মাঠে বল গড়ানোর আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে যায় মাঠের বাইরের আরেক বিশ্বকাপ—ভবিষ্যদ্বাণীর মহোৎসব। কেউ জটিল গাণিতিক সমীকরণ মেলান, কেউ প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্রের খাতা খোলেন, আবার কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা টাইম ট্রাভেলের কাল্পনিক গল্পে মেতে ওঠেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ যত সামনে এগিয়েছে, মাঠের বাইরের এই তথাকথিত ‘ভবিষ্যদ্বক্তাদের’ বেলুন ততই ফুটো হয়েছে। মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের চেয়ে এসব ভবিষ্যদ্বাণীর নাটকীয় ব্যর্থতা এখন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় বিনোদনের খোরাক।
ফুটবল যে কেবল মাঠের খেলা নয়, বরং এতে অর্থনীতির জটিল সমীকরণও খাটানো যায়—তা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন জার্মান অর্থনীতিবিদ ইয়োয়াখিম ক্লেমেন্ট। দেশের জিডিপি, জনসংখ্যা ও জলবায়ুর মতো সূচক বিশ্লেষণ করে তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রাজিল নকআউটে জাপানের কাছে হেরে বিদায় নেবে এবং ফাইনালে লড়বে নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগাল। কিন্তু মাঠের বল গড়াতেই ব্রাজিলের কাছে জাপানের হার এবং নকআউটের প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের বিদায় এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দেয়। এমনকি প্রযুক্তির দুনিয়ায় বহুল আলোচিত ‘অপ্টা সুপার কম্পিউটার’ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সফল হলেও, সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচের একটিরও সঠিক সমীকরণ মেলাতে পারেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ঝড় তুলেছিল বিশ্ববিখ্যাত অ্যানিমেশন সিরিজ ‘দ্য সিম্পসনস’-এর একটি দৃশ্য, যেখানে মেক্সিকো ও পর্তুগাল ফাইনাল খেলবে বলে দাবি করা হয়। বাস্তবে দুটি দলই টুর্নামেন্টের অনেক আগেভাগে ছিটকে যাওয়ায় এটি স্রেফ ইন্টারনেট গুজব হিসেবে প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে, এক জ্যোতিষীর দাবি ছিল—ব্রাজিল বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচ চলাকালীন এলিয়েনরা মাঠে নেমে খেলোয়াড়দের অপহরণ করবে! অবাস্তব এই দাবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দেয়, কারণ ম্যাচটি কোনো বাধা ছাড়াই শেষ হয়।
ব্যর্থতার এই তালিকায় যোগ হয়েছেন আফ্রিকার তান্ত্রিকরাও। ঘানার বিখ্যাত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বোনসাম বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, কেপ ভার্দের কাছে হেরে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা বিদায় নেবে। অথচ মাঠের বাস্তব চিত্রে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দেকে অনায়াসে হারিয়ে বুধবার রাতে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাস্ত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
আগামীকাল মধ্যরাতে ফুটবল বিশ্ব এক ব্লকবাস্টার ফাইনালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যেখানে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং লামিন ইয়ামালদের তরুণ স্প্যানিশ দল। এই ফাইনালকে ঘিরে অপ্টা সুপার কম্পিউটার স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক রহস্যময় ‘টাইম ট্রাভেলার’ দাবি করেছেন, আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলের ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। এই ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে কি না, তা জানা যাবে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর। তবে মাঠের বাইরের এই ব্যর্থ ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আরো একবার প্রমাণ করল—ফুটবলের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর চরম অনিশ্চয়তার মাঝেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

