচেয়ে সফল ভারত, তাদের জয় ৩১টি। পাকিস্তান জিতেছে ২৮ টেস্ট, শ্রীলঙ্কার জয় ৯টি। বাংলাদেশের ঝুলিতে রয়েছে মাত্র একটি জয়। অবশ্য সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে ভারতই। ১৭৯ টেস্টে তাদের হার ৯৪টি, যা প্রমাণ করে এই চার দেশে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোর জন্যও কতটা কঠিন।

চার সেনা দেশের মধ্যেও সবচেয়ে কঠিন গন্তব্য ধরা হয় অস্ট্রেলিয়াকে। এখন পর্যন্ত ভারতই একমাত্র এশীয় দল, যারা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের পর ২০২০-২১ মৌসুমেও তারা বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ধরে রাখে। পাকিস্তান সেখানে ৪০ টেস্ট খেলে জিতেছে মাত্র চারটি। আর শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ এখনো প্রথম জয়ের অপেক্ষায়।

এবারের সফরে সে অপেক্ষা ঘুচানোর মিশন শুরু হওয়ার আগেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম প্রধান পেসার নাহিদ রানা। প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না লিটন দাস ও শরিফুল ইসলামও। বিপরীতে চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।

তবু আশার আলো নিভে যায়নি। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের সেই ঐতিহাসিক জয় এখনো মনে করিয়ে দেয়Ñপরিসংখ্যান সব সময় ভবিষ্যৎ লিখে দেয় না। সেদিনও খুব কম মানুষই বাংলাদেশের জয় কল্পনা করেছিল। কিন্তু এবাদত হোসেনরা ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন নিজেদের পারফরম্যান্সে।

সে বিশ্বাস নিয়েই এবার অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ। তবে নতুন ইতিহাস লিখতে হলে কেবল আত্মবিশ্বাসই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন হবে দীর্ঘ সময় ধরে শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্রিকেট খেলার। কারণ, সেনা দেশগুলোর কঠিন বাস্তবতা বদলাতে হলে টাইগারদের শুধু একটি ম্যাচ জিতলেই হচ্ছে না, নিজেদের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়েও জিততে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন