আগামীকাল সোমবার ইরান ম্যাচের দিকে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে পুরো পৃথিবীর। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। এই ম্যাচটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের সোফাই স্টেডিয়ামে। ফলে ম্যাচটিকে ঘিরে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের উত্তাপটাই বেশি। ইতিহাসে এই প্রথম যুদ্ধ চলমান অবস্থায় শত্রু দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলছে কোনো দেশ। কিছুদিন বিরতির পর আবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপে খেলা নিয়েই শঙ্কা ছিল ইরানের। শেষ পর্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বকাপ খেলছে তারা। নিঃসন্দেহে, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোর চেয়ে সব দিক থেকে তাদের বিশ্বকাপ খেলার চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি।
তুরস্কের ক্যাম্প গড়ার পর মেক্সিকোতে এসেছে ইরান দল। আর সেখান থেকেই যাওয়া-আসা করে যুক্তরাষ্ট্রে মাঠে ম্যাচ খেলবে তারা। শর্ত সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন ইরানিয়ানরা। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া বার্তা, ম্যাচ খেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে ইরান দলকে। ইরানের খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও তাদের অনেক অফিসিয়াল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। এর মধ্যে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিও আছেন। শুধু তাই নয়, ইরান সমর্থকরা যাতে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে দলকে সাপোর্ট করতে না পারেন, সেজন্য তাদের জন্য বরাদ্দ বিশ্বকাপ টিকিটও বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানামুখী জটিলতার মধ্যে বিশ্বকাপে যাওয়া ইরান জয় দিয়েই অভিযান শুরু করবে। ১৬৮ লেখা জার্সি পরে খেলবে তারা। যুদ্ধে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের মিনাব স্কুলে অন্তত ১৬৮ জন নিহত হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল শিশু। এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। এই নির্মম ঘটনার স্মরণেই এই বিশেষ জার্সি পরবে ইরান।
অবশ্য যুদ্ধের মধ্যেও বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই ইরান। জয়ের ছন্দেই আছে তারা। সর্বশেষ তিন ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে ৫-০, মালির বিপক্ষে ২-০ ও গাম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে তারা। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ইরান এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সেরা পারফরম্যান্স দেখানোর অপেক্ষায়। এ নিয়ে ১৭তম বার বিশ্বকাপ খেলছে তারা। কিন্তু কখনো গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। এবার গ্রুপ পর্ব উতরে নতুন ইতিহাস গড়তে চায় ইরান যোদ্ধারা। অন্যদিকে, তিন আসর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নিউজিল্যান্ড। এই প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে তারাও। সম্প্রতি আইভরি কোস্ট ও চিলির বিপক্ষে তাদের জয় আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি। সব মিলে ইরান-যুদ্ধাদের জয়ের হাসি নাকি নিউজিল্যান্ডে রঙিন ফেরা—সেটিই দেখার অপেক্ষা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

