স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ডের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

ইতালির পুনর্জাগরণের কান্ডারি তবে কি গার্দিওলা!

ইতালির পুনর্জাগরণের কান্ডারি তবে কি গার্দিওলা!
পেপ গার্দিওলা

স্পেন, জার্মানি এবং ইংল্যান্ড—ইউরোপের শীর্ষ তিন লিগেই ট্যাকটিক্যাল বিপ্লব ঘটিয়ে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করেছেন পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটিতে দীর্ঘ ১০ বছরের বাঁধভাঙা সাফল্যগাথা শেষে বর্তমানে বিশ্রামে থাকা এই পঞ্চাশোর্ধ্ব স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ডের পরবর্তী গন্তব্য কি তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল তাকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ করার জন্য? ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের জোর প্রচেষ্টার খবর ফুটবল বিশ্বে এখন আলোচনার তুঙ্গে। গার্দিওলার সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জিওভানি মালাগো। সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই কোচকে নিজেদের দলে ভেড়ানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

‘স্কাই ইন ইতালি’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি এবং তার উপদেষ্টা লিওনার্দো সম্প্রতি বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার সঙ্গে তিন দিন ধরে আলোচনা চালিয়েছেন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে পুনর্গঠন করার মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে তারা গার্দিওলাকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

৫৫ বছর বয়সি গার্দিওলা যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তবে তিনি হবেন ইতালি জাতীয় দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিদেশি কোচ এবং ১৯৬০-এর দশকের পর প্রথম। এই পদের দৌড়ে সাবেক ইতালি তারকা রবার্তো মানচিনি এবং আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও আলোচনায় রয়েছে।

ইতালিয়ান ফুটবলের পরিবেশ গার্দিওলার জন্য একদমই অজানা নয়। ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে খেলোয়াড় হিসেবে ইতালির সিরি ‘এ’-তে ব্রেসিয়া ও রোমার হয়ে দুটি মৌসুম কাটিয়েছেন। সাবলীলভাবে ইতালিয়ান ভাষায় কথাও বলতে পারেন।

অন্যদিকে, ইতালি ফুটবল দল বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো জিতলেও, ইতালি টানা তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ইউরোপীয় প্লে-অফ সেমিফাইনালে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে বাদ পড়ার পর গত এপ্রিলে পদত্যাগ করেন হেড কোচ জেনারো গাত্তুসো।

ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে ইতালির হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করা এবং ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দলকে গড়ে তোলাই হবে নতুন কোচের প্রধান লক্ষ্য।

ইংল্যান্ডকে জড়িয়েও গার্দিওলাকে নানা খবর ছড়াচ্ছে। কেননা টমাস টুখেলকে নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে এফএ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং একটি মৌখিক সমঝোতাও হয়েছিল, কিন্তু সিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায় তখন তা বাস্তবায়িত হয়নি। ওয়েইন রুনি ডাগআউটে দেখতে চান গার্দিওলাকে, ‘টমাস টুখেলের চেয়ে ভালো কোনো কোচ বর্তমানে ফাঁকা নেই, কেবল পেপ গার্দিওলা ছাড়া। পেপ যদি রাজি থাকেন, তবে এফএর তাকে নিয়ে আসা উচিত।’

ক্লাব ফুটবলের মতো দৈনন্দিন চাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলে থাকে না। ফলে গার্দিওলার মতো ট্যাকটিক্যাল জিনিয়াসের জন্য বিরতি কাটানোর সঙ্গে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া হতে পারে একটি আদর্শ বিকল্প।

ইতালির পরের ম্যাচ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে; বেলজিয়ামের বিপক্ষে নেশনস লিগে। একই গ্রুপে রয়েছে ফ্রান্স ও তুরস্কও। যদি গার্দিওলা ইতালির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন, তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। একের পর এক ইতিহাস গড়ে আসা পেপ গার্দিওলা কি তবে ইতালির ফুটবলে নতুন সূর্যোদয় ঘটাতে আসছেন? ফুটবল বিশ্ব এখন সেটিরই উত্তরের অপেক্ষায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন