বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি ভেঙেছেন লিওনেল মেসির দীর্ঘদিনের রেকর্ড। কিন্তু ব্যক্তিগত এই অর্জনও ফরাসি অধিনায়কের হতাশা দূর করতে পারেনি। কারণ, তার কাছে রেকর্ডের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান ছিল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ।
শনিবার মায়ামিতে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে তৃতীয় স্থানও হাতছাড়া করে ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে অকপটে বলেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের আনন্দ ছাপিয়ে তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে ফাইনালে না খেলতে পারার আক্ষেপ।
বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যাওয়া এমবাপ্পে বলেন, “আমি সবসময় দলের জন্য গোল করতে চাই। এত গোল করতে পারা অবশ্যই বিশেষ কিছু। কিন্তু সত্যি বলতে, এই রেকর্ড না পেলেও যদি ফাইনাল খেলতে পারতাম, সেটাই বেছে নিতাম।”
রোববার স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফাইনাল নিয়েও নিজের ধারণা জানিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। সাবেক সতীর্থ লিওনেল মেসিকে নিয়ে হাসিমুখেই তিনি বলেন, “লিও তো সবসময়ই গোল করে। কালও (আজ) সে অবশ্যই গোল করবে।”
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেও আপাতত সেটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন এমবাপ্পে, “ফুটবল ক্যারিয়ারের উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসির দিক থেকে এটি অবশ্যই দারুণ অর্জন। হয়তো অবসরের পর একদিন ভাবব, আমিও কিংবদন্তিদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে এসব আমার মাথায় নেই।”
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। এমন হতাশাজনক শুরুর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “প্রথমার্ধ দেখে সমর্থকরা যদি হতাশ হয়ে থাকেন, আমি সেটা বুঝতে পারি। আমরা মানুষ, খারাপ দিন আসতেই পারে। প্রথমার্ধে আমরা পুরোপুরি ছন্দহীন ছিলাম।”
তবে বিরতির পর দলের লড়াইয়ের প্রশংসাও করেন তিনি, “দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের আসল রূপে ফিরেছিলাম। অনেক বেশি তীব্রতা আর আবেগ নিয়ে খেলেছি। আমরা দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটি ম্যাচ জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।”
এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়ালেন দিদিয়ের দেশম। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তাই প্রিয় কোচকে জয় দিয়ে বিদায় জানাতে না পারার আক্ষেপও ঝরে পড়ে এমবাপ্পের কণ্ঠে।
“আমরা তার জন্য বিশেষ কিছু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে মনে হয়েছে যেন আমরা তাকে হতাশ করেছি। আমরা তাকে এভাবে বিদায় জানাতে চাইনি। ফ্রান্সের ফুটবলের জন্য তিনি যা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। একটি ম্যাচের হার কখনোই তার কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ারকে ম্লান করতে পারবে না।”- বলেন ফরাসি অধিনায়ক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

