ঝুঁকি নেবেন না হাসিনা

ঝুঁকি নেবেন না হাসিনা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটা মজার ঘটনা শুনে আমার মনে হয়েছে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানারা আসলে তিন বোন। তৃতীয় বোনটি (নামটি ধরুন শেখ অনামিকা) তার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যার জন্য যমুনা নদীর একটি ব্রিজের উপর গিয়েছিল! ব্রিজ থেকে প্রেমিকটি তাদের শপথমতো ঝাঁপ দিলেও পাশে থাকা শেখ অনামিকা সটকে পড়েন। জয় অনামিকা জয়!

ইতিহাস বলে, শেখের খানদান সবসময় এ রকম প্রেমাস্পদ ভক্ত-সমর্থকদের পানিতে নামিয়ে আলগোছে শটকে পড়েছে! ১৯৭১ সালে শেখ মুজিব ‘যার হাতে যা আছে তাই নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর’ ডাক দিয়ে নিজে সুটকেস এবং সিগারেটের পাইপ হাতে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেন! একই প্যাটার্নে ২০২৪ সালে জাতিকে আশ্বস্ত করলেন যে শেখের বেটি পালায় না। অথচ এই আশ্বাস দেওয়ার দুদিনের মাথায় ঠিক নিজের ছোট বোনকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা তার সর্বশেষ দাবিমতো ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে যখন গোপালগঞ্জে(?) যাওয়ার জন্য উড়োজাহাজে চড়ে বসলেন, তখন নাবালিকা দুই বোন টের পাননি যে তাদের ইন্ডিয়া নেওয়া হচ্ছে! অর্থাৎ ‘ভাইল’ মেরে এই নাবালিকাদ্বয়কে ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে! অথচ তার কয়েক দিন আগে থেকেই তার জ্ঞাতিগোষ্ঠী ধরে ধরে সবাইকে পার করলেন! আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা আটকা পড়লেও তার এই জ্ঞাতিগোষ্ঠীর একটা চামচিকাও ধরা পড়েনি! নিজের দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কী নিদারুণ ভালোবাসা!

সেই ভালোবাসার কারণেই তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে দেশে ফিরতে চান!

অনেকেই জানতে চান—আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা কি ডিসেম্বরের মধ্যে আসলেই ফিরতে পারবেন?

সম্ভাবনার বাস্তব মূল্যায়ন

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জনটি এমন কিসিমে সামনে আনা হচ্ছে, তা দেখে অনেকেই সন্দেহ করছেন যে শেখ হাসিনা বোধহয় অনেক আগেই পগারপার হয়েছেন।

জিন জাতি কর্তৃক মসজিদের কাজ সমাপ্ত করতে যেমন হজরত সুলাইমান (আ.)-কে একটা লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। তেমনি আওয়ামী ভূতগুলোকে শেষবারের মতো কাজে লাগাতে শেখ হাসিনাকে এআই প্রযুক্তি দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে বলে অনেকে যুক্তি দিতে চাচ্ছেন। এরপর দেশে ঢুকতে গিয়ে কোনো এক অ্যানকাউন্টারে মারা গেছেন—অন্ধ ভক্তদের মধ্যে আগের ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য এমন একটা ইমেজ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

একশ্রেণির হাসিনাপ্রেমিকরা স্বপ্ন দেখছেন শেখ হাসিনা নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও দেশে ফিরবেন। শেখ হাসিনার একটি লিখিত সাক্ষাৎকার, তার নিজের কিছু অডিও বক্তব্য এবং বিদেশে নির্বাসিত কিছু নেতাকর্মী-বুদ্ধিজীবী এই প্রচারণাটি ছড়াচ্ছেন। আর দেশের ভেতরে প্রচারণার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপিতে গুপ্ত কিছু আওয়ামী নেতা।

এসব প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন গিরগিটি প্রজাতির এক রাজনীতিবিদ! তিনি আবার পঞ্চাশের দশকে ইরানের শাহের ফিরে আসার উদাহরণ টেনে নিশ্চিত হয়ে পড়েছেন—ডিসেম্বরের আগে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বরের মধ্যেই ঢুকে পড়বেন!

গিরগিটি এই জ্ঞানপাপী ভাবছেন না সেই একই কাজ—অর্থাৎ রেজা শাহের ছেলেকে ইরানের মসনদে বসাতে এখন কেন আমেরিকা এবং তার মিত্ররা পারছে না? গত ৪৭ বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে এখনো কেন সফল হতে পারছে না? পারছে না?

কারণ পঞ্চাশের দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ২০২৬ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নেই! দীর্ঘদিন রাজতন্ত্রের জাঁতাকলে পিষ্ট ইরানের মোসাদ্দেক সরকারকে রক্ষার জন্য জনপ্রতিরোধ সেভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। ইরানি জনগণ তাদের বর্তমান শাসক শ্রেণির কাজকর্মে শতভাগ সন্তুষ্ট নয়; কিন্তু কয়েকটি মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্র উপহার দেওয়ার নিমিত্তে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের বেদনাদায়ক প্রক্রিয়াগুলো বিবেচনায় রেখেছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকারি দল এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটা বিরোধিতা স্পষ্ট হলেও শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগ ইস্যুতে সবাই একাট্টা হয়ে পড়ে! আর ‘একটা পড়ে গেলে পাশেরটা দাঁড়িয়ে পড়ে’—এই প্রজন্মও শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে!

তাত্ত্বিকভাবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কয়েকটি পথ কল্পনা করা যায়। তবে প্রতিটি পথের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা ভিন্ন।

চলুন, একটা একটা করে যাচাই করি।

প্রথম সম্ভাবনা : নতুন একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন

যদি দেশে এমন একটি বৃহৎ গণআন্দোলন সৃষ্টি হয়, যার ফলে বর্তমান সরকার ক্ষমতা হারায়, তাহলে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ হতে পারে।

কিন্তু একটি গণঅভ্যুত্থান কখনো পরিকল্পনা করে ঘটানো যায় না। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনঅসন্তোষ, শক্তিশালী সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেখান থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দেশের অধিকাংশ মানুষ অধীর আগ্রহে প্রহর গুনতে থাকে। কিন্তু এখন যারা এই প্রহরটি গুনছে, তারা দেশ থেকে বিলিয়ন ডলার লুট করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে রাজার হালে বিদেশের মাটিতে সময় পার করছে! যে সম্পদ লুট করেছে, সেগুলো উপভোগ করাই এখন এদের জীবনের একমাত্র ব্রত হয়ে পড়েছে। তবে নিজেদের লুটপাটের সেই রাজত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে মিলিয়ন ডলার খরচ করতে পারবে; কিন্তু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এরা কখনোই দেশের মাটিতে পা রাখবে না। দেশে যাওয়ার জন্য এদের পারস্পরিক চুক্তি বা শপথটি লেখার শুরুতেই শেখ অনামিকার শপথের মতো! সবাই মনে করবে বাকিরা যাবে, তার নিজের যাওয়ার দরকার নেই!

বর্তমান বাস্তবতায় এমন পরিস্থিতি ডিসেম্বরের আগেই সৃষ্টি হবে—তা একমাত্র উন্মাদরাই কল্পনা করতে পারে।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা : সরকার এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে গিট্টু বাজিয়ে সরকারকে ফেলে দেওয়া

সুশীল সমাজের সব আওয়ামী সিমপেথাইজাররা বিশেষ একটি মতলব থেকে এখন বিএনপি সিমপেথাইজার হয়ে পড়েছেন! দেশের কথিত সুশীল সমাজ এবং বিএনপির মধ্যকার বাম ঘরানার মধ্যে এমন একটা সুপ্ত ভাবনা কাজ করলেও সেটি খুব বেশি এগোতে পারবে না। কারণ পরিস্থিতি এখনো এমন খারাপ হয়নি যে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার তিক্ততা আগেকার আওয়ামী বনাম নন-আওয়ামী তিক্ততাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে!

বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে একদল ক্ষমতায় থাকলে অন্য দলকে নিঃশেষ করে দেবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোনোভাবে ফিরতে পারলে দুটো দলের তৃণমূল এবং টপ নেতৃত্বকে নিঃশেষ করে ফেলবে—তা উভয় দলটিই বিশ্বাস করে!

আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোরূপ কৌশলগত ঐক্যের পরিণাম কী হবে, তা জামায়াতের চেয়ে আর কেউ ভালো করে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে না! ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যক্তিগত সখ্য কিংবা আত্মীয়তার অনেক উদাহরণ থাকলেও দলীয়ভাবে পারস্পরিক আস্থা স্থাপনের নমুনা দল দুটির মধ্যে নেই! তাছাড়া জিয়া পরিবারের প্রতি শেখ হাসিনার ক্ষোভ এখনো একটুও কমেনি বলে সাম্প্রতিক প্রকাশিত অডিও বার্তায় দেখা যাচ্ছে! এসব অডিও বার্তা শুনে মনে হয় শেখ হাসিনা এখনো মরেননি! ইসলামের ইতিহাসে হিন্দা যেমন করে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এক চাচার কলিজা ছিঁড়ে খেয়েছিলেন, জিয়া পরিবারের প্রতি শেখ হাসিনার ক্ষোভের মাত্রা অনেকটা তেমনই!

একটা কথা প্রচলিত রয়েছে যে, বাচ্চাদের ডায়াপার এবং দেশের সরকার পরিবর্তন না করলে গন্ধ ছড়ায়! অতীতের সেসব তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে দল হিসেবে বিএনপি মেয়াদ শেষে ক্ষমতা ছাড়াকেই বেশি নিরাপদ জ্ঞান করবে। তাছাড়া বর্তমান তারেক রহমান সরকার যদি দেশের অর্থনীতিকে একটু চাঙা রাখতে পারে এবং ন্যূনতম আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পারে, তবে জনগণ তাদেরই আরো এক বা দুই টার্ম ক্ষমতায় রাখতে পারে। কাজেই বিএনপি এই সহজ রাস্তা ছেড়ে বাঁকা রাস্তায় যাবে বলে মনে হয় না!

অন্যদিকে জামায়াত জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কৌশলগত ঐক্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী অসম্ভব ঠেকছে। কারণ জামায়াতের জন্য অদূর ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—এ রকম হঠকারী সিদ্ধান্তে দলটির সেই সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটবে।

১৯৯৪/১৯৯৬ সালে এদেশের রাজনীতি বিশেষ করে জামায়াত-লীগের সম্পর্কের সমীকরণ যতটুকু সরল ছিল—এখন আর সেই জায়গায় নেই। কারণ জামায়াতের প্রথম সারির প্রায় সব নেতাকে লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে! যদিও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে জামায়াত মূল রাজনৈতিক কিংবা সামরিক শক্তি ছিল না! জামায়াত তো বটেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই বিচারকে প্রহসন কিংবা জুডিশিয়াল মার্ডার হিসেবে গণ্য করে! কাজেই দলটি এসব ভুলে আর কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারবে না!

বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী দুধ যতটুকু সম্ভব খেতে চেষ্টা করবে কিন্তু কেউ পুরো আওয়ামী গাভিটি কেনার সাহস করবে না!

২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে যে ছেলেরা তাড়িয়েছে, তাদের বয়স ছিল বিশ থেকে পঁচিশ। এখন থেকে বিশ বছর পরও তাদের বয়স হবে চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ। কাজেই আগামী বিশ কিংবা ত্রিশ বছর পরেও এই অবস্থা সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।

সব ইবলিশের গুরু আওয়ামী লীগ চুপ করে বসে থাকবে—এমন কখনোই হবে না! হবিগঞ্জে মঙ্গলবার সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর যে হামলা হয়েছে, তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত! অন্যদিকে আওয়ামী এসব ‘ওয়াসওয়াসা’ শুধু বিএনপির ওপরই পড়বে—জামায়াত কিংবা এনসিপির ওপর পড়বে না—এই চিন্তাও খুব একটা নিরাপদ হবে না।

তৃতীয় সম্ভাবনা : বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ

আরেকটি আলোচিত ধারণা হলো, ভারত সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় বসাতে পারে।

তাত্ত্বিকভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের নজির রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ ধরনের পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক আইন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

১৯৭১ সালের আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন শতাব্দীর সেরা সুযোগ (Opportunity of the Century) । এখন ইন্ডিয়া কর্তৃক বাংলাদেশ আক্রান্ত হলে তা পাকিস্তানের জন্য শতাব্দীর সেরা সুযোগটি বয়ে আনতে পারে। তখন কাশ্মীরের স্বাধীনতা যুদ্ধ বেগবান হবে এবং চায়নার সহায়তায় সেভেন সিস্টারও হাতছাড়া হয়ে পড়তে পার। কাজেই এক দাসীর জন্য দিল্লি এত ঝুঁকি নেবে না!

এ কারণে, এমন একটি পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত বলেই অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন।

চতুর্থ সম্ভাবনা : আদালতে আত্মসমর্পণ ও আইনি লড়াই

সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া। যদি তিনি দেশে ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন, তাহলে তার আইনজীবীরা জামিন, মামলার শুনানি এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেন।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহল যদি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার বা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা বা চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক চাপ কোনো দেশের আদালতকে নির্দিষ্ট রায় দিতে বাধ্য করে না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করে।

জাতিসংঘের হিসাব মতেই ১৪০০ গণহত্যার অভিযোগ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে! এ রকম আরো অনেক সুস্পষ্ট, অডিও-ভিডিও প্রমাণসহ যাকে বলে ওয়েল-ডকুমেন্টেড অভিযোগ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পৃথিবীর স্বচ্ছতম বিচার প্রক্রিয়ায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে, তা কেউ আটকে রাখতে পারবে না! এ রকম আইনের খড়গ মাথায় নিয়ে এবং সব পরিণাম জেনেও আইনের হাতে নিজেকে সমর্পণ করবেন—আর কেউ না, তাও আবার শেখের বেটি!

এই শেখ খান্দানের কখনো ঝুঁকি নেওয়ার রেকর্ড নেই! ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পুরোদিন তাজউদ্দীন আহমদ শেখ সাহেবকে গোপন আস্তানায় চলে যাওয়ার জন্য রাজি করাতে পারেননি! বরং গ্রেপ্তার বরণ করার আগে পরিবারের জন্য ১৫০০ টাকা (অন্য মতে মাসিক ৩০০০ টাকা) সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করে যান!

আর সেই বন্দোবস্তের আন্ডারে যে শেখ হাসিনা তুমুল যুদ্ধের সময় সিএমএইচে হাজার ওয়াটের বাতির সামনে পুত্র সজীবকে প্রসব করেছেন—সেই হাসিনা কোন দুঃখে তাকে নিয়ে তারেক রহমানের মতলব টেস্ট করতে যাবেন?

লেখক : কলামিস্ট

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন