ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এবার ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের’ অভিযোগ

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এবার ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের’ অভিযোগ

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও পদত্যাগের দাবির মধ্যেই এবার তার বিরুদ্ধে উঠেছে ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের’ অভিযোগ। তবে ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকা এক নারীকে ছয় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল উয়েফা। ওই নারী তখন উয়েফায় ইনফান্তিনোর জুনিয়র সহকর্মী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আকর্ষণীয় পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইনফান্তিনোর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সময় ইনফান্তিনো বিবাহিত ছিলেন এবং তার চার সন্তান রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ফিফা সভাপতির এক মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো এসব দাবি ‘দৃঢ়ভাবে অস্বীকার’ করছেন। তার ভাষ্য, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য এবং ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণ কিংবা কোনো বিধি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেওয়াও মানহানিকর। উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মীও কখনো তার আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে উয়েফা নিশ্চিত করেছে, ওই নারীকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংস্থাটির ব্যাখ্যা, সেই অর্থের একটি অংশ স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্সের ফি পরিশোধে ব্যবহৃত হয়েছিল। উয়েফার দাবি, সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী অর্থ প্রদান বৈধ ছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্য এ ধরনের অর্থ প্রদানের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।

ইনফান্তিনোকে ঘিরে এই নতুন অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ফিফা সভাপতির পদ নিয়েই বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও ফুটবল সংস্থা ক্ষুব্ধ। যদিও বিতর্কিত প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে এবং ইনফান্তিনো নিজের ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন, তবু কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ফিফার বিভিন্ন আয়োজন বয়কটের হুমকি এখনও প্রত্যাহার করেনি।

বুধবার মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমর্থন পাওয়ার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেওয়া ইনফান্তিনো ২০০৯ সালে সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন।

তবে ইউরোপে সমালোচনা বাড়লেও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল ও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন কাফ ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো এবং রানার্সআপ আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ফলে একদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন অভিযোগ, অন্যদিকে বিশ্বকাপের আয়োজন ও ফিফার নীতিনির্ধারণ নিয়ে তীব্র বিরোধ মিলিয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন নজিরবিহীন চাপের মুখে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন