আধুনিক ফুটবলে জয়-পরাজয়, কৌশল আর পরিসংখ্যানই যেন সবকিছু। কিন্তু আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডাগআউটে সাফল্যের গল্পটা শুধু ট্যাকটিকসের নয়, বরং বিশ্বাস, বন্ধুত্ব আর পারস্পরিক আস্থারও। লিওনেল স্কালোনি, পাবলো আইমার, রবার্তো আয়ালা ও ওয়াল্টার সামুয়েল—এই চার বন্ধুর সমন্বয়ই গত কয়েক বছরে বদলে দিয়েছে আলবিসেলেস্তেদের ভাগ্য।
২০১৮ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর হোর্হে সাম্পাওলি দায়িত্ব ছাড়লে কঠিন এক সময়ে আর্জেন্টিনার কোচ হন স্কালোনি। অনেকেই তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু শুরু থেকেই পাশে ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের তিন বন্ধু—আইমার, আয়ালা ও সামুয়েল। সেই চারজনের নেতৃত্বেই নতুন করে গড়ে ওঠে আর্জেন্টিনা।
এরপরের ইতিহাস সবারই জানা। তাদের হাত ধরেই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। এবার উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপেও দলটি পৌঁছে গেছে ফাইনালে, যেখানে আরেকটি বিশ্বশিরোপা জয়ের হাতছানি।
বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সাফল্যের নেপথ্যের গল্প তুলে ধরেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান সহকারী কোচ পাবলো আইমার।
স্কালোনির সবচেয়ে বড় শক্তি কী—এমন প্রশ্নের উত্তরে আইমার বলেন, “সে শুধু ভালো একটি দল তৈরি করেনি, বরং এমন একদল মানুষকে একত্র করেছে, যারা সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। এটা খুব কঠিন একটি কাজ। স্কালোনির সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে সবাইকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং দলের মধ্যে এক ধরনের মানসিক শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে। এই পর্যায়ের ফুটবলে এমন পরিবেশ তৈরি করা সহজ নয়।”
আইমারের মতে, তাঁদের সম্পর্ক শুধুই সহকর্মীর নয়, বরং বন্ধুত্বের। আর সেই সম্পর্কই দলের ভেতরের পরিবেশকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু একসঙ্গে কাজ করি না, আমরা বন্ধু। একসঙ্গে সময় কাটাতে আমাদের ভালো লাগে। মাঠের ফলাফল সব সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, কিন্তু এই ৪০ দিন আমরা যেভাবে একসঙ্গে থাকি, সেই পরিবেশটা আনন্দময় হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে এই সময়গুলোর কোনো মূল্যই থাকত না।”
এই বন্ধুত্বের প্রভাব শুধু কোচিং স্টাফের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; সেটি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দলে। আইমার, আয়ালা ও সামুয়েলের সঙ্গে স্কালোনির বোঝাপড়া আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে তৈরি করেছে এক ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ, যা মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
তবে খেলোয়াড় হিসেবে তাঁদের বিশ্বকাপের স্মৃতিগুলো খুব সুখকর ছিল না। ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে শক্তিশালী দল নিয়েও শিরোপা জিততে পারেননি তাঁরা। সেই অতীতের কথা স্মরণ করে আইমার বলেন, “খেলোয়াড় হিসেবে আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছি, কিন্তু ট্রফি জিততে পারিনি। তাই স্মৃতিগুলোতে আনন্দ যেমন আছে, তেমনি কষ্টও আছে। তবে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারা এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার মুহূর্ত সব সময়ই বিশেষ।”
খেলোয়াড় হিসেবে যে স্বপ্ন তাঁদের অপূর্ণ ছিল, কোচ হিসেবে সেটিই পূরণ করেছেন এই চার বন্ধু। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার তাঁদের সামনে সুযোগ আরও একটি বিশ্বশিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার সাফল্যের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করার
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

