ফুটবল প্রশাসনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বচ্ছতা, সংস্কার আর পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। ২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের দুর্নীতিকবলিত অধ্যায়ের পর তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন নতুন এক ফিফা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। প্রায় এক দশক পর এসে সেই ইনফান্তিনোই এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশাসকদের একজন। বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ থেকে ক্লাব বিশ্বকাপের রূপান্তর, রেফারিং বিতর্ক থেকে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ; একের পর এক বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না তার। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদার বিক্রির পরিকল্পনা।
সম্প্রতি ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এই প্রতিষ্ঠান। এর সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিফার দাবি, এই অর্থ সদস্য দেশগুলোর উন্নয়নে ব্যয় হবে। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে করপোরেট বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া কি আদৌ সঠিক পথ?
এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের হাতে থাকলেও ইনফান্তিনোর আগের আমলনামার বৃত্ত চক্রাকারে সমানভাবে বিতর্কে পরিপূর্ণ। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই অবশ্য ইনফান্তিনো সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের মান, ভিএআর ব্যবহার, টিকিটের উচ্চমূল্য এবং বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। এর আগে ক্লাব বিশ্বকাপকে ৩২ দলে সম্প্রসারণ, বিশ্বকাপকে ৪৮ দলে উন্নীত করা এবং ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা; এসব সিদ্ধান্তও ইনফান্তিনোকে সমালোচনার মুখে ফেলেছিল। এবার নতুন পরিকল্পনা নিয়েও বিতর্কের ফাঁদে পা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল-এর প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ফিফা।
তাতে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—ফুটবল কি কেবল আরেকটি ব্যবসায়িক পণ্য, নাকি কোটি মানুষের আবেগের নাম? ইনফান্তিনো বলছেন, এটি বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। কিন্তু সমালোচকদের চোখে, এটি ফুটবলের আত্মাকেই বাজারে তোলার প্রথম বড় পদক্ষেপ। ফলে সেপ ব্লাটারের পর যে মানুষটি ফিফাকে নতুন পথে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনিই আজ পরিণত হয়েছেন সবচেয়ে বড় বিতর্কে! বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হওয়া এই ঝড় শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে নিয়ে কোথায় নিয়ে স্থির হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

